সন্ত্রাসবাদ পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র: অতীতের ছায়া কাটিয়ে কি নতুন পথে দামেস্ক?
আগস্ট ২৪, ২০২৬ | মুসলিম সংবাদ
প্রায় ৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্টেট স্পন্সর অব টেররিজম’ বা সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই designation থেকে মুক্তি সিরিয়ার জন্য শুধু কূটনৈতিক স্বস্তির বিষয় নয়; এটি দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “সিরিয়া তার ‘অন্ধকার অতীত’ পেছনে ফেলে উন্নয়ন, পুনর্গঠন ও নির্মাণের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সিরিয়ার পাশে থাকা দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।”
তবে সিরিয়ার জন্য এই নতুন অধ্যায়ের শুরু যতটা গুরুত্বপূর্ণ, এর পেছনের রাজনৈতিক পরিবর্তনটিও ততটাই তাৎপর্যপূর্ণ। তাহলে সিরিয়ার সাথে এবার কি হতে পারে? সিরিয়া কি সত্যিই উন্নতি করবে?
কেন ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো?
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। তৎকালীন হাফেজ আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগ ছিল।
এই তালিকায় থাকার কারণে সিরিয়ার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর ফলে মার্কিন সহায়তা, অস্ত্র রপ্তানি এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনে কঠোর সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
পরবর্তী সময়ে সিরিয়ার ওপর আরও অনেক নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হয়। এর মধ্যে আসাদ সরকারের ওপর চাপ তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিজার অ্যাক্ট’ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে শুরু করে।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পথে এগোয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট সিরিয়াকে স্টেট স্পন্সর অব টেররিজম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থ কী?
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। সিরিয়াকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া মানে দেশটির ওপর থাকা প্রতিটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে গেছে – এমন নয়। তবে এই designation প্রত্যাহারের মাধ্যমে সিরিয়ার ওপর থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাধা সরেছে।
সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকায় থাকার কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিরিয়ার সঙ্গে লেনদেন করা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন সেই পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, বাণিজ্য এবং পুনর্গঠন প্রকল্পে সিরিয়ার অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়তে পারে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বিদেশি অর্থ ও প্রযুক্তি প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি দামেস্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আসাদ সরকারের পতনের পর কীভাবে বদলে গেল সিরিয়ার রাজনীতি?
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন তৈরি করে।আসাদ সরকারের পতনের পর হায়াত তাহরির আল-শাম বা HTS নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোট দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এই গোষ্ঠীর নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি নামে পরিচিত ছিলেন। পরে তিনি নিজের আসল নাম আহমেদ আল-শারা ব্যবহার করে সিরিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বে উঠে আসেন। এখানেই নতুন সিরিয়ার সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি রয়েছে।
আল-শারা ও তার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর অতীত ছিল জিহাদি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। HTS-এর শিকড় ছিল আল-নুসরা ফ্রন্টে, যার সঙ্গে আল-কায়দার সম্পর্ক ছিল। তবে আল-শারা ২০১৬ সালে আল-কায়দার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বাধীন সংগঠন নিজেদের কাঠামো ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করে। আসাদ সরকারের পতনের পর সেই পরিবর্তনই এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কেন আল-শারার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে?
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সিরিয়ার নতুন সরকারের আচরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, “সিরিয়ার সরকার সন্ত্রাসবাদ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ কারণেই ওয়াশিংটন নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোচ্ছে।”
এটি মূলত বাস্তববাদী কূটনীতির একটি উদাহরণ। মাত্র কয়েক বছর আগেও যাকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করত, এখন সেই ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
সমালোচকদের কাছে এটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবর্তন। তাদের আশঙ্কা, অতীতের সশস্ত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া ভবিষ্যতে নতুন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
গাজার পক্ষে জাপানের টোকিওর রাস্তায় হাজার দিনের বেশি প্রতিবাদ করছেন- ইউসুকে ফুরুসাওয়া
অন্যদিকে সমর্থকদের যুক্তি হলো, সিরিয়ার বর্তমান বাস্তবতায় পুরোনো অবস্থান ধরে রাখার চেয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে তাকে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনা বেশি কার্যকর।
‘অন্ধকার অতীত’ বলতে কী বোঝালেন আল-শারা?
আল-শারার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ‘অন্ধকার অতীত’ পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার কথা। এই বক্তব্যকে একাধিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। একদিকে এটি আসাদ সরকারের দীর্ঘ শাসন, গৃহযুদ্ধ, ব্যাপক ধ্বংস এবং মানবিক সংকটের প্রতি ইঙ্গিত করতে পারে।
অন্যদিকে আল-শারার নিজের রাজনৈতিক অতীতও এই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কারণ নতুন সিরিয়ার নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হলো – তারা অতীতের সশস্ত্র সংঘাত থেকে কতটা কার্যকরভাবে বেরিয়ে আসতে পারে।
সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ সিরিয়ার অর্থনীতি ও অবকাঠামোকে বিপর্যস্ত করেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের সংঘাতে সিরিয়ার অবকাঠামো ও ভবনগুলোর সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০৮ বিলিয়ন ডলার। পুরো দেশ পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ২১৬ বিলিয়ন ডলার।
এই অর্থের পরিমাণ থেকেই বোঝা যায়, সিরিয়ার সামনে পুনর্গঠনের কাজ কতটা বড়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল, আবাসন, শিল্প এবং যোগাযোগব্যবস্থা পুনর্গঠনে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন।
মুসলিম সংবাদ ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন
নিষেধাজ্ঞা কমলে বিদেশি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সিরিয়ায় প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সিরিয়ার সংযোগও ধীরে ধীরে সহজ হতে পারে।
তবে এখানেও একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। শুধু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেই বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত হবে না। বিনিয়োগকারীরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং ব্যবসার পরিবেশের নিশ্চয়তাও চাইবে।
সিরিয়ার সামনে এখনও কী কী ঝুঁকি রয়েছে?
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়লেও সিরিয়ার সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
প্রথমত, নতুন সরকার কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। তৃতীয়ত, সাবেক বিদ্রোহী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কীভাবে একটি কার্যকর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে আনা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এর পাশাপাশি ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থার চরিত্র, মানবাধিকার এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ থাকবে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত সিরিয়াকে একটি সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু সেই সুযোগ সফল করার দায়িত্ব মূলত সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এর প্রভাব কী?
সিরিয়ার পরিবর্তন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এর সঙ্গে তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির স্বার্থ জড়িত।
আসাদ সরকারের পতনের পর তুরস্কসহ কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তি নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও এখন আইএসআইএস মোকাবিলা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সিরিয়ার পুনর্গঠনের স্বার্থে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার ভূমিকাও নতুন করে নির্ধারিত হতে পারে।
তাহলে কি সিরিয়া সত্যিই অতীতের ছায়া কাটিয়ে উঠতে পারবে?
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সিরিয়ার জন্য নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। প্রায় পাঁচ দশক পর সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থান বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হওয়া আর একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র তৈরি করা এক বিষয় নয়। সিরিয়ার সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো – নতুন সরকার কি অতীতের সংঘাত ও বিভাজন পেছনে ফেলে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারবে?
আল-শারা বলেছেন, সিরিয়া তার ‘অন্ধকার অতীত’ পেছনে ফেলছে। এখন সেই বক্তব্যকে বাস্তবে প্রমাণ করার পালা। কারণ ওয়াশিংটনের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম মুছে যাওয়া একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র। সেই অধ্যায় শেষ পর্যন্ত সাফল্যের গল্প হবে, নাকি নতুন কোনো সংকটের দিকে যাবে – তা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের সিরিয়া।
কিন্তু ওপর পক্ষ বলছে এত তড়িঘড়ি করে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রমাণ করে এটা আমেরিকা নিয়ন্ত্রণাধভন সরকার। কারণ হিসেবে তারা বলছে, এর আগে বাশার আল আসাদের সরকার ছিলো রাশিয়া পন্থী। এজন্য বাশার পালানোর সময় কিন্তু ওই রাশিয়ায় পালায়।
তাই বর্তমানে বলা যায়, আমেরিকা সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাশিয়ার হটিয়ে। কিন্তু রাশিয়ার আমলে সিরিয়ার অবস্থা ছিলো ভয়াবহ খারাপ। এখন দেখার বিষয় আমেরিকার সময়ে এসে সিরিয়ার কি কোনো উন্নতি হয় কিনা? নাকি আগের মতই সিরিয়ার ভাগ্যে রয়েছে?
মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
সোর্স: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ভিডিও বার্তা




