নিউইয়র্কের মাঝেই আলাদা এক জগত: হাসিদিক ইহুদিদের ৪৮ ঘণ্টার জীবনে রুহি চেনেত যা দেখলেন
মুসলিম সংবাদ: আমেরিাার নিউইয়র্ক শহর মানেই আধুনিকতা, প্রযুক্তি আর ব্যস্ত নগরজীবন। কিন্তু এই শহরেরই কিছু এলাকায় ঢুকলে মনে হতে পারে, আপনি যেন কয়েকশ বছর আগের অন্য এক পৃথিবীতে চলে এসেছেন। কালো পোশাক পরা পুরুষ, ঐতিহ্যবাহী টুপি, কানের পাশে লম্বা চুল, ইয়িদ্দিশ ভাষায় কথাবার্তা, কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন এবং বিশাল পরিবার।
এমনকি তাদের নিজস্ব পুলিশ বাহিনী, এম্বুলেন্স সার্ভিস, ইন্টারনেট বিহীন বিশেষ ডিজাইনের মোবাইল ও কম্পিউটার। যাতে শুধু কথা বলা ও নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা যায়। এভাবেই জীবনযাপন করেন নিউইয়র্কের হাসিদিক ইহুদি সম্প্রদায়।
হাসিদিক ইহুদি কারা?
হাসিদিক ইহুদিবাদ ১৮ শতকের পূর্ব ইউরোপে গড়ে ওঠা একটি ধর্মীয় আন্দোলন, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন গোষ্ঠী বা Hasidic dynasty-তে বিভক্ত হয়েছে। নিউইয়র্কে তাদের উল্লেখযোগ্য বসতি রয়েছে Brooklyn-এর Williamsburg, Borough Park এবং আশপাশের এলাকায়।
ডকুমেন্টারিতে দেখা যায়, এসব এলাকায় ইয়িদ্দিশ ভাষার ব্যবহার এতটাই ব্যাপক যে বাইরে থেকে আসা কারও কাছে এটি নিউইয়র্কের প্রচলিত ইংরেজিভাষী পরিবেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মনে হতে পারে। পুরুষদের পোশাকেও রয়েছে ঐতিহ্যের স্পষ্ট ছাপ। কালো কোট, টুপি এবং কানের দুই পাশে লম্বা চুল বা payot তাদের পরিচয়ের অন্যতম দৃশ্যমান অংশ।

নারীদের ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর পোশাক ও শালীনতার বিধান। ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, এই সম্প্রদায়ের নারীরা চুল কামিয়ে বা ছোট রেখে তা উইগ, স্কার্ফ কিংবা অন্য আবরণে ঢেকে রাখেন। বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের চুল ঢেকে রাখা ধর্মীয় শালীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঠিক যেভাবে ইসলামে নারীদের চুল ঢেকে রাখার বিধান রয়েছে।
Muslim Sangbad ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন
আধুনিক নিউইয়র্ক, কিন্তু জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ আলাদা
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো – আকাশচুম্বী ভবন আর প্রযুক্তির শহর নিউইয়র্কের মাঝেও তারা নিজেদের জীবন এতটা আলাদা রাখে কীভাবে? এর উত্তর পাওয়া যায় তাদের ধর্মীয় দর্শনে। হাসিদিক সমাজে ধর্ম কেবল উপাসনার বিষয় নয়। খাবার, পোশাক, শিক্ষা, পরিবার, বিবাহ, ভাষা, বিনোদন – জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্মীয় বিধান প্রভাব ফেলে।
ডকুমেন্টারিতে এমন সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, যারা ইন্টারনেট, টেলিভিশন কিংবা স্মার্টফোনকে নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। কেউ কেউ প্রযুক্তিকে এতটাই সন্দেহের চোখে দেখেন যে সেটিকে “শয়তানের আবিষ্কার” বলেও বর্ণনা করেন।
সকাল থেকে রাত – ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর
ডকুমেন্টারির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষা। অনেক হাসিদিক ছেলের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশজুড়ে থাকে Torah, Talmud এবং অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের অধ্যয়ন। ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়, কিছু তরুণের কাছে প্রচলিত ক্যারিয়ার বা আধুনিক পেশাগত সাফল্যের চেয়ে ধর্মীয় জীবন ও ঈশ্বরের ওপর নির্ভরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এখানেই হাসিদিক শিক্ষা নিয়ে বড় একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু হাসিদিক ছেলেদের স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষার তুলনায় গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি ও অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে সম্প্রদায়ের সমর্থকদের যুক্তি হলো, তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

অর্থাৎ প্রশ্নটি শুধু শিক্ষার নয় – একটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব মূল্যবোধ ধরে রাখার অধিকার বনাম শিশুদের বিস্তৃত শিক্ষার অধিকার – এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়েও।
নিজেদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও বিচারব্যবস্থা
হাসিদিক সমাজের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলোর একটি হলো তাদের শক্তিশালী সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ডকুমেন্টারিতে Shomrim বা Shmira নামে স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে। চুরি, হামলা, নিখোঁজ ব্যক্তি কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।
আবার Hatzalah নামে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবী জরুরি চিকিৎসা সেবা। অনেক জায়গায় স্থানীয় সদস্যরাই প্রশিক্ষিত হয়ে জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া ধর্মীয় ও পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে Beit Din বা ধর্মীয় আদালতের মাধ্যমে বিষয় নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
এর অর্থ এই নয় যে তারা মার্কিন আইনের বাইরে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পরিচালনা করে। বরং নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের ভেতরে তারা একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী অবকাঠামো তৈরি করেছে।
শাব্বাত পালনে Eruv – এর ভূমিকা
হাসিদিক জীবন বোঝার জন্য Shabbat বোঝাও জরুরি। ইহুদি ধর্মে শুক্রবার সূর্যাস্ত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত Shabbat পালিত হয়। এই সময়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা নিষিদ্ধ। এখানে আসে Eruv-এর বিষয়টি।
Eruv হলো একটি প্রতীকী সীমানা, যা নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়মের অধীনে এমন একটি এলাকা তৈরি করে যেখানে শাব্বাতের সময় কিছু জিনিস বহনের অনুমতি পাওয়া যায়।
ডকুমেন্টারিতে নিউইয়র্কের আধুনিক শহুরে পরিবেশের মধ্যেই কীভাবে এমন ধর্মীয় কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায়। অর্থাৎ রাস্তা, ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি—আধুনিক শহরের অবকাঠামোকেও নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কেন পরিবারে এত সন্তান?
ডকুমেন্টারির সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো বড় পরিবার। ভিডিওতে এমন পরিবার দেখানো হয়েছে যেখানে সন্তানের সংখ্যা অনেক বেশি। একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, সন্তান নেওয়াকে তারা ধর্মীয় দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন।
ফলবান হও এবং সংখ্যায় বাড়ো – এই ধর্মীয় ধারণা বড় পরিবার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ডকুমেন্টারিতে এমন বক্তব্যও এসেছে যে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে বিরতি বা পরিবার পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
একজন সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি তিনি সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে বিরতি না দিতেন, তাহলে তাঁর সন্তানের সংখ্যা ১৫ পর্যন্ত হতে পারত। অর্থাৎ এখানে সন্তান নেওয়া শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও নির্দিষ্ট নিয়ম
ডকুমেন্টারিতে হাসিদিক দাম্পত্য জীবনের এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে যা বাইরের দর্শকদের কাছে খুবই অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। ইহুদি ধর্মীয় আইনে Niddah নামে একটি বিধান রয়েছে। মাসিক ও পরবর্তী পবিত্রতার সময় স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নিষিদ্ধ থাকে।
ডকুমেন্টারিতে ব্যাখ্যা করা হয়, এই সময় শুধু যৌন সম্পর্ক নয়, অনেক ক্ষেত্রে একে অপরকে সরাসরি স্পর্শ করাও নিষিদ্ধ। এমনকি হাতে হাতে কোনো বস্তু দেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ থাকতে পারে।
পরবর্তীতে নারী Mikveh নামের ধর্মীয় আচারস্নান সম্পন্ন করলে দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতা পুনরায় শুরু করা যায়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো – এটি কোনো হাসিদিক “অদ্ভুত নিয়ম” মাত্র নয়; বরং Orthodox Judaism-এর বৃহত্তর family purity laws-এর অংশ।
নারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ – নাকি ধর্মীয় শালীনতা?
