কাশ্মীরে ইরানের পাশে মানবিক দানের জোয়ার, সোনা-টাকা-সম্পদ দিয়ে সহায়তায় সাধারণ মানুষ

কাশ্মীরে ইরানের পাশে মানবিক দানের জোয়ার, সোনা-টাকা-সম্পদ দিয়ে সহায়তায় সাধারণ মানুষ

কাশ্মীর ২৪ মার্চ:  ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় এক অনন্য মানবিক উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। স্থানীয় মানুষ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের জনগণের সহায়তায় ব্যাপক দান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এই দান অভিযানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন।

সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, তামার বাসনপত্র, এমনকি গবাদি পশুও দান করা হচ্ছে। যার যেমন সমর্থ সে, ঠিক সেভাবে দান করছে। বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ এই উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।

অনেক নারী তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের মূল্যবান গয়না পর্যন্ত দান করছেন। একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনায়, এক বৃদ্ধা বিধবা, তার স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ২৮ বছর ধরে সংরক্ষিত সোনার চুড়ি দান করে দিয়েছেন।

এই দান বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এটা আমার স্বামীর স্মৃতি, কিন্তু ইরানের মানুষের কষ্ট দেখে আর রাখতে পারলাম না।”

কাশ্মীরে ইরানের পাশে মানবিক দানের জোয়ার, সোনা-টাকা-সম্পদ দিয়ে সহায়তায় সাধারণ মানুষ

কাশ্মীরে ইরানের পাশে মানবিক দানের জোয়ার, সোনা-টাকা-সম্পদ দিয়ে সহায়তায় সাধারণ মানুষ

কাশ্মীরের বুডগাম ও বারামুল্লা জেলায় মসজিদভিত্তিক দান সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা দিচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দান সংগ্রহ করছেন, যা এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

এমনকি শিশুদের অংশগ্রহণও লক্ষণীয়। অনেক শিশু তাদের পিগি ব্যাঙ্ক ভেঙে সঞ্চিত অর্থ দান করছে, যা এই মানবিক উদ্যোগকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মানুষ তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ যেমন- সাইকেল বা মোটরবাইক পর্যন্ত দান করেছেন।

স্থানীয় সূত্র মতে, শিয়া ও সুন্নি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ এই দান কার্যক্রমে একসাথে অংশ নিয়েছেন, যা সাম্প্রদায়িক ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যদিও কিছু প্রতিবেদনে, সব মিলিয়ে দানের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি বলা হচ্ছে। কিন্তু এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

কাশ্মীরে ইরানের পাশে মানবিক দানের জোয়ার, সোনা-টাকা-সম্পদ দিয়ে সহায়তায় সাধারণ মানুষ

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এই উদ্যোগের প্রশংসা করে সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ভারতের মুসলমানদের পাশে তিনি আনন্দিত হয়েছেন।

তারা তাদের বার্তায় উল্লেখ করেছে, “কাশ্মীরের মানুষের এই মানবিকতা আমরা কখনো ভুলব না।” এই দান কার্যক্রম চলছে ইরান আমেরিকার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। এই যুদ্ধে ইরানের বেসামরিক নাগরিকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

ইরানের হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় তেল ট্যাঙ্কার: চীনা ইউয়ানে পেমেন্ট, পেট্রোডলারের উপর বড় ধাক্কা?

এই তহবিল চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ কার্যক্রম এবং অন্যান্য মানবিক কাজে ব্যবহৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে মানবিক দায়িত্ব পালনের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা নিজেরাও কষ্টে আছি, কিন্তু অন্যের কষ্টে পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।” আরেকজন নারী দাতা জানান,”যুদ্ধে যারা সব হারিয়েছে, তাদের জন্য এই ছোট সহায়তাও অনেক মূল্যবান।”

বিশ্বব্যাপী এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ‘হৃদয়ের সোনা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তবে কিছু মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, সংগৃহীত দান যথাযথভাবে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাবে কি না।

ভারতে গাজা যুদ্ধভিত্তিক অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র ‘দি ভয়েস অফ হিন্দ রাজাব’ আটকে দেওয়ায় বিতর্ক

এই বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, সব সহায়তা সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীরের এই উদ্যোগ শুধু দান নয়, বরং বৈশ্বিক সংহতি, মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

এভাবে যদি মুসলিম উম্মাহ ইরানের পাশে দাড়ায়, তাহলে ইরানের সাথে পারবেনা কোনো শক্তি। বিশ্লেষকদের দাবি, এভাবে বিশ্বের একপ্রান্তের মুসলমান ও অন্যপ্রান্তের মুসলমানদের দুঃখে কষ্ট পাওয়া। তাদের খারাপ সময়ে পাশে দাড়ানো মুসলিম ভাতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মুসলিম সংবাদ – ভিডিও দেখুন YouTube 

তাদের আহবান, এভাবে যদি সম্পুর্ণ মুসলিম উম্মাহ, প্রত্যেক দেশের মুসলিম যদি মুসলমানদের পাশে দাড়ায় তাহলে শত্রুরা পিছু পা হতে বাঁধ্য হবে। এভাবে সবাইকে একতা থাকতে হবে। 

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর


সোর্স : মাল্টিপল সোসিয়াল মিডিয়া ভিডিও ও ভারতের স্থানীয় মিডিয়া এজেন্সি।

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।