কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গুলি, সাক্ষীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
বাংলা সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানালো কক্সবাজার আদালত পাড়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনা। হত্যা মামলার এক সাক্ষীকে প্রকাশ্যে গুলি ও মারধর করে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে গেল প্রতিপক্ষের লোকজন। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
এতে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহিউদ্দিন ও রনি। ঘটনার একাধিক ভিডিও সোসিয়াল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার তার সহযোগীদের নিয়ে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যান। হাজিরা শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
জানা গেছে, ঘটনায় উভয় পক্ষ বিএনপির লোকজন ছিলো। আদালত প্রাঙ্গনে রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিদের গুলাগুলি করায় উপস্থিত জনগণ চরম আতঙ্কিত হয়। অনেকে সাহসের সাথে ঘটনার ভিডিও করতে থাকে।
একটি ভিডিও তে দেখা যায়, একজন সাক্ষী কে কয়েকজন মারধর করে ও একপর্যায়ে তার ওপর গুলি করেন। তারপর সবাই মিলে থাকে ধাক্কা ও টেনে হিজড়ে একটি গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি গাড়িতে উঠতে না চাইলে তাকে জোর করে গাড়িতে তোলা হয়।
গাড়িতে তোলার সময় ওই ব্যক্তি সাহায্যের জন্য আহাজারি করতে থাকে কিন্তু তাদের কাছে পিস্তল থাকার কারণে কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসিনি। আদালতে সাথে ঘটনাটি ঘটলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকা দেখা যায়নি।
এ ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আদালত প্রাঙ্গনে যদি সাক্ষীকে গুলি করে তুলে নিয়ে যেতে পারে তাহলে স্বাভাবিক অবস্থায় তারা কি না করতে পারে। এমন নেক্কারজনক ঘটনার জন্য আইনের উপর থেকে জনগণের বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, এ ঘটনা গুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার প্রমাণ দেয়। সরকার যদি এমন ঘটনা বন্ধে কার্যকর ভুমিকা না নেয় তাহলে অবস্থা আরও সঙ্কটাপন্ন হতে পারে।
ঘটনার পরে অপহরণকৃত ব্যক্তির সাথে কি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। এখনো পুলিশের কাছ থেকে অফিশিয়াল মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।



