পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি! ১০০টিরও বেশি বসতি সম্প্রসারণের ঘোষণা, কী পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর?

পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি!

পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি! ১০০টিরও বেশি বসতি সম্প্রসারণের ঘোষণা, কী পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর?

গাজার পর এবার ফিলিস্তিনের বড় ভূখন্ড পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। ২৩ অক্টোবর হেবরনের কাছে এক বন্দুক হামলা হয়। তারপরেই ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে এবং পুরো পশ্চিম তীর বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তুতির নিচ্ছে।

পশ্চিম তীরে একদিকে ১০০টিরও বেশি নতুন বসতি ও খামার সম্প্রসারণের ঘোষণা, অন্যদিকে বড় আকারের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি – সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় ইসরায়েলের পরিকল্পনা।

তাহলে কি কি ফিলিস্তিনের বাকি অংশ পশ্চিম তীর গাজার মত মাটিতে মিশিয়ে দিতে চলেছে। বলে রাখা ভালো, গাজার থেকে আকারে অনেক বড় ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর। ফিলিস্তিন মানে বর্তমান এই পশ্চিম তীরই অবশিষ্ট আছে। আর এখানেই মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র তম স্থানের মধ্যে একটি আল আকসা মসজিদ অবস্থিত।

যদি গাজার মত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরও সম্পুর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখে ইজরায়েল সেনারা তাহলে কি হবে? বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সঙ্গে এই পরিস্থিতির সম্পর্ক কী? আর এর প্রভাব ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যতের ওপর কতটা পড়তে পারে?

পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি!
নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহুর সামরিক সতর্কতা – কী ঘটেছে?

BRICS News-এর পোস্টে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে বড় আকারের সামরিক অভিযানের জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রেখেছেন নেতানিয়াহু। ২৩ অক্টোবর হেবরনের কাছে একটি সামরিক চেকপয়েন্টে বন্দুক হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

অভিযোগ আছে, এতদিন এখানে ইজরায়েল সেনাবাহিনীর রাজত্ব ছিলো। গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী এখানে ইজরায়েল সেনাবাহিনী অনেক ফিলিস্তিনের গুলি করেছে। কিন্তু ২৩ অক্টোবরে হয় তার বিপরীত। আর এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এখন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযানে ঘোষণা দিয়েছে ইজরায়েল।

নবী-রাসূলদের প্রসঙ্গ টেনে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে কী বললেন টম ব্যারাক?

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু হেবরন সম্পুর্ণ অবরুদ্ধ করা এবং পুরো পশ্চিম তীর বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হামলার পর অভিযান ও গ্রেপ্তার জোরদারের কথাও জানিয়েছে। তবে উচ্চ সতর্কতা, ভূখণ্ড বন্ধের প্রস্তুতি এবং পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়া- তিনটি আলাদা বিষয়।

হেবরনের হামলা – কেন বাড়ল সামরিক তৎপরতা?

২৩ অক্টোবর পশ্চিম তীরের হেবরনের কাছে একটি চেকপয়েন্টে বন্দুক হামলায় পাঁচজন ইসরায়েলি আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হামলাকারীরা আরও বড় আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল বলে সন্দেহ করা হয়।

ইসরায়েলি বাহিনী দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীকে হত্যা করেছে বলে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়। এই ঘটনার পর হেবরনে নিরাপত্তা জোরদার, সড়ক বন্ধ এবং আরও সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি!
palestine

১০০টিরও বেশি নতুন বসতি ও খামার – কী পরিকল্পনা ইসরায়েলের?

সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। নেতানিয়াহু বসতিবাসীদের যারা ফিলিস্তিনের ঘরবাড়ি জোর করে দখল করছে তাদের ‘বীর’ সম্বোধন করে প্রশংসা করেছেন। এই অবৈধ বসতিকারীরা ১০০টিরও বেশি নতুন বসতি ও খামার নির্মাণ এবং নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন।

২০২৬ সালের এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে, ইজরায়েল সরকার ১০৩টি বসতি অনুমোদন বা পূর্বে অননুমোদিত বসতিকে বৈধতা দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছিল। তবে অনুমোদিত বসতি, বাস্তবে নির্মিত বসতি এবং কৃষি খামার বা ছোট আউটপোস্টের সংখ্যা এক নয়।

পশ্চিম তীর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

পশ্চিম তীর ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা ভূখণ্ড এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই অঞ্চলে ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামের পাশাপাশি ইসরায়েলি বসতি রয়েছে।

নতুন বসতি, সড়ক এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্প্রসারিত হলে ফিলিস্তিনির জন্য সুবিধা হতে পারে। ইজরায়েলের আশংকা, এই বিকাশ অব্যহত থাকলে জনবসতিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, ভূমির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ সীমান্ত নির্ধারণ আরও জটিল হতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকার নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক দাবিকে বসতি নীতির অন্যতম যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে। ফলে পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর সাথে ফিলিস্তিনিদের ভূমির অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নও জড়িত।

আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ – এরপর কী?

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতি ও উপস্থিতির সমালোচনা করেন। নতুন সামরিক অভিযান বিস্তৃত হলে ফিলিস্তিনিদের চলাচল, নিরাপত্তা, জীবিকা এবং জনবসতিগুলোর ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

একই সঙ্গে নতুন বসতিগুলোর বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এখন পর্যন্ত বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে যে খবর এসেছে, তার ভিত্তিতে অভিযানটির পূর্ণ ব্যাপ্তি বা পরবর্তী পরিণতি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

মুসলিম সংবাদ মিডিয়া হাউসের ভিডিও দেখুন

যেহেতু সামনেই ইজরায়েলের জাতীয় নির্বাচন এসময় নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন নিয়ে কি কি করে তা দেখার বিষয়। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো পশ্চিম তীর অবরুদ্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা বিশ্ববাসী কিভাবে নেবে? সাথে তাদের এই অবরুদ্ধ কি গাজার মত হবে নাকি অন্য রকম? এই ঘোষণার পরে ফিলিস্তিনিদের জীবনে কি প্রভাব পড়বে তাও দেখার বিষয়।

এখন সময় বলবে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জনগণের ভাগ্যে কি রয়েছে। আসন্ন ইজরায়েল নির্বাচনে পাশ করার জন্য নেতানিয়াহু অনেক কিছু করার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো। এই বন্দুক হামলার ঘটনার পর কি তার পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়ন করা সুযোগ পেলো?

Muslim Sangbad – মুসলিমের কথা বলে।

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।