মক্কা: মক্কার কিসওয়া কাটার চেষ্টা করার অভিযোগে এক নারী তীর্থযাত্রীকে আটক করেছে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যামোফ্লেজ পোশাক পরিহিত নিরাপত্তা সদস্যরা এগিয়ে আসে। এসে ভিড়ের মধ্যে ওই নারীর কলার ধরে তাকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এই দৃশ্য অনেকে ভালোভাবে নেয়নি। তাদের কাছে এমন ঘটনা কঠোর ও অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে, দ্রুত পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। আবার কেউ একজন নারী তীর্থযাত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কিসওয়া হলো কাবা শরীফকে আবৃত করে রাখা বিশেষ কালো কাপড়। এতে সোনালি সুতো দিয়ে কুরআনের আয়াত খচিত থাকে। প্রতি বছর হজের আগে এটি পরিবর্তন করা হয়। পুরনো কিসওয়া সংরক্ষণ বা নির্দিষ্টভাবে বিতরণ করা হয়।
অনেক তীর্থযাত্রী কিসওয়ার ছোট অংশকে বরকতের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে নিজ উদ্যোগে তা কাটা সৌদি আরবে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র স্থানের সম্মান রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে কিছু ব্যবহারকারী এই ঘটনাকে পুরোনো বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়, অতীতে কিসওয়ার কিছু অংশ বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।
মক্কায় কিসওয়া কাটার চেষ্টায় নারী আটক, ভিডিও ঘিরে সমালোচনা
এমনকি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের কাছে পর্যন্ত কাবার সম্পুর্ণ কিসওয়ার ছিলো। এই তুলনা ঘিরে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।সাধারণ তীর্থযাত্রীর ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অতীতে কীভাবে কিসওয়ার টুকরো বিদেশে পৌঁছেছে।
এ নিয়ে সমালোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো এ নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
কাশ্মীরে ইরানের পাশে মানবিক দানের জোয়ার, সোনা-টাকা-সম্পদ দিয়ে সহায়তায় সাধারণ মানুষ
তবে জানা যায়, হজ ও উমরাহ মৌসুমে নিরাপত্তা বাহিনী পবিত্র স্থানগুলোর শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চালায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংবেদনশীল আচরণ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী তীর্থযাত্রীদের ক্ষেত্রে, নারী নিরাপত্তা সদস্যদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
এখানে ভিডিও দেখুন
কারণ কোনো মহিলাকে পুরুষ নিরাপত্তা বাহিনী জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া দৃষ্টিকচুর দেখায়। এমনকি বাংলাদেশের মত দেশে তাই, নারীদের গ্রেপ্তারের জন্য নারী পুলিশ রাখা হয়। তাহলে কেন পবিত্র কাবায় এমন ঘটনা ঘটবে।
উল্লেখ্য, কাবা শরীফ মুসলিমদের জন্য সর্বাধিক পবিত্র স্থান। এখানে প্রতি বছর লাখো মানুষ হজ ও উমরাহ পালনের জন্য সমবেত হন। কর্তৃপক্ষ সবসময় পবিত্রতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করে।
মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর



