বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে তারেক রহমানকে ট্রাম্পের ধন্যবাদ, ‘বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না’ – চিঠির নেপথ্যে কী

বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে তারেক রহমানকে ট্রাম্পের ধন্যবাদ

বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে তারেক রহমানকে ট্রাম্পের ধন্যবাদ, ‘বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না’ – চিঠির নেপথ্যে কী

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হোয়াইট হাউসের লেটারহেডে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, “Boeing will not let you down, and I will not forget” অর্থাৎ, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না এবং এ বিষয়ে তারেক রহমানের মনোযোগ তিনি ভুলবেন না। একই চিঠিতে বাংলাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। 

তবে এই চিঠিকে শুধু একটি উড়োজাহাজ কেনার সাধারণ ধন্যবাদপত্র হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক। বাংলাদেশের বিমান বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বোয়িং-এয়ারবাসের প্রতিযোগিতা।  সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসা আরও কয়েক বিলিয়ন ডলারের বোয়িং কেনার সম্ভাবনা।

ট্রাম্পের চিঠিতে কী বলা হয়েছে?

ব্যবহারকারীর দেওয়া চিঠির ছবিতে দেখা যায়, এটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ওয়াশিংটন থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো হয়েছে। চিঠির শুরুতেই ট্রাম্প জানান, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো চিঠি তিনি পেয়েছেন।

চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, তিনি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং বলেন, “Boeing will not let you down, and I will not forget.” এরপর তিনি এ বিষয়ে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মনোযোগের জন্যও ধন্যবাদ জানান। ট্রাম্প আরও বলেন, খুব দূর ভবিষ্যৎ নয় এমন সময়েই তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন। 

মুসলিম সংবাদ

চিঠির আরেকটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশে ট্রাম্প বাংলাদেশের জনগণের জন্য নিজের “warmest regards and love” পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অনেক কঠিন সময় পার করেছে; তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ ও জনগণের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। 

অর্থাৎ, চিঠিটিতে শুধু বোয়িং কেনার প্রশংসা নয়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়েও ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। বাংলাদেশ যেন আমেরিকার চিরচেনা বন্ধুরাষ্ট্র। 

আসলে কতটি বোয়িং কেনার কথা?

২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশি জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা Biman Bangladesh Airlines আনুষ্ঠানিকভাবে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। বোয়িংয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এই অর্ডারে রয়েছে ৮টি Boeing 787-10, ২টি Boeing 787-9 এবং ৪টি Boeing 737-8 MAX। এটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ অর্ডার। 

চুক্তিটির তালিকামূল্য প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরে এবং বাকি উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। 

এসসিও সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে পাকিস্তান-তুরস্কের জোরালো অবস্থান, মক্কা জোটের উল্লেখ কেন গুরুত্বপূর্ণ

তবে এরও আগে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য কমানোর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বোয়িং কেনার পরিকল্পনা ১৪টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি করা হয়েছে। 

কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিলের আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে বাস্তবে ১৪টি উড়োজাহাজই অন্তর্ভুক্ত হয়। তাই পুরোনো ২৫টি উড়োজাহাজের ঘোষণা এবং এপ্রিলের ১৪টি উড়োজাহাজের আনুষ্ঠানিক চুক্তি দুটিকে একই বিষয় হিসেবে দেখলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

তাহলে নতুন করে আরও বোয়িং কেনার কথা কেন আসছে?

৩০ আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে নতুন একটি “incredible Deal” হয়েছে।

গোরের দাবি, বাংলাদেশ আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার ফলে আগের অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে তিনি কতটি উড়োজাহাজ, কোন মডেল, মোট মূল্য কত কিংবা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে কি না এসব বিস্তারিত জানাননি। 

মুসলিম সংবাদ

সুতরাং ৩১ আগস্টের ট্রাম্পের চিঠি এবং ৩০ আগস্টের সার্জিও গোরের বক্তব্যকে পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায়, এপ্রিলের ১৪টি বিমানের চুক্তির বাইরে বাংলাদেশের আরও বড় বোয়িং ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা বা সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু নতুন অতিরিক্ত অর্ডারের নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি

১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কী বলেছে?

নতুন বোয়িং কেনার বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা এসেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে।

১ সেপ্টেম্বর তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো চাপের কারণে বাংলাদেশ অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কিনছে না। তার ভাষায়, বিমান খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কিনবে। কারণ দেশের বহর বড় না হলে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করা এবং বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা কঠিন। 

সসসসসস

তিনি আরও বলেন, বড় বহর তৈরি হলে নতুন রুট চালু করা, যাত্রীসেবা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে বিমান খাতের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ সরকারের ব্যাখ্যায়, অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার পেছনে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, বাংলাদেশের নিজস্ব বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। 

বোয়িং কেনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কের কী সম্পর্ক?

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই বড় একটি বিষয়। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানি ছিল প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানি ছিল প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার; ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ৭.১ বিলিয়ন ডলার। 

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে পৌঁছায়। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যবস্থায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ reciprocal tariff হার ১৯ শতাংশ রাখা হয় এবং বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্প ও কৃষিপণ্যকে বাজারে বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই ঘোষণায় উড়োজাহাজ কেনাকাটাসহ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বড় পরিমাণের পণ্য কেনার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। 

অর্থাৎ, বোয়িং কেনা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর বাণিজ্য সম্পর্কের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমান বাংলাদেশি সরকারের বক্তব্য হলো, অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত মূলত দেশের বিমান খাতের প্রয়োজনের ভিত্তিতে নেওয়া হবে। 

কেন বোয়িং, এয়ারবাস নয়?

বিমান কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একসময় ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের দিকেও এগিয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিলের ১৪টি উড়োজাহাজের চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ বোয়িংকে বেছে নেয়।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিমান বহর আধুনিকায়নের প্রয়োজনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আগের সরকারের সময়ে এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা অনুমোদিত হলেও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। পরে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়। 

তবে বোয়িং বেছে নেওয়ার একটি বাস্তব কারণও রয়েছে। বিমানের বর্তমান বহরে ইতোমধ্যে একাধিক বোয়িং মডেল রয়েছে। ফলে নতুন ৭৮৭ সিরিজ ও ৭৩৭ MAX যুক্ত হলে পাইলট প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ ও অপারেশনাল সক্ষমতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বোয়িংও জানিয়েছে, নতুন ৭৮৭ ও ৭৩৭ MAX উড়োজাহাজগুলো আগের প্রজন্মের উড়োজাহাজের তুলনায় জ্বালানি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য দক্ষতা দিতে পারে। 

১৪টি বিমানের মধ্যে কোনগুলো আসছে?

এপ্রিলের চুক্তিটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ শুধু বড় দূরপাল্লার উড়োজাহাজ কিনছে না; একই সঙ্গে আঞ্চলিক রুটের জন্যও বহর বাড়াচ্ছে।

ট্রাম্পের কঠোর হুমকি: ইরানের জর্ডান হামলার জবাবে ‘কঠিন আঘাত’ দেবে যুক্তরাষ্ট্র

৮টি Boeing 787-10 মূলত উচ্চ চাহিদার আন্তর্জাতিক রুটে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রুটে ব্যবহারের জন্য উপযোগী। ২টি Boeing 787-9 ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো দীর্ঘপাল্লার রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ৪টি Boeing 737-8 MAX মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো অপেক্ষাকৃত স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হচ্ছে। 

এতে বিমানের বহরের আকার বাড়ার পাশাপাশি পুরোনো উড়োজাহাজের জায়গায় আধুনিক ও তুলনামূলক জ্বালানি-সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ আনার সুযোগ তৈরি হবে।

আরেকটি বিষয়: ইউএস-বাংলার ২১টি বোয়িং

এখানে আরেকটি বিষয় আলাদা করে বোঝা জরুরি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ নিয়ে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি 737-8 এবং ৬টি 737-800 রয়েছে। 

এটি সরকারের বা বিমানের ১৪টি উড়োজাহাজের চুক্তির অংশ নয়। অর্থাৎ বর্তমানে বাংলাদেশের বিমান খাতে বোয়িং নিয়ে একাধিক আলাদা উদ্যোগ চলছে—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরকারি অর্ডার এবং ইউএস-বাংলার বেসরকারি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা।

তাহলে ট্রাম্পের চিঠির আসল গুরুত্ব কোথায়?

চিঠিটির গুরুত্ব শুধু “বোয়িং কিনেছে, তাই ট্রাম্প ধন্যবাদ দিয়েছেন” – এখানে সীমাবদ্ধ নয়।প্রথমত, এটি দেখাচ্ছে যে বিমান কেনার বিষয়টি এখন বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প সরাসরি তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত মনোযোগের প্রশংসা করেছেন। তৃতীয়ত, তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। 

Muslim Sangbad YouTube video দেখতে ক্লিক করুন

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিঠিটি এমন সময়ে এসেছে যখন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর বাংলাদেশকে আরও বিলিয়ন ডলারের বোয়িং কেনার নতুন সমঝোতার কথা জানিয়েছেন। যদিও নতুন অর্ডারের সঠিক সংখ্যা ও শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। 

সামনে কী হতে পারে?

এখন মূল প্রশ্ন হলো – বাংলাদেশ নতুন করে ঠিক কতটি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে, কোন মডেলগুলো নেওয়া হবে, মোট ব্যয় কত হবে এবং এর জন্য অর্থায়ন কীভাবে করা হবে।

এ মুহূর্তে এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ্যে নেই। তাই “বাংলাদেশ নতুন করে অমুক সংখ্যক বোয়িং কিনেছে” – এমন নিশ্চিত দাবি করার সময় এখনো আসেনি। প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এপ্রিলের ১৪টি উড়োজাহাজের চুক্তি হয়েছে এবং আগস্টের শেষ সপ্তাহে তার বাইরে আরও বড় বোয়িং ক্রয়ের বিষয়ে নতুন সমঝোতার কথা মার্কিন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার প্রয়োজন স্বীকার করেছে, তবে বলেছে সিদ্ধান্তটি দেশের বিমান খাতের চাহিদা অনুযায়ী হবে। 

ট্রাম্পের চিঠি বাংলাদেশের জন্য একটি কূটনৈতিক বার্তা, আবার বোয়িংয়ের জন্য একটি বড় বাণিজ্যিক অর্ডারের রাজনৈতিক গুরুত্বও তুলে ধরে। এপ্রিলের ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ১৪টি বিমানের চুক্তি ইতোমধ্যে বাস্তব চুক্তিতে পরিণত হয়েছে; আর আগস্টের নতুন ঘোষণাটি সেই ক্রয়কে আরও বড় করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে নতুন অর্ডারের সুনির্দিষ্ট আকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন না করাই তথ্যগতভাবে সঠিক হবে।


সূত্র : Daily Star, Boeing, Reuters

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।