ভারতের ঝাড়খণ্ডে তোগাড়িয়ার বক্তব্য: মুসলিমদের বহিষ্কার আহ্বানে তীব্র সমালোচনা

ভারতের ঝাড়খণ্ডে তোগাড়িয়ার বক্তব্য: মুসলিমদের বহিষ্কার আহ্বানে তীব্র সমালোচনা

ভারতের ঝাড়খণ্ডে তোগাড়িয়ার বক্তব্য: মুসলিমদের বহিষ্কার আহ্বানে তীব্র সমালোচনা

ভারত: ঝাড়খণ্ডের ডুমরিতে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সম্মেলন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে তোগাড়িয়া নামে একজন হিন্দুনেতা ঘৃণামূলক বিভিন্ন মন্তব্য করেন। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই সম্মেলনে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সমর্থকরা অংশ নেন। সভায় বক্তৃতার সময়, তোগাড়িয়া নিজেকে হিন্দু স্বার্থরক্ষার পক্ষে অবস্থানকারী হিসেবে তুলে ধরেন। সাথে তিনি কিছু  কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।

বক্তৃতায় তিনি “বাংলাদেশি” বলে উল্লেখ করা কিছু মানুষের বহিষ্কারের দাবি জানান।

তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে সমালোচকরা বলছেন, এমন মন্তব্য সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিভাজনকে উসকে দিতে পারে।

এছাড়াও, তিনি ধর্মীয় রূপান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ধর্ম পরিবর্তন বন্ধ করতে হবে। ধর্ম পরিবর্তন বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে তোগাড়িয়ার বক্তব্য: মুসলিমদের বহিষ্কার আহ্বানে তীব্র সমালোচনা

ইদানীং ভারতে, হিন্দু পরিবার থেকে মুসলিম হবার হিড়িক পড়েছে। বিশেষ করে অনেক যুবক, তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন। সাথে লাভ জিহাদের মত প্রোপাগান্ডা। যার মাধ্যমে নাকি হিন্দু থেকে মুসলিমে পরিবর্তন করা হয়। এজন্য তিনি এ ধর্ম পরিবর্তন থামাতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

সম্মেলনে তিনি “৩ বাচ্চে হিন্দু সাচ্চে” স্লোগানও প্রচার করেন, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রচারণা হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের স্লোগান অতীতেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হয়েছে।

তিনি আরও আহ্বান জানান, হিন্দুদের উচিত শুধুমাত্র হিন্দুদের কাছ থেকে পণ্য কেনা এবং হিন্দুদেরই চাকরি দেওয়া। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এই ধরনের বিভাজনমূলক অবস্থান সমাজে বৈষম্য বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে তোগাড়িয়া দাবি করেন, ভবিষ্যতে হিন্দুরাই “জিতবে এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

কাশ্মীরে ইরানের পাশে মানবিক দানের জোয়ার, সোনা-টাকা-সম্পদ দিয়ে সহায়তায় সাধারণ মানুষ

এছাড়াও, তিনি বিভিন্ন স্থানে হনুমান চালিসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন। ধর্মীয় অনুশীলন বাড়ানোর মাধ্যমে, সামাজিক সংগঠন শক্তিশালী করার বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দেন।

এই বক্তব্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে উসকানিমূলক ও বিভাজন সৃষ্টিকারী বলে মন্তব্য করেছেন।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সহনশীলতা ও সহাবস্থানের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেন, ধর্ম ও পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে।

ইরানের হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় তেল ট্যাঙ্কার: চীনা ইউয়ানে পেমেন্ট, পেট্রোডলারের উপর বড় ধাক্কা?

অন্যদিকে, সমর্থকরা দাবি করছেন, এটি তাদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার অংশ এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এমন বক্তব্য প্রয়োজনীয়। তবে এই বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু এই বক্তব্য নয়, ভারতে কিছু উগ্র হিন্দু গোষ্ঠী প্রায় এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের দাবি, তারা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করবে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে এমন সভার আয়োজন করা হচ্ছে। 

Watch Video Muslim Sangbad YouTube Channel

আবার অনেকের দাবি, এটা নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় রাখার অপচেষ্টা হতে পারে। তারা হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ক পাবার আশায়, হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে।

সামগ্রিকভাবে, ডুমরির এই সম্মেলন এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্য নতুন করে ধর্মীয় ও সামাজিক সহাবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট মহল, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর


Sources: Indian Media agencies & Muslim Sangbad Special Correspondent

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।