নিশাত তাসনীমের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক: ইসলামে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কি জায়েজ

ইসলামে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কি জায়েজ

ইসলাম যা জায়েজ বা হালাল করেছে, তা পৃথিবীর সকল জায়গায় বৈধ বা জায়েজ। তা হোক বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ বা উত্তরাধিকার আইন। এমন বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের একজন আলোচিত মেডিকেল শিক্ষার্থী-নিশাত তাসনীম। যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে । 

ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য আংশিক সত্য হলেও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ছাড়া উপস্থাপন করায় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এজন্য বক্তব্য ভেবেচিন্তে দেওয়া উচিত। 

আসলেই কি তার বক্তব্য ইসলাম অনুযায়ী সঠিক? নাকি  তিনি ইসলাম কে বিকৃত করেছেন। আসলেই কি ইসলামে বাল্য বিবাহ করবার অনুমতি দেয়? বহুবিবাহ করবার অনুমতি দেয়? কোরআন হাদিস কি বলে? চলুন বিস্তারিত জানি আজকের প্রতিবেদনে :

ইসলামে “হালাল” ও “হারাম” নির্ধারণের মূল উৎস কুরআন ও হাদিস হলেও, সেগুলোর প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত, প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। 

ইসলামে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কি জায়েজ
নিশাত তাসনীমের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক: ইসলামে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কি জায়েজ

বহুবিবাহ প্রসঙ্গে কুরআনের সূরা আন-নিসা [৪:৩]-এ সর্বোচ্চ চারটি বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও কঠোরভাবে ন্যায়বিচারের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। একই আয়াতে বলা হয়েছে, যদি সমানভাবে ন্যায়বিচার করা সম্ভব না হয়, তাহলে একটিই বিয়ে করতে হবে – যা অনেক আলেমের মতে এই অনুমতিকে সীমিত করে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিধানটি মূলত বিশেষ সামাজিক পরিস্থিতির জন্য ছিল, যেমন যুদ্ধপরবর্তী সময়ে এতিম ও অসহায় নারীদের সুরক্ষা দেওয়া। নাহলে তখন নারীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকতো না। তাদের সুরক্ষার জন্য এমন বিধান করা হয়। 

অন্যদিকে, বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে ইসলামে নির্দিষ্ট বয়সসীমা উল্লেখ না থাকলেও “পরিপক্বতা” ও সম্মতি কে বিয়ের প্রধান শর্ত হিসেবে ধরা হয়েছে। কারণ শারিরীক পরিপক্বতা এক এক দেশে এক এক রকম। এজন্য ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট বয়সের কথা উল্লেখ করেনি।

সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে অনেক ইসলামি গবেষক মনে করেন, শুধুমাত্র বয়স কম হওয়াকে বৈধতার ভিত্তি হিসেবে ধরা ইসলামের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মক্কায় কিসওয়া কাটার চেষ্টায় নারী আটক, ভিডিও ঘিরে সমালোচনা

বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের জন্য ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় প্রণীত।

ইসলামে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কি জায়েজ

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামের একটি মৌলিক নীতি হলো – মানুষের ক্ষতি করা যাবে না। তাই যে কোনো প্রথা যদি ক্ষতিকর হয়, তা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

ধর্মীয় পণ্ডিতদের মতে, ইসলামের বিধানগুলোকে সরলভাবে “সব সময় ও সব জায়গায় একইভাবে প্রযোজ্য” বলা বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার শামিল।

কারণ, শরিয়াহর লক্ষ্য (মাকাসিদ আল-শরিয়াহ) মানুষের জীবন, বুদ্ধি, সম্পদ, বংশ ও ধর্ম রক্ষা করা – যা সময় ও সমাজ অনুযায়ী প্রয়োগে ভিন্নতা আনতে পারে।

এদিকে, ভাইরাল হওয়া বক্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যেখানে সমর্থন ও সমালোচনা – দুই ধরনের মতামতই দেখা গেছে।

সৌদি যুবরাজের কটাক্ষ করবার পর, এবার পাকিস্তান কে লুজার বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

অনেকের মতে, নিশাত ঠিক কথা বলেছেন। কিন্তু যারা ধর্ম সম্পর্কে জানেন, তাদের মতে এভাবে বাল্যবিবাহ ইসলামের নিয়ম বলে চালানো ইসলাম কে অবমাননার সামিল। 

কারণ ইসলাম কোনো জায়গায় বাল্য বিবাহর কথা বলেনি। ইসলাম শুধু শারিরিক ও মানসিক পরিপক্বতার কথা বলেছেন। এতে যদি নারীদের ১৮ বছরের পরিপক্বতা আসে তাহলে ইসলাম সেটায় করতে বলবে। ইসলামে মেয়ের বা ছেলের সম্মতি বাদে বিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ করেছেন। 

আবার অনেকে বলছে, ” বর্তমানে বাংলাদেশে মেয়েরা যা শুরু করেছে তাদের বাল্যবিবাহ দেওয়ায় উচিত। এটা বলতে পারেন, কিন্তু ইসলামের নামে বাল্যবিবাহ চালোনো উচিত নয়। 

মুসলিম দেশগুলোর অনেকেই কেন ইরানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়? আসল কারণ কি?

মেয়ে বা ছেলে খারাপ কাজ করলে আইন অনুযায়ী বিচার করুন। মনে রাখবেন, ইসলাম বলে আপনি যে দেশে থাকেন। সে দেশের আইন মেনে চলুন। যদি বাল্যবিবাহ দিতে হয় তাহলে সরকারি আইন করুন। কিন্তু ইসলামের নামে ভুল তথ্য ছড়িয়েন না।”

অনেকে বলছে, একবার ভাবুন এই বক্তব্য যদি অন্য ধর্মের মানুষের কাছে যায়, তাহলে তারা ইসলাম সম্পর্কে কি ভাববে। তারা ইসলাম ধর্মের প্রতি সম্মান দুরে যাক, ঘৃণার চোখে দেখবে। এমনিতেই বিধর্মীরা ইসলাম কে ভুল ভাবে উপস্থাপন করে।

মুসলিম সংবাদ চ্যানেলের ভিডিও দেখুন 

যদি এখন মুসলমানরাই ভুল ভাবে ইসলাম কে উপস্থাপন করে তাহলে ইসলাম ধর্মের মানুষের ভবিষ্যত একবাে চিন্তা করুন। এজন্য ধর্ম সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেবার আগে সঠিক তথ্য জেনে নিন।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, সংবেদনশীল ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে প্রেক্ষাপটহীন মন্তব্য করলে ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। ইসলামকে সঠিকভাবে বোঝার জন্য কেবল একটি বাক্য নয়, বরং পূর্ণ প্রেক্ষাপট, শর্ত ও উদ্দেশ্য বিবেচনায় নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।