মুসলিম দেশগুলোর অনেকেই কেন ইরানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়? আসল কারণ কি?

মুসলিম দেশগুলোর অনেকেই কেন ইরানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়? আসল কারণ কি?

মুসলিম সংবাদ ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রায়ই সবার সামনে আসে। মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশ কেন ইরানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়? ধর্মীয়ভাবে সবাই তো মুসলিম। আসলে সবাই মুসলিম হলেও বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি অত্যন্ত জটিল।

এখানে ধর্মের পাশাপাশি ক্ষমতা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং ভূরাজনীতি বড় ভূমিকা রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে। চলুন আজকের প্রতিবেদনে কারণগুলো বিশ্লেষণ করা যাক :

১. সুন্নি-শিয়া রাজনৈতিক বিভাজন: 

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ মূলত সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেমন- সৌদি আরব,সংযুক্ত আরব আমিরাত,কাতার, মিশর ইত্যাদি। এ-সব দেশগুলো ইসলামের প্রকৃত নিয়ম অনুসরণ করে। নবিজির সুন্নত অনুযায়ী ধর্ম পরিচালনা করে। 

অন্যদিকে ইরান একটি শিয়া প্রধান রাষ্ট্র এবং তারা নিজেদেরকে শিয়া বিশ্বের নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে তুলে ধরে। যারা ভাবে নবিজির পর আলী (রা) এর বংশধর মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দিবে। 

এমনিতেই শিয়া সুন্নিদের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। কিন্তু এই পার্থক্য টাই সবচেয়ে প্রধান। এই ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিভাজন অনেক সময় আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি করে।

অন্ধ রোহিঙ্গার করুণ মৃত্যু: গভীর শীতে বন্ধ কফি শপের সামনে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ বর্ডার প্যাট্রোলের বিরুদ্ধে

মুসলিম দেশগুলোর অনেকেই কেন ইরানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়? আসল কারণ কি?

২. আঞ্চলিক প্রভাবের প্রতিযোগিতা : 

মধ্যপ্রাচ্যে কে প্রভাবশালী শক্তি হবে। এটি একটি বড় প্রশ্ন। অনেক আরব দেশ মনে করে, ইরান বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যেমন ইরাক,সিরিয়া,লেবানন,ইয়েমেনের মত দেশগুলোতে। 

এই দেশগুলোর রাজনীতি ও সংঘাতে ইরানের প্রভাব রয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। বিশেষ করে বর্তমানে হুতি, হিজবুল্লাহ,হামাস। এ-সব সংস্থা গুলোকে ইরান নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ উঠে।

৩. যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক :

মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার,কুয়েত। এই দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আছে। ফলে অনেক সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবস্থান নেয়। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, আমাদের কাছে ইজরায়েলের থেকে ইরান বেশি হুমকি স্বরুপ। 

মুসলিম দেশগুলোর অনেকেই কেন ইরানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়? আসল কারণ কি?

৪. নিরাপত্তা উদ্বেগ :

কিছু দেশ মনে করে, ইরানের মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে।

মুসলিম দেশগুলোর অনেকেই কেন ইরানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়?

এসব দেশগুলোর ভয় হয় – যদি সুন্নি মুসলিমদের ক্ষমতা শেষ হয়ে, শিয়ার মুসলমানদের হাতে চলে যায়। তাহলে ইসলামের বড় ক্ষতি হবে। এই ভেবে তারা ইরানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। যা অনেক বিশ্লেষকের মতে, “এটা ভুল সিদ্ধান্ত।”

৫. অর্থনীতি ও জ্বালানি রাজনীতি : 

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি অনেকটাই তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলে জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথ এবং কৌশলগত প্রণালীগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে।

ইরানে কেন হামলা করলো আমেরিকা? ট্রাম্পের পরিকল্পনা কি ব্যর্থ হচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামবে

বিশেষ করে হোরমুজ প্রণালি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। এই পথ নিয়ে উত্তেজনা হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি প্রভাবিত হতে পারে। এজন্য তারা সবসময় ইরানকে চাপে রাখতে চায়।

বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি শুধুমাত্র ধর্মীয় বিষয় নয়; বরং এটি ভূরাজনীতি, ক্ষমতার প্রতিযোগিতা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের সমন্বয়। যা বর্তমানে একটি জটিল বিষয়ে রুপান্তর হয়েছে। 

তাই মুসলিম বিশ্বের সব দেশ একই অবস্থানে দাঁড়ায় না। কেউ ইরানের পাশে থাকে, আবার কেউ ইরানের বিরোধিতা করে – যা মূলত তাদের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থের ওপর নির্ভর করে।

Watch Our YouTube Channel Muslim Sangbad

এখানে দেশগুলো ধর্মের থেকে নিজেদের দেশের স্বার্থ সবার আগে রাখে। এজন্য সৌদি আরব, দুবাই,কাতার সবসময় আমেরিকার পক্ষে কথা বলে। যাতে তাদের স্বার্থ রক্ষা হয়। 

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর


Source: একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং মুসলিম সংবাদ বিশেষ প্রতিনিধি।

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।