“কেন ঘোষণা করা যাবে না হিন্দু রাষ্ট্র?” -বিজেপি নেতার বক্তব্যে ভারতে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তাপ

"কেন ঘোষণা করা যাবে না হিন্দু রাষ্ট্র?" -বিজেপি নেতার বক্তব্যে ভারতে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তাপ

ভারত: নাগপুরে অনুষ্ঠিত ভিরাট হিন্দু সম্মেলনে বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়ের বক্তব্য নতুন বিতর্ক সৃষ্ট করেছে। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। যা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উপাধ্যায় ‘ঘুসপৈঠিয়া’ শব্দ ব্যবহার করে দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, কিছু মানুষ জাল জন্মসনদ তৈরি করে ভারতে প্রবেশ করছে এবং নাগরিকত্ব পাচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি দেখাননি।

বক্তৃতায় ‘লাভ জিহাদ’,ল্যান্ড জিহাদ’ ও ধর্মান্তরণের মতো বিতর্কিত শব্দ বারবার এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শব্দ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় এবং বিভ্রান্তি তৈরি করে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও বাড়ে।

উপাধ্যায় বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা দেশের সম্পদ দখল করছে এবং সমাজে ভারসাম্য নষ্ট করছে। তিনি ‘ইন্ডিয়ান নেমিং কোড’ চালুর আহ্বান জানান। মুসলিম শাসকদের নামে থাকা স্থান ও রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন।

“কেন ঘোষণা করা যাবে না হিন্দু রাষ্ট্র?” -বিজেপি নেতার বক্তব্যে ভারতে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তাপ

"কেন ঘোষণা করা যাবে না হিন্দু রাষ্ট্র?" -বিজেপি নেতার বক্তব্যে ভারতে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তাপ

সমালোচকরা এটিকে ইতিহাস মুছে ফেলার প্রচেষ্টা বলছেন। তিনি ধর্মীয় স্থানগুলোতে জরিপের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করেন। কাশী ও মথুরার ধর্মীয় বিরোধের সঙ্গে এটি সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

উপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “যদি জরুরি অবস্থায় দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষণা করা যায়, তাহলে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা যাবে না কেন?” অনেকেই এটিকে সংবিধানের চ্যালেঞ্জ মনে করছেন।

তিনি মাদ্রাসা ও খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। বলেন, এগুলো ধর্মান্তরণ ও চরমপন্থা ছড়াচ্ছে। শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীরা এই মন্তব্যকে মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

উপাধ্যায় ‘জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, বড় অংশ জমি ওয়াকফ বোর্ড ও খ্রিস্টান মিশনারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তবে এই দাবিও বিতর্কিত এবং আদালতে বিচারাধীন।

"কেন ঘোষণা করা যাবে না হিন্দু রাষ্ট্র?"

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছেন, ভারতে মুসলিমদের লক্ষ্য করে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সমালোচকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধরনের বক্তব্য ব্যবহার হয়।

অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো উপাধ্যায়ের বক্তব্যকে ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টা’ হিসেবে সমর্থন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বক্তৃতার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সমর্থক ও সমালোচকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Watch Video On Muslim Sangbad

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ধর্ম, রাজনীতি ও পরিচয়ের প্রশ্ন ক্রমেই সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

তিনি মুলত ভারতে হিন্দু মুসলিম খেলা করছে। ভারতের ইতিহাসে অনেক পুরোনো খেলা। যে খেলা শুরু করেছিল ব্রিটিসরা। এখানে মুলত হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হয়।

যেখানে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে – সাধারণ মুসলমানদের। এসব রাজনৈতিক ব্যক্তি, যিনি কেনা, দেশের জনগণের উন্নয়নের কথা বলা উচিত। তিনি তা না বলে সম্মেলনে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। 

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর


Source: Muslim sangbad Special Correspondent

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।