ভারতে গাজা যুদ্ধভিত্তিক একটি অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র, মুক্তি আটকে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির নাম দি ভয়েস অফ হিন্দ রাজাব । এটি গাজার এক হৃদয়বিদারক বাস্তব ঘটনার উপর নির্মিত, যেখানে এক শিশুর করুণ পরিণতির গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (সেন্সর বোর্ড) অভিযোগের ভিত্তিতে এই চলচ্চিত্রটির প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের অনুমতি দেয়নি বলে জানা গেছে।
চলচ্চিত্রটির ভারতীয় পরিবেশক মনোজ নন্দওয়ানা জানান, সেন্সর বোর্ড মৌখিকভাবে তাদের জানায় যে চলচ্চিত্রটি বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে “অত্যন্ত সংবেদনশীল”।
ভারতে গাজা যুদ্ধভিত্তিক অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র ‘দি ভয়েস অফ হিন্দ রাজাব’ আটকে দেওয়ায় বিতর্ক

তার দাবি, বোর্ডের এক সদস্য সরাসরি বলেছেন-এই চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন পরিবেশক নিজেই। তিনি বলেন, একটি চলচ্চিত্র কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় সম্পর্ককে ভেঙে দিতে পারে-এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন তিউনিসিয়ার খ্যাতিমান নির্মাতা কাওথার বেন হানিয়া। তিনি পূর্বেও মানবাধিকার ও বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন

চলচ্চিত্রটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে ঘিরে, যিনি গাজায় ইসরায়েলি হামলার মধ্যে আটকে পড়েছিলেন।
ভারতের পুনেতে মুসলিম যুবককে জোর করে গোবর খাওয়ানোর অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
এতে ব্যবহার করা হয়েছে শিশুটির বাস্তব ৭০ মিনিটের একটি অডিও, যেখানে সে সাহায্যের জন্য বারবার আবেদন জানাচ্ছিল-যা বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয় নাড়া দিয়েছিল।
এই ঘটনায় শিশুটিসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং উদ্ধার করতে যাওয়া দুইজন চিকিৎসাকর্মীর মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের এই সিদ্ধান্ত মূলত মধ্যপ্রাচ্যের জটিল কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি প্রচেষ্টা।
Watch Our Video On YouTube
তবে মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত।
চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও অর্জন করেছে।
বর্তমানে চলচ্চিত্রটি ভারতে পুনর্বিবেচনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পাবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে-আর এই প্রশ্নেই এখন নজর সবার।
ভৃন্দাবনে অনিরুদ্ধাচার্যের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক: ‘লাভ জিহাদ’ ইস্যুতে মুসলিমদের লক্ষ্য করে মন্তব্য, নারীদের নিয়ে সমালোচনা
এদিকে ভারতের চলচিত্র সেন্সর বোর্ড, কেরালা স্টোরি ২ এর মত ঘৃণা ছড়ানো সিনেমাও হলে চালানোর অনুমতি দিয়েছে। যেখানে মুলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
ছবিতে দেখা যায়, মুসলমানেরা পরিকল্পিত ভাবে হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুসলিম বানাচ্ছে। তাদের মা সমতুল্য গরুর মাংস জোর করে খাওয়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের দাবি,” ধুরান্ধার এর মত প্রোপাগান্ড ছবি,সহিংসতায় ভরা ছবি সেন্সরবোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু দি ভয়েস অফ হিন্দ রাজাব কেন আটকালো। এটা কি মুসলমানদের নিয়ে বানানো সিনেমা বলে, হিন্দু নেতাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে -তা খতিয়ে দেখা উচিত।”
মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
Sources: TRT World, BBC News, Al Jazeera & Muslim Sangbad Special correspondent



