গাজা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, বয়কটের মুখে ভারতীয় বংশভূত ব্রিটিস ব্যবসায়ী হারমান সিং কাপুর | Muslim Sangbad
গাজায় নাকি সমস্ত ঘরবাড়ি মাটিতে গুড়িয়ে ফেলা হয়েছে? তাহলে এটা কি? আমি তো দেখছি এখনো একটি বাড়ি দাড়িয়ে আছে। এটা এখনো কিভাবে দাড়িয়ে আছে? আমার প্রশ্ন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাদের ডিপেন্স ফোর্সের কাছে।
এমনই মন্তব্য করে ভাইরাল হয়েছে ভারতীয় বংশভূত যুক্তরাজ্যের হোটেল ব্যবসায়ী হারমান সিংস কাপুর। ঘটনা ভাইরাল হবার পর তার হোটেল ব্যবসা হুমকির মুখে, হতে চলেছেন দেউলিয়া। ঘটনা আসলে কি? কেন তিনি এমন উপহাস করলেন? এর পেছনে কারণ কি? সবকিছু জানবো আজকের প্রতিবেদনে।
২৯ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হারমান সিংস কাপুর গাজার একটি ভবন দেখিয়ে প্রশ্ন করেন, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পরও এই ভবনটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলতে চাইছেন, সবাই বলছে গাজার সকল ভবন মাটিতে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাহলে এই ভবনটি কিভাবে দাড়িয়ে আছে।?
তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও ইজরায়েলের ডিফেন্স ফোর্সের কাছে দাবি জানান, এই ভবন কেন এখনো দাড়িয়ে আছে। ভবনটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হোক৷ ভিডিওতে যে ভবনটির কথা কাপুর বলছে সেটা, আল-কাদিসিয়া গার্লস স্কুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ভবনটির ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ফিলিস্তিনপন্থী বহু ব্রিটিস তীব্র সমালোচনা করেন। সমালোচকদের মতে, গাজার ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের প্রতি অসংবেদনশীল ও হেয়পুর্ণ যা একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ করতে পারেনা।

ভিডিও ভাইরাল হবার পর, স্থানীয় ব্রিটিসরা কাপুরের হোটেল টি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। অনলাইলে ১ ও জিরো রেটিং দিতে থাকে। এমনকি সাইবার হামলার কথাও উল্লেখ করেছেন কাপুর। জিরো রেটিং এর ফলে রেস্টুরেন্টে গ্রাহকের সংখ্যা তুলনামূলক হারে কমতে থাকে।
অবস্থা বেগুতিক দেখে অবশেষে, ১২ অক্টোবর কাপুর নিজের রেস্টুরেন্ট ‘সিংস ডাইনিং’-এর জন্য সহায়তা চান। তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, আমার রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে যে জিরো রেটিং আসছে তার সবকিছু ভুয়া। তিনি বলেন, আমার রেস্টুরেন্টের খাবার অনেক ভালো কিন্তু কিছু মানুষ বাদী হয়ে আমার পেছনে লেগেছে। একই সঙ্গে তার রেস্টুরেন্টের বকেয়া ভাড়া ও বাড়িওয়ালার আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
এত কিছু হবার পরেও তিনি একবারও দুঃখ প্রকাশ করেননি এখনো পর্যন্ত। অর্থাৎ তার মতে তিনি যা বলেছিলেন তা সবকিছু সঠিক। এজন্য তিনি অনুতপ্ত নয়।
১৩ অক্টোবর তিনি আরও দাবি করেন, সাইবার হামলার কারণে রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইটে সমস্যা হয়েছে এবং অনলাইন বুকিং ব্যাহত হচ্ছে।
Muslim Sangbad ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন
১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাপুরের রেস্টুরেন্ট বন্ধ হওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। তিনি গ্রাহকদের বুকিং ও সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে ব্যবসাটিকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।
এটি অবশ্য কাপুরের প্রথম ব্যবসায়িক সংকট নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ১৬ বছর ধরে পরিচালিত ‘রাংরেজ’ রেস্টুরেন্ট বন্ধ করেন। সে সময় তিনি হয়রানি, হুমকি এবং ভুয়া পর্যালোচনার অভিযোগ তুলেছিলেন। তার দাবি ছিল, হালাল মাংস পরিবেশন না করার কারণে অনেকের বিরোধের কারণ হয়েছিলেন তিনি। যারফলে রেস্টুরেন্টে বন্ধ করতে হয়েছিলো। এত সব ঘটার পরেও তিনি সুদরাননি আবারও একই ভুল করলেন।
হারমান সিং কাপুরের ঘটনা দেখাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য কীভাবে একটি ব্যবসার সুনাম ও গ্রাহকদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য অনেকে তাকে, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে উপহাস না করতে অনুরোধ করেছেন।
মুসলিম সংবাদ – মুসলিমের কথা বলে।




