ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরার পরেই, চীন তাইওয়ান দখল করে নিতে পারে, এমনই ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প নিজেই। চীন সফর শেষে, দেশে ফিরে আমেরিকার বিখ্যাত নিউজ মিডিয়া চ্যানেল ফক্স নিউজ কে দেওয়া একনসাক্ষাৎকারে, তিনি এমন ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন,”সম্ভাবনাগুলো বিবেচনা করলে দেখা যায়, চীন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিশাল দেশ। ওপর দিকে তাইওয়ান একটি খুবই ছোট দ্বীপ।ভেবে দেখুন, তাইওয়ান চীন থেকে ৫৯ মাইল দূরে। আর আমেরিকা থেকে ৯,৫০০ মাইল দূরে। এই দুরত্ব সবচেয়ে কঠিন সমস্যা।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো বলেন,” ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখবেন, তাইওয়ানের উন্নয়ন হয়েছিল কারণ আমাদের এমন রাষ্ট্রপতিরা ছিলেন যারা জানতেনই না, যে তারা কী করছে। তারা আমাদের চিপ শিল্প চুরি করে নিয়েছিল।”

অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে দুনিয়া যে তাইওয়ানের চিপের ওপর নির্ভরশীল তা যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের প্রেসিডেন্টদের ভুল। তারা যদি এই চিপ শিল্প তাইওয়ানে না নিয়ে, আমেরিকায় নিতো তাহলে আজ পশ্চিমাদের এমন অসুবিধায় পড়তে হতো না।
দাড়ি ও ইসলামী অবস্থানের কারণে ফুটবল ছাড়লেন তুরস্কের জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আয়কুত দেমির
ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের দায়ী করছেন। তার মতে এসব সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা জানতোও না তারা কি করছে। তারা অপরিকল্পিত ভাবে তাইওয়ানে উন্নয়ন করেছিলো।
কেন তাইয়ান এত গুরুত্বপূর্ণ? কেন তাইওয়ান নিয়ে চীন আমেরিকা স্নায়ু যুদ্ধ করছে? আসলে তাইওয়ান
বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিশেষ করে তারা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিপ তৈরি করে থাকে।
ট্রাম্পের বড় ইঙ্গিত: তিনি ক্ষমতা ছাড়লেই কি তাইওয়ান দখল করবে চীন? চিপ যুদ্ধ, এনভিডিয়া ও বিশ্ব রাজনীতির ভয়ংকর সমীকরণ
এগুলো স্মার্টফোন, কম্পিউটার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গাড়ি, সামরিক প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি গুলো তাইওয়ানের চিপের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এ কারণে তাইওয়ানকে অনেক সময় “বিশ্বের চিপ রাজধানী” বলা হয়।

এদিকে ঐতিহ্য ভাবে তাইওয়ান চীনের অংশ ও চীনের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই অবস্থিত। তাইওয়ান চীন থেকে মাত্র ৫৯ কিমি দুরে আর এই ৫৯ কিমি হলো চীন সাগর। অর্থাৎ তাইওয়ান চীন সাগরের একটি ছোট দ্বীপ। আরো চীন সাগর আছে চীনের নিয়ন্ত্রণে।
পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রশংসায় ট্রাম্প, হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত নিয়ে নতুন আলোচনা
এজন্য চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে একীভূত করার কথা বলে আসছে। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে।
তাইওয়ান দখল করতে পারলে, চীন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিপ উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব অর্জন করতে পারবে। আর তারা যদি এতে সফল হয় তাহলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, AI ও সামরিক শক্তির প্রতিযোগিতায় বড় সুবিধা দিতে পাবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
এজন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি চীন সফর করেছেন। এজন্য ডোনাল্ড নিজের সাথে আমেরিকার সবচেয়ে
বড় চিপ কোম্পানি NVIDIA এর সিও কে সাথে নিয়ে যায়। অবশ্য চীন সফরে আরো অনেক কারণ ছিলো। কিন্তু তাইওয়ান ও ইরান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো।
ট্রাম্পের চীন সফরের পর- তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট বলেন,” চীন একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ আর তাইওয়ান একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এজন্য চীন কোনো ভাবেই আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। আমরা কোনোদিনই আমাদের দেশ চীনের অংশ হতে দিবো না।”
Watch Video Muslim Sangbad On YouTube
এত বছর চীনের হাত থেকে তাইওয়ান কে রক্ষা করছিল পশ্চিমারা। কিন্তু সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের পর চীন তাইওয়ান সম্পর্কে যে নরম সুর দিচ্ছে তা দেখে মনে হচ্ছে, চীন অতিশিগ্রও তাইওয়ান দখল করে নিতে পারে।
তাইওয়ান বর্তমান বিশ্বে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের পরপরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন চীন সফরে যাবেন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী তিনটি দেশের আলোচনা, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ২ টি দেশের প্রেসিডেন্টের চীন সফর, এগুলো প্রমাণ করে চীন বর্তমানে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।



