ট্রাম্পের কঠোর হুমকি: ইরানের জর্ডান হামলার জবাবে ‘কঠিন আঘাত’ দেবে যুক্তরাষ্ট্র
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার জবাবে ইরানকে ‘কঠিন আঘাত’ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদক ট্রে ইয়িংস্টের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে আটকানো হয়নি, কারণ সেটি গুরুত্বপূর্ণ কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করবে না বলে ধারণা করা হয়েছিল।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি – কিং হুসেইন ও আল-আজরাক- লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো চালিয়েছে। তেহরান এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘আক্রমণকারীর শাস্তি’।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটিগুলোর প্রযুক্তিগত ও মেরামত অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
মুসলিম ঐক্যের আহ্বান মোজতাবা খামেনেইয়ের: ফিলিস্তিন, উপসাগরীয় নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ঘিরে ইরানের বার্তায় কী ইঙ্গিত?
অন্যদিকে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আটকানো হয়েছে। হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আম্মান।

কেন জর্ডানকে লক্ষ্য করে হামলা?
ইরানের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে রকেট লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করে।
তেহরান বলেছে, ওই মার্কিন হামলায় ইরানের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর পরই জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। অর্থাৎ, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক পাল্টাপাল্টি আঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের আরও একটি দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের হুমকি, আলোচনার ইঙ্গিতও
সামরিক জবাবের হুমকি দিলেও ট্রাম্প একই সঙ্গে বলেছেন, ইরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে তেহরানের ওপর তার আস্থা নেই। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকা অবস্থায় ইরানকে কোনো সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখছেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মুসলিম দেশগুলো একত্রিত হবার আহবান ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের : মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে কি বদলে যাবে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ?
এতে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন একদিকে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ করছে না। যাতে যেকোনো সময় আলোচনা করতে পারে।
ছয় মাসের সংঘাতের নতুন মোড়
বর্তমান উত্তেজনাটি কয়েক মাস ধরে চলা মার্কিন-ইরান সংঘাতের সর্বশেষ অধ্যায়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক হামলা, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করেছে।

জুলাইয়ে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে সামরিক তৎপরতা কিছুটা কমলেও অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত ছিল। এবার জর্ডানে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই আপেক্ষিক স্থিতাবস্থাকে আবারও নড়বড়ে করে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে?
নতুন করে মার্কিন-ইরান সামরিক সংঘাত শুরু হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। জর্ডান ইতোমধ্যেই এই সংঘাতের সরাসরি ভৌগোলিক পরিসরে চলে এসেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোও উচ্চ সতর্কতায় যেতে পারে।
Muslim Sangbad YouTube channel link ভিডিও দেখুন
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই জলপথকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ফলে সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এ মুহূর্তে মূল প্রশ্ন হলো – ওয়াশিংটন ট্রাম্পের ঘোষিত ‘কঠিন আঘাত’ বাস্তবে কতটা সামরিক পদক্ষেপে রূপ দেয় এবং তেহরান তার জবাবে কী করে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হলে তা উত্তেজনা কমাতে পারে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামরিক সিদ্ধান্ত এবং ইরানের প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করতে পারে, মধ্যপ্রাচ্য আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাতের দিকে এগোবে, নাকি নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
Source : Fox News




