ভারতে সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু: চিকিৎসার বদলে গঙ্গায় ডুব, অন্ধবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন

ভারতে সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু: চিকিৎসার বদলে গঙ্গায় ডুব, অন্ধবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন

ভারত: সাপের কামড়ে আক্রান্ত হবার পর, পুরোহিতের পরামর্শে গঙ্গায় ১২ ঘণ্টা ভাসিয়ে রাখায় ১৪ বছর কিশোর অমিতের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, ভারতের উত্তরপ্রদেশের অমরোহা জেলার পিটামপুর গ্রামে ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার পরিবর্তে মন্দির পুরোহিতের কাছে নিয়ে যায় – বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অমিতের বাবা মহন্ত। 

চিকিৎসা না পাওয়ায় বিষ ছড়িয়ে পড়ে সম্পুর্ণ শরিরে, এমন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অন্ধবিশ্বাস ও চিকিৎসা অবহেলার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা উঠেছে।

কৃষক পরিবারের সন্তান অমিত খড় সংগ্রহ করতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের কামড় খায়। তার বাবা মহান্ত ও মা পালা দেবী প্রথমে তাকে সম্ভলের খারদাকরানি গ্রামের এক মন্দিরের পুরোহিতের কাছে নিয়ে যান। তিনি ‘পুজা-আচার’ করে বিষ নামানোর দাবি করেন।  সাথে তিনি ১২ ঘন্টা গঙ্গার জলে ডুবিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। 

অমিতের বাবা বলেন- পুরোহিত আমাকে বলেন,”পবিত্র গঙ্গায় ১২ ঘন্টা ভাসিয়ে রাখলে আপনার ছেলের শরিরের সকল বিষ বেরিয়ে যাবে।” কিন্তু ঘটনাটি উল্টো ঘটেছে, আমার ছেলের মৃত্যু ঘটেছে। 

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে বাঁশের তৈরি মাচায় বেঁধে গঙ্গায় নামানো হয়।  প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে নদীর জলে আটকে রাখার পরও অমিতের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তার শরীর অসাড় হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়।

ভারতে সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু: চিকিৎসার বদলে গঙ্গায় ডুব, অন্ধবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান, কিন্তু কেউ হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করেননি। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় জলে ভাসছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো,অমরোহা ও আশপাশের এলাকায় সাপের কামড়ের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনম সহজলভ্য রয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে দ্রুত চিকিৎসা পেলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কিন্তু পরিবার অন্ধবিশ্বাসের কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট করে ফেলে। এ ধরনের ঘটনা ভারতে নতুন নয়।

গ্রামাঞ্চলে তান্ত্রিক, ওঝা ও অন্ধবিশ্বাসের কারণে অনেক সাপের কামড়ের রোগী মারা যান। সরকারি তথ্য অনুসারে, প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এভাবে প্রাণ হারান, যদিও অ্যান্টিভেনম চিকিৎসায় ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়া সম্ভব।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ এখনো তান্ত্রিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে। অমরোহা জেলা প্রশাসন এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।

ভারতের আসামে উচ্ছেদ অভিযান: ঘরবাড়ি ভাঙায় তাবুতে হাজারো মুসলিম পরিবার, ভোটাধিকার নিয়েও শঙ্কা

কর্মকর্তারা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলা ও অন্ধবিশ্বাসের কারণে এমন মৃত্যু রোধে সচেতনতা অভিযান চালানো হবে। পরিবারের সদস্যরা এখন শোকে মুহ্যমান।

 অমিত ছিলেন তাদের ছোট সন্তান। এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার পরিবর্তে কুসংস্কারের পথে গেলে জীবনের কী মূল্য চোকাতে হয়।

Watch Our video on youtube

এমন ঘটনা শুধু ভারতে নয়, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেও রয়েছে। আমাদের দেশে অনেকেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলে ওঝার কাছে নিয়ে যায়। যেখানে উচিত ছিলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। 

আবার দেখা যায়, সাপে কামড়ে আক্রান্ত হবার পর ওঝার মাধ্যমে, বিভিন্ন গাছ খাওয়ে চিকিৎসা করা হয়। এর ফলে কাজও হয় অনেক রোগী বেঁচে যায়। যারফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ ভাবে এই ওঝার গাছ কার্যকরী। 

কিন্তু আসলেই কি কার্যকরী, বাস্তবতা ভিন্ন। আসলে সাপ সাধারণত তার স্বীকারের বাইরে কামড়ালে অর্থাৎ যে প্রাণীকে খেতে পারবেনা শুধু নিজের আত্মরক্ষার জন্য কামড়ায় সেখানে বেশিরভাগ সময় বিষ ঢেলে না।

ভারতের নর্মদা নদীতে ১১০০০ লিটার দুধ ঢেলে অভিষেক: ধর্মীয় আচার বনাম সম্পদের অপচয় – তীব্র বিতর্ক

এমন কামড় কে ড্রাই বাইট  বলে। উদাহরণ স্বরূপ বাংলাদেশের গোকরা ও জাত সাপের কথা নেওয়া যাক। এ সাপের ২০%–৫০% কামড়ই dry bite হতে পারে অর্থাৎ ১০০ বার কামড়ালে আনুমানিক ৫০–৮০ বার বিষ ঢালতে পারে আর ২০–৫০ বার শুকনা কামড় দিতে পারে

কিন্তু অন্যান্য সাপ গুলো তো আরোও কমবার বিষ ঢেলে। আর একটি কারণ সবচেয়ে দায়ি, বাংলাদেশের বেশিরভাগ সাপই বিষেধর নয়। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগই মানুষই কোনটি বিষেধর সাপ আর কোনটি বিষহীন সাপ তা চেনেনা।

ফলে বিষহীন সাপের কামড়েও ওঝার কাছে নিয়ে যায়। তখন ওঝার গাছে রোগী বেঁচে উঠে। কিন্তু যদি সত্যিই বিষধর সাপ কামড়াতো ও বিষ ঢেলে দিতো তাহলে রোগী শেষ।  

Muslim Sangbad – Voice Of Muslim Ummah

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।