হুজুর কে খুৎবা দিতে বাঁধা দিলেন বিএনপি নেতা: এখন বিএনপি নেতাকে খুৎবা দিতে বলছে হুজুর

হুজুর কে খুৎবা দিতে বাঁধা দিলেন বিএনপি নেতা: এখন বিএনপি নেতাকে খুৎবা দিতে বলছে হুজুর

বাংলাদেশ: রংপুর বাস টার্মিনাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুৎবা চলাকালীন একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রশিদ সরকার খুৎবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক বিএনপি নেতা তাতে বাধা দেন। খতিব সাহেব শান্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ওই নেতাকে খুৎবা দিতে বলেন, যা ভাইরাল হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মাওলানা আব্দুর রশিদ সরকার খুৎবায় ধর্মীয় ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন। খুৎবার এক পর্যায়ে ওই বিএনপি নেতা উঠে দাঁড়িয়ে বাধা দেন এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেন। 

খতিব সাহেব শান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমার খুৎবা দেওয়া যদি পছন্দ না হয় তাহলে আপনি খুৎবা দেন।” বলে নেতার হাতে মাইক ধরিয়ে দেন। এরপর নেতা আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং দু’পক্ষের মধ্যে সামান্য বাকবিতণ্ডা হয়।

হুজুর কে খুৎবা দিতে বাঁধা দিলেন বিএনপি নেতা: এখন বিএনপি নেতাকে খুৎবা দিতে বলছে হুজুর
হুজুর কে খুৎবা দিতে বাঁধা দিলেন বিএনপি নেতা: এখন বিএনপি নেতাকে খুৎবা দিতে বলছে হুজুর

কারণ ওই ইমাম সাহেব এমন অবস্থা তৈরি করেন যে, বিএনপি নেতা খুৎবা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু ওই বিএনপি নেতা তো খুৎবার কিছুই বোঝে না। একেবারে নাকানি চুবানি খেতে দেখা যায়।মসজিদের অন্য মুসল্লিরা এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন।

ঘটনাটি ৪ এপ্রিল; জুমার নামাজের সময় ঘটে। ভিডিওটি সোসিয়াল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লক্ষাধিক ভিউ পায়। অনেকে খতিবের শান্ত ও সাহসী প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন।

আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক নেতাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।এ ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি তাদের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ ঘটনায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

পোস্টার ও ভিডিওতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে ওয়াজ-মাহফিল ও ধর্মীয় নেতাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ছিল নিয়মিত। এখন বিএনপির লোকজন একই ধরনের আচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একজন নেটিজেন লিখেছেন, “আওয়ামী লীগ জানতো দেশের মানুষ ধর্মকর্ম ঠিকভাবে করলে তাদের রাজনীতি টিকবে না। বিএনপি কি একই কথা মনে করছে?” 

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন – মসজিদ-মাহফিলে কেন রাজনৈতিক নেতাদের এমন বাধা? মাওলানা আব্দুর রশিদ সরকার রংপুরের একজন পরিচিত আলেম। তিনি স্থানীয় মসজিদে নিয়মিত খুৎবা ও ওয়াজ করেন।

নিশাত তাসনীমের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক: ইসলামে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কি জায়েজ

এ ঘটনা বাংলাদেশে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ধর্মীয় স্থান ও অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানানো। মসজিদ হলো শান্তি ও ইবাদতের স্থান, সেখানে রাজনৈতিক বিতর্ক টেনে আনা উচিত নয়।

এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। স্থানীয় প্রশাসনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে যে, এমন ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া উচিত।

মাওলানা আব্দুর রশিদের এই ঘটনা শুধু একটি স্থানীয় বিষয় নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মতো ধর্মপ্রাণ দেশে মসজিদ-মাদ্রাসায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মক্কায় কিসওয়া কাটার চেষ্টায় নারী আটক, ভিডিও ঘিরে সমালোচনা

জনগণ আশা করে, সব রাজনৈতিক দল ধর্মকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। তাদের আহবান, বিএনপি আওয়ামী লীগের মত ধর্মীয় কাজে বাঁধা প্রদান করবেন না।

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর


(এই প্রতিবেদন ভাইরাল ভিডিও ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য স্থানীয় সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।)

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।