এখানেই হাসিদিক সমাজ নিয়ে বিতর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। সম্প্রদায়ের ভেতরের মানুষদের কাছে পোশাক, চুল ঢেকে রাখা কিংবা পুরুষ-নারীর মেলামেশার বিধিনিষেধ ধর্মীয় শালীনতার অংশ। কিন্তু সাবেক সদস্য ও সমালোচকদের একটি অংশ এগুলোকে নারীর ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হিসেবে দেখেন।
গাজার পক্ষে জাপানের টোকিওর রাস্তায় হাজার দিনের বেশি প্রতিবাদ করছেন- ইউসুকে ফুরুসাওয়া
ডকুমেন্টারিতে নারীদের শালীনতা পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক নিয়ম প্রয়োগের বিভিন্ন দিকও উঠে এসেছে। ফলে একই নিয়মকে একজন ব্যক্তি ধর্মীয় আনুগত্য হিসেবে দেখতে পারেন, আবার অন্য কেউ সেটিকে ব্যক্তিস্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা হিসেবেও দেখতে পারেন। এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গিই বিষয়টিকে বিতর্কিত করে তুলেছে।
সম্প্রদায়ের ভেতরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা
হাসিদিক সমাজের একটি বড় শক্তি হলো পারস্পরিক সহযোগিতা। ডকুমেন্টারিতে এমন একটি অনুষ্ঠানের কথাও দেখানো হয়েছে যেখানে পরিবারগুলোকে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ওঠে।
এ ধরনের ঘটনা দেখায়, বড় পরিবার শুধু ব্যক্তিগত পরিবারের দায়িত্ব নয়; সম্প্রদায়ের মধ্যেও এর জন্য একটি সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে অনেক পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাও পেতে পারে।
ডকুমেন্টারিতে ১০ সন্তানের একটি পরিবারের জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ বিভিন্ন সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি সরাসরি একক কোনো “হাতে পাওয়া ভাতা” হিসেবে বোঝা ঠিক নয়; খাদ্য, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা যোগ করে এমন হিসাব হতে পারে এবং পরিবারের আয় ও পরিস্থিতির ওপর তা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।
যারা এই জীবন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন
হাসিদিক সমাজের আরেকটি দিক উঠে আসে সাবেক সদস্যদের অভিজ্ঞতায়। ডকুমেন্টারিতে Beatrice নামে এক নারীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তিনি একসময় একজন রাব্বির স্ত্রী ছিলেন এবং ১০ সন্তানের মা।
তিনি সম্প্রদায় ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জীবন ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত এবং সম্প্রদায় ছাড়ার সিদ্ধান্তের পর পারিবারিক ও সামাজিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বিশেষ করে সন্তানদের নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথাও তিনি বলেছেন। এ ধরনের সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো সম্প্রদায়ের ভেতরের এমন একটি দিক সামনে আনে যা সাধারণত বাইরের মানুষ দেখতে পান না।
তাহলে হাসিদিক সমাজকে কীভাবে দেখা উচিত?
রুহি চেনেতের ডকুমেন্টারি দেখার পর সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে – তারা আধুনিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। তারা একই সঙ্গে আধুনিক আমেরিকার নাগরিক এবং একটি অত্যন্ত ঐতিহ্যবাদী ধর্মীয় সমাজের সদস্য। তাদের নিজস্ব স্কুল আছে, ব্যবসা আছে, দাতব্য প্রতিষ্ঠান আছে, চিকিৎসা ও জরুরি সেবার ব্যবস্থা আছে, ধর্মীয় আদালত আছে এবং শক্তিশালী পারিবারিক নেটওয়ার্ক আছে।
তারা বাইরের সংস্কৃতির অনেক প্রভাব এড়িয়ে চলে, কিন্তু একই সঙ্গে নিউইয়র্কের অর্থনীতি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ তারা পুরোপুরি আলাদা কোনো পৃথিবী নয় – বরং একটি আধুনিক রাষ্ট্রের ভেতরে নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সীমারেখা শক্তভাবে ধরে রাখা একটি সমাজ।
জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে কেন?
হাসিদিক জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে বড় পরিবার ও উচ্চ জন্মহার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাদের জনসংখ্যার বয়স কাঠামোও তুলনামূলকভাবে তরুণ। ফলে এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্মে পরিবার সংখ্যা ও মোট জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে। এ কারণেই নিউইয়র্কের কিছু এলাকায় ভবিষ্যতে আবাসন, শিক্ষা, পরিবহন ও সরকারি সেবার ওপর তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
তবে প্রতি ২০ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ এটিকে সব হাসিদিক গোষ্ঠীর জন্য অপরিবর্তনীয় নিয়ম হিসেবে দেখার চেয়ে উচ্চ জন্মহার ও তরুণ জনসংখ্যার কাঠামোকে মূল কারণ হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।
ডকুমেন্টারিটি আসলে কী দেখাল?
রুহি চেনেতের ৪৮ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা হাসিদিক সমাজের একটি বিরল অভ্যন্তরীণ চিত্র সামনে এনেছে। এখানে যেমন রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারস্পরিক সহযোগিতা, তেমনি রয়েছে কঠোর সামাজিক নিয়ম। যেমন রয়েছে বড় পরিবার ও শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন, তেমনি রয়েছে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও শিশুদের শিক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক।
যেমন রয়েছে আধুনিক বিশ্বের প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা, তেমনি বাস্তব জীবনে রয়েছে সেই আধুনিক। রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা।
আর এ কারণেই হাসিদিক সমাজকে শুধু “বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় ইহুদি সম্প্রদায়” হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা পাওয়া যাবে না। বরং প্রশ্নটি আরও গভীর – আধুনিক বিশ্বের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কতটা নিজের বিশ্বাস ও জীবনধারা আলাদা করে রাখতে পারে, আর সেই স্বাধীনতার সঙ্গে ব্যক্তির অধিকার ও আধুনিক রাষ্ট্রের দায়িত্বের সীমারেখা কোথায়?
রুহি চেনেতের ডকুমেন্টারি সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেয় না। বরং ক্যামেরা নিয়ে দর্শককে এমন একটি সমাজের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়, যেখানে আধুনিক নিউইয়র্কের কয়েক মাইল দূরত্বের মধ্যেই ধর্ম, পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা গড়ে উঠেছে।
Source: Ruhi cenet YouTube Video




