নবী-রাসূলদের প্রসঙ্গ টেনে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে কী বললেন টম ব্যারাক?
মধ্যপ্রাচ্যে আল্লাহর পাঠানো এত নবী-রাসূলের আগমন ঘটেছে তারপরও কেন এই অঞ্চলে সংঘাতের অবসান হয়নি? এমনই প্রশ্ন তুললেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাষ্ট্রদূত।
তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নবী-রাসূলদের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিলো ঠিক এমন , মধ্যপ্রাচ্যে অতীতে এত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের আগমন সত্ত্বেও যখন এখানকার সমস্যার সমাধান হয়নি, তখন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা সমাধানের আশা করাও বাস্তবসম্মত নয়।
কিন্তু নবী-রাসূলদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন? তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নবীদের সংখ্যা নিয়ে কী বললেন ব্যারাক?
গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যারাক দাবি করেন, এই অঞ্চলে ৫৫ জন খ্রিস্টান নবী, ১০০-র বেশি ইসলামি নবী এবং ৫০ জন ইহুদি নবীর আগমন ঘটেছিলো। এরপরও এই অঞ্চলের সংকটের সমাধান হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যের মূল কথা – যে অঞ্চলের সংঘাতের ইতিহাস এত দীর্ঘ, সেখানে কয়েক বছরের মধ্যে স্থায়ী সমাধান আসবে, এমনটা ধরে নেওয়া কঠিন। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ব্যারাকের উল্লেখ করা সংখ্যাগুলোকে ধর্মীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত বা সর্বজনস্বীকৃত হিসাব হিসেবে ধরা যায় না। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ বহু নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন; তাঁদের সঠিক মোট সংখ্যা সম্পর্কে কোরআনে নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া হয়নি।
নবী-রাসূলদের আগমন সত্ত্বেও কেন সংঘাত?
এখানেই প্রশ্ন ওঠে, নবী-রাসূলরা তো মানুষকে সত্য, ন্যায়বিচার, শান্তি ও সৎপথের শিক্ষা দিয়েছেন। তাহলে তাঁদের আগমনের পরও কেন মানুষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত রয়ে গেল? এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে, নবী-রাসূলদের দায়িত্ব ছিল আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সৎপথের দিশা দেখানো এবং অন্যায় থেকে সতর্ক করা। কিন্তু মানুষ সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে কি না, তা নির্ভর করেছে মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও আচরণের ওপর। কারণ আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের ইচ্ছে শক্তি দিয়েছেন।
ধর্মীয় ইতিহাসেও দেখা যায়, নবীদের শিক্ষা দেওয়ার পরও অনেকে তাঁদের বিরোধিতা করেছে। অর্থাৎ, সত্যের বার্তা পৌঁছানো আর প্রত্যেক মানুষের সেই বার্তা মেনে নেওয়া এক বিষয় নয়।

তবে ব্যারাকের বক্তব্য থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবেনা যে, নবী-রাসূলরা তাঁদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় ইতিহাসকে ব্যবহার করা হয়েছে বর্তমান সংকটের দীর্ঘস্থায়িত্ব বোঝাতে।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের সংকট
আজকের মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পেছনে রয়েছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, ভূখণ্ডের বিরোধ, নিরাপত্তার প্রশ্ন, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাস। এসব সমস্যার সমাধানে শুধু ধর্মীয় আহ্বান নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ন্যায়বিচার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কার্যকর উদ্যোগ।
ব্যারাকের বক্তব্যের মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে একটি কঠিন বাস্তবতা – দীর্ঘদিনের সংঘাতের সমাধান শুধু কয়েক বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত।
নবী-রাসূলদের আগমন, তাঁদের শিক্ষা এবং মানুষের সেই শিক্ষা অনুসরণ না করার প্রশ্ন – ধর্মীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের সমাধান নির্ভর করছে আজকের মানুষের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের ওপর।
টম ব্যারাকের এই মন্তব্য সেই দীর্ঘ ইতিহাসের প্রসঙ্গই নতুন করে সামনে এনেছে। এছাড়াও ইসলামিক বিভিন্ন সম্রাজ্য পতনের পর নানা মতাভেদ তৈরি। সাথে ব্রিটিসদের মুসলিম দেশগুলো নিজেদের মত করে ভাগ করা – এ-সব কিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।




