ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (স) প্রায় ১৪০০ বছর আগে মুসলিম উম্মাহ সম্পর্কে একটি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতি দেখে বিশ্লেষকেরা বলছেন – নবীর বাণী সত্য হতে চলেছে।
সেই হাদিসে মুহাম্মাদ (স) বলেন, এমন একটি সময় আসবে, যখন পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি মুসলমানদের বিরুদ্ধে একত্রিত হবে, যেমন মানুষ খাবারের পাত্রের চারপাশে জড়ো হয়।
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, তখন মুসলমানরা সংখ্যায় কম হবে না; বরং অনেক বেশি হবে। কিন্তু তাদের অবস্থা হবে বন্যার পানিতে ভেসে থাকা ফেনার মতো দুর্বল। তখন শত্রুদের হৃদয় থেকে মুসলমানদের ভয় চলে যাবে।
আর মুসলমানদের অন্তরে ঢুকে যাবে “ওয়াহন” – যার অর্থ দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা, অর্থাৎ মৃত্যুকে ভয় করা। এই হাদিসটি সংকলিত হয়েছে বিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ সুনান আবু দাউদে।
মুসলমানরা হবে “বন্যার ফেনার মতো”নবী (স)-এর ১৪০০ বছরের ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্য হচ্ছে?

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ঘিরে অনেক মুসলিম চিন্তাবিদ ও বিশ্লেষক এই হাদিসটি আবার আলোচনায় এনেছেন। তাদের মতে, আজ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর সংঘাত, রাজনৈতিক চাপ ও বিভক্তির ঘটনা এই হাদিসের ভবিষ্যৎ বাণী সত্য হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হযরত মুহাম্মদ (স) পৃথিবীতে আগমনের পর মুসলমানদের শক্তির যুগ শুরু হয়। নবিজির ইন্তেকালের পর শুরু হয় খিলাফতে রাশিদুন। এরপর ৭০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১১০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চলতে থাকে মুসলমানদের সোনালী যুগ।
যাকে “Golden Age of Islam” ও বলা হয়। এসময় জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি – সব দিক থেকে দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ ছিল মুসলমানরা। তৎকালীন সময়ে মুসলমানরা ছিল দুনিয়ার অন্যতম শক্তিশালী শক্তি।
তারপর থেকে শুরু হয় মুসলমানদের পতনের যুগ। এই পতনের বড় ধাক্কা আসে মঙ্গোল নেতা চেঙ্গিস খানের আক্রমণের মাধ্যমে। তার নেতৃত্বে মঙ্গোল আক্রমণ মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ধ্বংস ডেকে আনে এবং পরে ১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের হাতে আব্বাসীয় খেলাফতের পতন ঘটে।
তখন পৃথিবীতে মঙ্গোল শক্তির উত্থান ঘটে। তারপরও মুসলিমরা আবার শক্তি অর্জন করে। ১৩০০ সালের পর অটোমান সাম্রাজ্য মুসলিম বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে তারা মুসলমানদের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি ছিল। কিন্তু ২০ শতকের শুরুতে এসে অটোমান শাসনের অবসান ঘটে।
এর সাথে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ঐক্যও অনেকাংশে ভেঙে যায়। মুসলিম ভূখণ্ডগুলোকে যেন খাবারের প্লেটে মাংস ভাগ করার মতো করে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে দেয় উপনিবেশবাদী শক্তিগুলো।

তারা জানত, পশ্চিমাদের অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ মুসলিম শক্তি। তাই তাদের কোনোভাবে এক হতে দেওয়া যাবে না। তারপরও এই বিভক্ত দেশগুলোর কোনো কোনো নেতা মুসলমানদের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে কথা বলেছেন।
যেমন সৌদি আরবের কিং ফয়সাল, লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি, এবং ইরানের নেতারা – যারা বিভিন্ন সময়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোতে এমন নেতৃত্ব খুব কম দেখা যায়, যারা একসাথে মুসলিম বিশ্বের হয়ে শক্তভাবে কথা বলতে পারে।
বর্তমান মুসলমানদের অবস্থা অনেকের মতে, “নবিজির ভবিষ্যৎ বাণীতে উল্লেখিত পরিস্থিতির মতো।” তার বর্ণনার সাথে কিছু ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। কারণ এখন অনেক অঞ্চলে মুসলমানদের অবস্থা খুবই দুর্বল এবং বিভক্ত।
ইরান ইস্যু ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইজরায়েল সফর করেছিলেন।ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিশ্লেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময় ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ইরান – আমেরিকা,ইজরায়েল যুদ্ধকে ধর্ম যুদ্ধ বলে সম্বোধন করেছেন।বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতির নানা জটিল সমীকরণের কারণে মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
যা ধরে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, নবীজির সেই হাদিস আজ আবার নতুন করে আলোচনায় আসছে।খেয়াল করে দেখুন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যে মুসলিম বিশ্ব নানা সমস্যার মুখোমুখি।এটা কি কেবল রাজনৈতিক বাস্তবতা, নাকি নবিজির ভবিষ্যৎ বাণীর প্রতিফলন – এ প্রশ্ন নিয়েই চলছে আলোচনা।
মুসলিম সংবাদ — মুসলিম উম্মাহর কণ্ঠস্বর
Source: হাদিসগ্রন্থ সুনান আবু দাউদে এবং মুসলিম সংবাদ বিশেষ প্রতিনিধি



