আমেরিকা কেন ইরানের ওপর হামলা করলো? ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান দখল করবার পরিকল্পনা কি ব্যর্থ? ইরানে ইসলামিক শাসন শেষ করে গণতন্ত্র কায়েম করার যে পরিকল্পনা তা কি শেষ? ইজরায়েলের পাল্লায় পড়ে ইরানের ওপর হামলা করা ছিলো কি আমেরিকার সবচেয়ে বড় ভুল? সাথে আরব দেশ গুলো কেন ইরানের বিপক্ষে? এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?

আজকের প্রতিবেদনে এগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো।
আমেরিকা কেন ইরানের ওপর হামলা করলো :
অনেকের মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। হঠাৎ কেন ইজরায়েল ও আমেরিকা ইরানের ওপর হামলা করলো। এর পেছনের আসল কারণ কি? আমেরিকার ও ইজরায়েলের মতে,তারা ইরানের পরামানিক পরিকল্পনা শেষ করতে চাই। কিন্তু কথা হলো বিদ্যালয়ের ওপর বোমা ফেলে কোন পরামানিক বোমার কর্যক্রম বন্ধ করতে চাইছে তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এপস্টাইন ফাইনালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম থাকায়, সবার নজর সরানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ইচ্ছে করে এই যুদ্ধ শুরু করেছে। এজন্য তার নিজের দেশের জনগণো তার বিপক্ষে। সেনাবাহিনীর অনেকে অর্ডার মানতে চাইছে না।
স্পেন ন্যাটো ঘাঁটি দিতে অস্বীকৃতি, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা
আবার অনেকের দাবি, ইজরায়েলের আদেশেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা করেছে। তাদের ধারণা ইজরায়েল পরক্ষভাবে আমেরিকা দখল করে নিয়েছে। এজন্য ইজরায়েল যা বলছে – আমেরিকা তাই শনতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা দাড় করাচ্ছে – আমেরিকার কোনো স্বার্থ বাদেই কেন তারা যুদ্ধ শুরু করলো?

আবার অনেকর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পশ্চিমাদের ইচ্ছে ইরানে ইসলামিক ব্যবস্থা নষ্ট করে গণতন্ত্র আনা। কারণ আমেরিকা নিজেদর গণতন্ত্রের মা বলে থাকে। এই গণতন্ত্রের বাহানা দিয়ে তারা অনেক দেশ পরক্ষভাবে দখল করেছে। এবার ইরান পরবর্তী টার্গেট?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা কি ব্যর্থ? :
ডোনাল্ড ট্রাম্পের যায় পরিকল্পনা থাক না কেন? বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তা ব্যর্থ হতে চলেছে। ট্রম্প ভেবেছিল এই যুদ্ধ কয়েকদিনে শেষ হয়ে যাবে। তারপর যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা দিয়ে ইরান ধীরে ধীরে দখল করবে।
কিন্তু হচ্ছে তার উল্টোটা। ইরান থামার নামই নিচ্ছে না। আমেরিকার ধারনার তুলনাও ইরান বেশি শক্তিশালী। একে একে ইরানের মিত্র দেশগুলো ইরানের বিপক্ষে কথা বলতে শুরু করেছে। যেমন স্পেন তাদের দেশে থাকা ন্যাটোর ঘাঁটি থেকে হামলা চালাতে না দেওয়া।
ফুটবল ম্যাচে রমজানে মুসলিম খেলোয়াড়দের ইফতার, ম্যাচ থামতেই নারাজ দর্শক
আবার গণতন্ত্রে আনার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ইতিমধ্যে আয়াতুল্লাহ খোমেনির ছেলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসরে বসেছে। তো সবকিছু কিছু মিলিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা মোটামুটি ব্যর্থ নজর আসছে।

কেন আরব দেশগুলো ইরানের বিপক্ষে :
একে একে যখন খ্রিষ্টার দেশ গুলো পিছু হাঁটছে, তখন আমেরিকার সাথে অটল হয়ে দাড়িয়ে আছে মুসলিম দেশগুলো। বিশেষ করে, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত,আরব আমিরাত,বাহরাইন, জর্ডান, তুরস্ক।
এসব মুসলিম দেশগুলো তাদের দেশে আমেরিকার সেনাবাহিনীর ঘাঁটি বানাতে দিয়েছে। সেই ঘাঁটি গুলো থেকে ইরানে হামরা করেছে আমেরিকা। এখন ইরান যখন আমেরিকার এসব ঘাঁটিতে আক্রমণ করছে। তখন এসব দেশগুলো ইরানের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
ইতিমধ্যে, কাতার কুয়েত,সৌদি, আরব আমিরাত আমেরিকা ইজরায়েলের পক্ষে অফিশিয়াল কথা বলেছে।এবার সিরিয়ায় আমেরিকা ও ইজরায়েলের পক্ষে অফিশিয়াল বক্তব্য দিচ্ছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ সারা বলেছেন,”আমরা এই যুদ্ধে আমেরিকা ওই ইজরায়েলের সাথে আছে।” ইতিমধ্যে ইরানের ছোড়া ইজরায়েলের দিকে মিসাইলগুলো জর্ডান ঠেকিয়ে দিচ্ছে। এভাবে তারা আমেরিকার সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখছেন।
Watch Muslim Sangbad on You Tube
যুদ্ধের শেষ কোথায় :
এখন সবচেয়ে বড় কথা হলো – এই যুদ্ধের শেষ কোথায়। বর্তমানে যুদ্ধের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ইরান হার মানবে না। ইরান আমেরিকা ও ইজরায়েলের ওপর আক্রমণ করেই যাবে। ইরানের মিসাইলগুলো ইজরায়েল ও আমেরিকা তাদের আন্টিমিসাইল সিস্টেম বা আইরন ডোম দিয়ে ধ্বংস করছে।
এখান দেখার বাকি কাদের মিসাইল আগে ফুরাই। যাদের মিসাইল আগে ফুরাবে তারা বিপদে পড়বে। ট্রাম্প ভেবেছিল যুদ্ধ কয়েকদিন চলবে তারপর ছিসফায়ার হয়ে যাবে কিন্তু ট্রাম্প ভুলে গেছে। যাদের সাথে আলোচনা করে সিসফায়ার দিবে, তাদের তো হত্যা করে ফেলেছে।
এখন যদি আমেরিকা ফুলফোর্সে ইরান আক্রমণ করে তাহলে একরকম ফলাফল আসবে। এখনে আবার অনেক অসুবিধা রয়েছে যেমন – ট্রাম্পের নিজেদের জনগণই সাথে তাদের সেনাবাহিনীর ওপরও নির্ভর করে।
আবার সিসফায়ার করতে রাজি হবে কিনা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা, খামিনির ছেলে তাও বড় কথা। এদিকে বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে অস্থিরতা বাড়ার পর্যায়ে চলে এসেছে। তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত কি হয় তা দেখার অপেক্ষা।
মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
Sources: TRT World, BBC News, Middle east eye, Al Jazeera



