ধর্মীয় বিভাজন ও মেরুকরণের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন দল বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে – এমনই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। আল-জাজিরা পৃথিবীর সবচেয়ে স্বনামধন্য মিডিয়া হাউজের মধ্যে প্রথমে আসে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা ব্যানার্জি ১৫ বছরের রাজত্বে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে সরকার ভরিয়ে ফেলেছিলো। অভিযোগ রয়েছে, মমতা মুসলমানদের বেশি সুযোগসুবিধা দিয়ে তাদের ভোট নিজের দলে টানতেন।
সাথে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতো। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মমতা ব্যানার্জি এসব অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের থামাতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেননি।
দিদির এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি তাদের নির্বাচন প্রচারণা চালায়। বিজেপির প্রধান প্রধান সব নেতা পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি সহ অনেকেই
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান: ধর্মীয় মেরুকরণ ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আল-জাজিরার প্রতিবেদন

তারা প্রত্যেক জনসভায় ‘গুসভেটিয়া’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশ বিষয়টি সামনে এনেছেন। বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ থেকে আশা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
ভারতের আসামে উচ্ছেদ অভিযান: ঘরবাড়ি ভাঙায় তাবুতে হাজারো মুসলিম পরিবার, ভোটাধিকার নিয়েও শঙ্কা
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী প্রচারণা ছিলো হিন্দু মুসলিম বিভাজন। মমতা ব্যানার্জির যেহেতু মুসলমানদের সহায়তা করে আসছে, এজন্য বিজেপি হিন্দু ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে করার চেষ্টা করেন।
পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু গণমাধ্যমে স্পষ্ট বলেন,” মুসলমানরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে আর হিন্দুরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। এই নির্বাচনে জয়ী বিজেপি হয়নি বরং হিন্দুত্ববাদের জয় হয়েছে।”
যেহেতু বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে আর বিজেপি নেতা সরাসরি মুসলমানদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় বিজেপি ক্ষমতাধীন পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের কি অবস্থা হয়। নাকি নির্বাচন শেষে সবাই এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করে।
মুসলিম সংবাদ- মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর



