আফগান অনুষ্ঠানে ‘গ্রেটার আফগানিস্তান’ মানচিত্র উন্মোচন, ডুরান্ড লাইন ঘিরে নতুন উত্তেজনা

গ্রেটার আফগানিস্তান’ মানচিত্র উন্মোচন
আফগান অনুষ্ঠানে ‘গ্রেটার আফগানিস্তান’ মানচিত্র উন্মোচন, ডুরান্ড লাইন ঘিরে নতুন উত্তেজনা

কাবুল: আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে ‘গ্রেটার আফগানিস্তান’ ধারণার একটি বড় মানচিত্র প্রকাশ করেছে। মানচিত্রটি পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

প্রকাশিত মানচিত্রে ১৮৯৩ সালের ডুরান্ড লাইনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। মানচিত্রে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া, গিলগিত-বালতিস্তান ও বেলুচিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে আফগানিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের সামনে ফ্রেমবদ্ধ মানচিত্রটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। সেখানে বলা হয়, এই মানচিত্রই “পূর্ণাঙ্গ আফগানিস্তান”, এবং ব্রিটিশ আমলে নির্ধারিত সীমান্তকে আফগান জনগণ গ্রহণ করে না।

এই ঘটনাকে বিশ্লেষকরা – প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন, যা চলমান পাকিস্তান-আফগান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ ধরনের মানচিত্রকে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেটার আফগানিস্তান’ মানচিত্র উন্মোচন

অন্যদিকে আফগান জাতীয়তাবাদী মহল একে ঐতিহাসিক দাবির অংশ বলে দাবি করছে। যা ইতিমধ্যে সোসিয়াল মিডিয়ায় ভাইরাল। 

ঐতিহাসিকভাবে, ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের প্রতিনিধি মর্টিমার ডুরান্ড এই লাইন টানেন। সাথে সহায়তা করেন আফগান শাসক আমির আব্দুর রহমান। তাদের মধ্যে  চুক্তির মাধ্যমে ডুরান্ড লাইন নির্ধারিত হয়।

প্রায় ২,৬৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তরেখা আফগানিস্তান কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন আফগান সরকার এই সীমান্তকে ‘ঔপনিবেশিক আরোপ’ হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর আফগানিস্তান জাতিসংঘে এই সীমান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরবর্তী দশকগুলোতে পশতুন জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং সীমান্ত সংঘর্ষ এই ইস্যুকে আরও জটিল করে তোলে।

গ্রেটার আফগানিস্তান’ মানচিত্র উন্মোচন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর, ‘গ্রেটার আফগানিস্তান’ ধারণাটি আবারও সামনে আসে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও প্রতীকী উপস্থাপনায় এই মানচিত্র ব্যবহারের ঘটনা লক্ষ্য করা যাচছে। এই ঘটনাকে অনেকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত করছে।

কাশ্মীরে ইরানের পাশে মানবিক দানের জোয়ার, সোনা-টাকা-সম্পদ দিয়ে সহায়তায় সাধারণ মানুষ

এরই মধ্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পাকিস্তান অভিযোগ তোলে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করছে।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় এবং আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলার ঘটনাও ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আফগান পক্ষও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মার্চের শুরুতে সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। 

যদিও ১৯ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল, তবুও পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে ‘গ্রেটার আফগানিস্তান’ মানচিত্রের প্রকাশ করা হয়। 

ঘটনাটিকে অনেকেই ‘প্রতীকী ভূখণ্ড দাবি’ হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ঘটনা কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ইরেডেন্টিস্ট দাবি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন দাবি বাস্তবায়নের প্রশ্ন কতটা বাস্তব সম্মত? এমন দাবি,  দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস ও সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

“কেন ঘোষণা করা যাবে না হিন্দু রাষ্ট্র?” -বিজেপি নেতার বক্তব্যে ভারতে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তাপ

বর্তমানে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলমান রয়েছে। কিন্তু ধরনের প্রতীকী পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে ‘গেটার’ শব্দটি অনেক অনেক আলোচনায় রয়েছে। আফগানিস্তান একাই নয়, যারা তাদের দেশকে গ্রেটার করতে চাই। যেমন ভারত বর্তমানে স্বপ্ন দেখছে, গ্রেটার ইন্ডিয়া ‘ এর। যাকে অখণ্ড ভারত বলা হচ্ছে। 

মুসলিম সংবাদ – মুসলমানদের সম্পর্কে এমন ভিডিও দেখুন।

যেখানে থাকবে – আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বর্তমান ভারত,বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান,মিয়ানমারের কিছু অংশ ও শ্রীলংকা। এই সব দেশগুলো দখল করে ভারত অখণ্ড ভারত গড়তে চাই যা হবে একটি হিন্দুরাষ্ট্র। 

শুধু আফগানিস্তান, ভারত ছাড়াও ওদিকে ইজরায়েলও গ্রেটার ইজরায়েল গড়তে চাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো – এগুলো কি কোনোদিনই একসাথে ছিলো যে আবারও একসাথে করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। 

অথচ অখণ্ড বাংলা সত্যিতে ছিলো, তারপরও কেন অখণ্ড বাংলা গড়ার কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠে না – এমন প্রশ্ন করেছেন – বাংলাদেশের কিছু বিপ্লবী বিশ্লেষকরা। 

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর।


Source : Afghanistan Today 

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।