দাড়ি ও ইসলামী অবস্থানের কারণে ফুটবল ছাড়লেন তুরস্কের জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আয়কুত দেমির

দাড়ি ও ইসলামী অবস্থানের কারণে ফুটবল ছাড়লেন তুরস্কের জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আয়কুত দেমির

দাড়ি ও ইসলামী অবস্থানের কারণে ফুটবল ছাড়লেন তুরস্কের জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আয়কুত দেমির

ফুটবল খেলা যুবকদের ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এমন মন্তব্য করলেন তুরস্কের সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার আয়কুত দেমির। তিনি দাবি করেছেন, তার দাড়ি ও ইসলামী অবস্থানের কারণে তুর্কি ক্লাবগুলো তাকে দলে নিতে চাইনি। এ কারণে তিনি অল্প বয়সেই পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নিতে বাধ্য হয়েছিলেন

তার এমন মন্তব্যে ফুটবল বিশ্বে বিশেষ করে মুসলিম ভক্তদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই মন্তব্য তুরস্কের ফুটবলে ধর্মীয় পরিচয় ও পেশাদার ক্রীড়ার সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি কুরআন ও নবী দাওয়াতভিত্তিক একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আয়কুত দেমির বলেন,”ফুটবল খেলার সময় দাড়ির ব্যাপারে আমি কোনোদিনই আপস করিনি। কারণ এটা আমার নবির সুন্নাহ। আমি তুরস্কের হয়ে জাতীয় দলে এবং সুপার লিগে খেলেছি, তারপরও শুধুমাত্র আমার ইসলামী অবস্থানের কারণে কোনো ক্লাব আমাকে চায়নি।

দাড়ি ও ইসলামী অবস্থানের কারণে ফুটবল ছাড়লেন তুরস্কের জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আয়কুত দেমির

শুধুমাত্র ইসলামী অবস্থানের জন্য, অন্য কোনো কারণে নয়। এজন্য আমাকে একাধিক ক্লাবে খেলতে হয়েছিলো। কারণ আমার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একটি ক্লাবে দীর্ঘদিন থাকতে পারতাম না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ফুটবলকে ইসলামী পরিচয় নিয়ে খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছি তারা তা চায় না। তাই অল্প বয়সেই ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমার কাছে সবার আগে ইসলাম তারপরে অন্যকিছু।

বিপিএলে ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি আনতে চান তামিম ইকবাল

দেমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, কুরআন ও নবীদের জীবনী অধ্যয়ন করার পর তিনি ফুটবল শিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে নতুন ভাবে ভাবতে শুরু করেন। তার দাবি, আধুনিক ফুটবল ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে যুবসমাজকে ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং জুয়া, অশ্লীলতা ও অ-ইসলামী প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করে।

এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধচলাকালীন
তার দল ‘যুদ্ধ নয়’ লেখা টি-শার্ট পরে খেললেও তিনি তা পরতে অস্বীকৃতি জানান।

 ফুটবলার আয়কুত দেমির

সে সময় তিনি বলেছিলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, বিশেষ করে ফিলিস্তিনে নিরীহ মানুষ নিহত হচ্ছে। কিন্তু সেসব নিয়ে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। এজন্য আমার বিবেক এতে সাড়া দেয়নি।”

অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছিলেন, ফিলিস্তিনে হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে তাদের বিষয়ে প্রতিবাদ করছেন না কিন্তু রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রতিবাদ করতে বলছেন। এমন দুমুখো সাপের ন্যায় আচারণ করতে পারবেন না বলে তিনি ছাপ মানা করেন। তিনি দাবি করেন, ফুটবল সংস্থাগুলো পশ্চিমাদের হয়ে কাজ করছে। এজন্য তিনি এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেননি।

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার চাপ, মস্কো থেকে কঠোর বার্তা পুতিনের

আয়কুত দেমির তুরস্কের জাতীয় দলে সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেলতেন। ক্যারিয়ারে ত্রাবজোনস্পোর, জেনচলারবিরলিগি, গিরেসুনস্পোর,বিবি এরজুরুমস্পোর,বোলুস্পোর ও কেচিওরেংগুচু সহ একাধিক ক্লাবের হয়ে তিনি খেলেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর ঘোষণা করেন।

তিনি এতটাই ধর্মীয় ভিরু যে তিনি তার বিয়ের অনুষ্ঠানে টুপি পরেছিলেন এবং তাওহিদের পতাকা প্রদর্শন করেছিলেন। এজন্য তিনি সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, তাও তুরস্কের মত মুসলিম দেশে। এতকিছুর পরেও তিনি সবসময় প্রকাশ্যে নিজের ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরতে দ্বিধা বোধ করেননি।

তুরস্কের ফুটবলে দাড়ি বা ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৪ সালে ইলহান চাভচাভ, যিনি সে সময় জেনজলারবিরলিগি এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি খেলোয়াড়দের দাড়ি রাখার বিরুদ্ধে জরিমানার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্যালেস্টাইনের পরিস্থিতি ‘জেনোসাইড’- বললেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স

তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “এটা কি ইমাম-হাতিপ স্কুল? তোমরা খেলোয়াড়, যুবকদের জন্য আদর্শ হওয়া উচিত।” যারফলে তুরস্কে চরম বিতর্কের জন্ম দেয়। তুরস্কের মত মুসলিম দেশে নবীর পরিচয় তুলে ধরা, সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করায় পদেপদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে মুসলিমরা।

দাড়ি ও ইসলামী অবস্থানের কারণে ফুটবল ছাড়লেন তুরস্কের জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আয়কুত দেমির

যদিও সে সময় তুরস্কে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই অবস্থানের বিরোধীতা করে সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। যারফলে তখন পরিবেশ ঠান্ডা হয় কিন্তু এবার আয়কুত দেমিরের মন্তব্যে আবারো সমালোচনার ঝড় বইছে।

আয়কুত দেমিরের এমন ধর্মীয় প্রাণ মুসলিম অবস্থানের জন্য অনেকে তার প্রশংসা করছেন এবং তাকে ইসলামের নীতিতে অটল থাকার আহবান জানিয়ে সমর্থন করছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, পেশাদার ফুটবলকে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে রাখা উচিত।

Watch Muslim Sangbad Video On YouTube

বিশ্লেষকদের মতে, আয়কুত দেমিরের অভিজ্ঞতা তুরস্কের ফুটবলে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আধুনিক ক্রীড়া সংস্কৃতির মধ্যকার টানাপোড়েনকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তার ঘটনা দেখাচ্ছে, পেশাদার খেলাধুলায় ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ এখনও অনেক সময় বিতর্কের জন্ম দেয়।

বর্তমানে অবসরের পর আয়কুত দেমির কী করবেন তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে তুর্কি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভবিষ্যতে ইসলামী দাওয়াত ও যুবসমাজকে সচেতন করার কাজে যুক্ত হতে পারেন।

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।