যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানন-কে নিয়ে উপহাস করেছেন। ট্রাম্প মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্দেশ্য অশালীন ভাষায় মন্তব্য করেন যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ট্রাম্প বলেন, “তিনি ভাবেননি যে তাঁকে আমার পশ্চাৎদেশ চুম্বন করতে হবে, সত্যিই ভাবেননি… এখন তাঁকে আমার প্রতি ভালো ব্যবহার করতে হবে, তাঁকে ভালো হতে হবে।” এই কথাগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি তার প্রথম মেয়াদের সময়কার সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের সৌদি সফরের সময়, দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে খাশোগি হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য ঘটনায় সম্পর্কে ফাটল ধরে।
বর্তমানে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও এই সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এমবিএস ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ, অব্যাহত রাখার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কে নিয়ে উপহাস করলেন ডোনাল্ট ট্রাম্প! হচ্ছে সমালোচনা

ট্রাম্প নিজে এমবিএসকে ‘যোদ্ধা’ বলে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের অশালীন মন্তব্যটি আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। মুসলিম বিশ্বের অনেকে এই মন্তব্যকে মুসলিম নেতাদের অপমান হিসেবে দেখছেন।
পোস্টের রিপ্লাইতে একজন লিখেছেন, “আল্লাহ তাদের অপমান করেন যারা বিশুদ্ধ মানহাজ অনুসরণ না করে অমুসলিমদের সঙ্গে জোট বাঁধে।”অনেকে এমবিএসের ২০১৭ সালের রিটজ-কার্লটন ঘটনা স্মরণ করাচ্ছেন।তারা বলছেন যে, তিনি আগেও অপমানিত হয়েছেন কিন্তু তার লজ্জা হলোনা।
এছাড়া কিছু ব্যবহারকারী মনে করেন যে, ট্রাম্পের এই ধরনের কথা নেতানিয়াহুর দিকেও প্রযোজ্য হতে পারে। তারা বলছেন, ট্রাম্পের উচিত ইসরায়েলি নেতাদের প্রতি একই সমালোচনা করা।
মক্কায় কিসওয়া কাটার চেষ্টায় নারী আটক, ভিডিও ঘিরে সমালোচনা
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বর্তমানে জটিল পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, তেলের দাম, নিরাপত্তা চুক্তি এবং আঞ্চলিক প্রভাব – সবকিছু মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে নির্ভরশীলতা রয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য এই সম্পর্ককে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।
যদিও সরকারিভাবে সৌদি আরব এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই ঘটনা মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বের স্বাধীনতা ও বিদেশি শক্তির সামনে অবমাননা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যের প্রতিফলন। অনেকে আশা করছেন যে, সৌদি আরব এই মন্তব্যের জবাব দেবে এবং মুসলিম নেতারা তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করবেন।
আফগান অনুষ্ঠানে ‘গ্রেটার আফগানিস্তান’ মানচিত্র উন্মোচন, ডুরান্ড লাইন ঘিরে নতুন উত্তেজনা
এদিকে, ট্রাম্পের সমর্থকরা এটিকে তার সরাসরি ও বলিষ্ঠ ভাষার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে মুসলিম বিশ্বের নেতারা মাথানুয়ায়।
এদিকে মুসলিম উম্মাহ বলছে, ” এভাবে আর কতকাল মুসলিম দেশগুলোর শাসকরা, পশ্চিমা শক্তির কাছে মাথা নিচু করবে। তাদের ক্ষমতার লোভ ত্যাগ সাধারণ মুসলমানদের পাশে দাড়ানো উচিত।
আমাদের ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন
আজ দুনিয়ায়, একজন মুসলিম নেতাও নেয়, যে কিনা পশ্চিমাদের বিপক্ষে কথা বলার সাহস রাখে। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালি দেশ ইরান ও সৌদি আরব। কিন্তু ইরান পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে দাড়ালেও সৌদি আরব তরছে গোলামি।
এখন এমন সময় চলে এসেছে, যখন মুসলিম শাসকদের সরাসরি উপহাস করা হচ্ছে। কিন্তু সেই দেশের জনগণ,না কিছু বলছে, না কিছু বলছে সেই শাসক। ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে গেছে।
মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
Source: Doam



