পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রশংসায় ট্রাম্প, হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত নিয়ে নতুন আলোচনা
পাকিস্তানের ফিল্ডমার্শাল ও প্রধানমন্ত্রীর প্রসংশায় মঞ্চমুখ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রজেক্ট ফ্রিডম কেন স্থগিত করা হলো সে সম্পর্কে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করে সাংবাদিকরা। প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন কারণ পাকিস্তানের অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য তারা প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করেছেন।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এপ্রিল ২০২৬-এ শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
এর ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০% চলাচল করে, তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে কী?
ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমেরিকার বন্ধু দেশগুলোকে চলাচল করতে দিবেনা। এজন্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, এ দেশগুলোর আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পার করার ব্যবস্থা করবেন।
এজন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজগুলো বের করে আনার জন্য প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরু করেন।
এই প্রজেক্ট ফ্রিডম আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক অভিযান। এতে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার, বিমান ও আনম্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়। শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি মার্কিন-ফ্ল্যাগযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী পার হয়।
কিন্তু পরে ইরানি নৌবাহিনী কয়েকটি ড্রোন ও মিসাইল হামলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। মার্কিন বাহিনী কয়েকটি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে বলেও জানা যায়। কিন্তু বর্তমানে এই প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযান বন্ধ করেছে ট্রাম্প।

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার চাপ, মস্কো থেকে কঠোর বার্তা পুতিনের
এই অভিযান বন্ধ করার পর ট্রাম্প সাংবাদিকরা নানা প্রশ্নে জর্জরিত করেন। সাংবাদিকরা বলেন, হঠাৎ কেন প্রজেক্ট ফ্রিডম বন্ধ করা হলো। প্রশ্নের উত্তরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এর পেছনের প্রধান কারণ পাকিস্তান।
তিনি পাকিস্তানের ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনির ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহাবাজ শরিফের প্রসংশা করেন। তিনি বলেন, “আসিম মুনির ও শাহবাজ শরিফ অসাধারণ নেতৃত্বের অধিকারী।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সাথে তিনি বলেন, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও কূটনীতির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কথাও উল্লেখ করেন। পাকিস্তানে এটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্থানে অনেকে ট্রাম্পের প্রশংসা করছেন।
এদিকে ভারত এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বলে সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, পাকিস্থানের সাথে আমেরিকার এমন সম্পর্ক আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির অবক্ষয় বলে অভিযোগ করেছেন। আবার কেউ বলছেন, পাকিস্তান ইরানের হয়ে মধ্যস্থতা করছে। ইরানের প্রতিক্রিয়ানএখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে স্পষ্ট নয়, তবে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি অব্যাহত রয়েছে।




