মুসলিম সংবাদ ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন বারবার সবার সামনে আসছে – ইসরায়েল আসলে কী চায়? এত যুদ্ধ এত সংঘাত কেন করে ইজরায়েল?
ইরান, গাজা, লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযান এবং রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসরায়েলের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের বর্তমান নীতি মূলত, পাঁচটি প্রধান লক্ষ্যকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। চলুন আজকের প্রতিবেদনে কি সেই পাঁচটি কারণ জানা যাক:
১. নিরাপত্তা নিশ্চিত করা :
ইসরায়েল সবসময়ই তাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে।দেশটির দাবি, চারপাশের অনেক শক্তি তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করে। এজন্য তারা সবসময় যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকে।

বিশেষ করে ইরানের মিসাইল সক্ষমতা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কারণে ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে বলে মনে করে। কারণ ইরান সবসময় ইজরায়েলের অস্তিত্ব শেষ করতে চাই।
এই কারণেই তারা সম্ভাব্য হুমকি মনে করা সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আগাম হামলার কৌশল গ্রহণ করে থাকে। যা বর্তমানে চলা ইরান ইজরায়েলের যুদ্ধের প্রধান কারণ।
ইসরায়েল আসলে কী চায়? মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পেছনের কৌশল বিশ্লেষণ
২. ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করা:
বর্তমান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।
ইসরায়েলের দৃষ্টিতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে, তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। এজন্য ইরানে সবসময় গোয়েন্দা লাগিয়ে রাখে। কোনো সন্দেহ জনক খবর পেলে সাথে সাথে কার্যক্রম গ্রহণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য হলো :
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো। ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি দুর্বল করা। আঞ্চলিক সামরিক প্রভাব সীমিত করা। এই কারণেই ইরানের সামরিক অবকাঠামো বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো প্রায়ই ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য হয়।
৩. আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা :
মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসরায়েল চায় এমন একটি আঞ্চলিক বাস্তবতা, যেখানে তাদের সামরিক সক্ষমতা অন্য সব দেশের তুলনায় শক্তিশালী থাকবে।
এই কৌশলগত ধারণাকে অনেক বিশ্লেষক “Qualitative Military Edge” বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার নীতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এজন্য আমেরিকার সাহায্যে সবসময় নিজেদের পাল্লা ভারি রাখে ইজরায়েল।

৪. আঞ্চলিক জোট শক্তিশালী করা :
গত কয়েক বছরে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের কিছু আরব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে করেছে। সাথে নতুন কূটনৈতিক জোট তৈরি করা তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এই ধরনের জোট গঠনের মাধ্যমে ইসরায়েল আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। কারণ ইজরায়েল অস্তিত্ব মুসলিম রাষ্ট্রগুলো অস্বীকার করে। এজন্য তারা বিভিন্নভাবে তাদের থেকে স্বীকৃতি নেবার চেষ্টা চালায়।
ইতিমধ্যে তারা এই পরিকল্পনায় অনেকদূর এগিয়ে গেছে। অনেক মুসলিম দেশ ইজরায়েল কে দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যারফলে আমেরিকাকে হাত করে তারা, সেই দেশকে সাহায্য করেছে।
৫. বৈশ্বিক সমর্থন বজায় রাখা:
ইসরায়েলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখা, বিশেষ করে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের প্রধান কৌশলগত মিত্র হিসেবে পরিচিত। সামরিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি সহায়তা এবং কূটনৈতিক সমর্থন – সবকিছুই এই সম্পর্কের অংশ।
বিশ্লেষণ: ভবিষ্যৎ কোথায়?
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসরায়েলের নীতি মূলত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং কৌশলগত ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তবে এই নীতির ফলে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা ও সংঘাতও বাড়ছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।
আগামী সময়েই বোঝা যাবে – এই কৌশল মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের দিকে অঞ্চলটিকে ঠেলে দেবে। কারণ ইজরায়েল দেশটি তৈরি হয়েছেই যুদ্ধের মাধ্যমে। যুদ্ধ ইজরায়েলের নিত্যদিনের সঙ্গী।
Watch Our YouTube Channel Muslim Sangbad
এই তো গেলো সাধারণ তথ্য। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, ইজরায়েলের আসল পরিকল্পনা গ্রেটার ইজরায়েল তৈরি করা। যেখানে আরবের প্রায় অর্ধেক এলাকা আসে। তাদের মুল লক্ষ্য মসজিদ আলআকসা ভেঙে সেখানে তাদের তৃতীয় মন্দির বা থার্ড টেম্পল তৈরি করা।
যাতে তাদের মাসিহা বা মুসলমানদের ভাষায় দাজ্জাল আসতে পারে। এজন্য তারা আমেরিকাকে হাত করে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য গ্রেটার ইজরায়েল বিনির্মান ও থার্ড টেম্পল তৈরি।
মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর।
Sources : Multiple international News agencies & Muslim Sangbad Special correspondent



