ইংল্যান্ড : ফুটবলে ঘটে গেলো এক অভুতপুর্ব ঘটনা। রোজার কারণে খেলা বন্ধ। যাতে মুসলিম খেলোয়াড়রা ইফতার করতে পারে। ঘটনাটি ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইংল্যান্ডের English Premier League- Elland Road Stadium-এ অনুষ্ঠিত হওয়া একটি ম্যাচে। মুসলিম খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার জন্য খেলা সাময়িকভাবে থামানো হয়।
কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ভালো ভাবে নেইনি স্টেডিয়ামে অবস্থানরত কিছু দর্শক। তারা রীতিমতো বু-করা শুরু করেন। ম্যাচটি ছিল Leeds United বনাম Manchester City মধ্যে।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে সূর্যাস্ত হওয়ার পর রেফারি Peter Bankes খেলা থামিয়ে দেন। এই সময় Omar Marmoush, Rayan Aït‑Nouri এবং Rayan Cherki পানি ও খেজুর খেয়ে ইফতার করেন। পুরো বিরতি ছিল মাত্র এক মিনিটের মতো। এই ঘটনা ফুটবল জগতে ধর্মীয় সহনশীলতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
বিরতি দেবার সময় স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনে একটি বার্তা প্রদর্শিত হয়: “আজকের ম্যাচ রমজানের পবিত্র সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খেলা সাময়িকভাবে থামানো হয়েছে যাতে খেলোয়াড়রা তাদের রোজা ভাঙতে পারেন।” এই বার্তা দর্শকদের বোঝানোর জন্য ছিল।

যাতে ম্যাচটি কি জন্য থামানো হয়েছে তা, তকরা উপলব্ধি করতে পারে। এমনিতেই এটি প্রিমিয়ার লিগের একটি প্রোটোকল। কিন্তু এলান্ড রোডের কিছু অংশ থেকে উচ্চস্বরে বু-করা এবং হুইসেল শোনা যায়, যা অনেককে হতাশ করেছে।
তাদের আচার-আচরণ দেখে স্পষ্ট, রোজার সময় খেলোয়াড়দের জন্য বিরতি দেওয়া যাবেনা। হোক সেটা ১ মিনিটের অথবা ১০ সেকেন্ডের। এ ঘটনা প্রমাণ করে খেলোয়াড়রা সারাদিন না খেয়ে থাকার পর, ইফতারে ১ মিনিটের বিরতি নিয়ে ২ টি খেজুর ও পানি খেলে কিছু দর্শকের অসুবিধার কারণ হচ্ছে।
ম্যাচ শেষে গার্দিওলা সাংবাদিকদের বলেন, “এটা আধুনিক বিশ্ব, তাই না? বিশ্বে যা ঘটছে তা দেখুন। ধর্ম এবং বৈচিত্র্যকে সম্মান করুন, এটাই মূল কথা। আমরা সবাই মানুষ, সবার ক্ষুদা লাগে।”
প্রিমিয়ার লিগ বলেছে যে,”রোজাদার খেলোয়াড়দের জন্য এক বা দুই মিনিট থামানো যাবে। {“ফুটবল ম্যাচে রমজানে মুসলিম খেলোয়াড়দের ইফতার, ম্যাচ থামতেই নারাজ দর্শক}
খেলোয়াড়রা বলেন, “আমরা শুধু কিছু ভিটামিন নিয়েছি কারণ চেরকি এবং আইত-নুরি আজ খাননি। এর বেশি কিছু নয়।” তারা আরও বলেন যে,”তার খেলোয়াড়রা এই বু-করা থেকে প্রভাবিত হননি, কিন্তু এটি অসম্মানজনক বটে।”
অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন সংস্থা ‘কিক ইট আউট’ এই ঘটনায় একটি বিবৃতি দিয়েছে: “এটা অত্যন্ত হতাশাজনক যে লিডস ইউনাইটেডের কিছু ফ্যান ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার সময় বু করেছে। এটা হতাশজনক।”
ভারতে বজরং দল কর্মীর হাতে ৩ মুসলিম বৃদ্ধ লাঞ্ছিত: অভিযুক্ত অক্ষয় সিং গ্রেপ্তার

রমজানে মুসলিম খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার জন্য খেলা থামানো একটি প্রোটোকল যা কয়েক বছর ধরে চালু আছে। এটি ফুটবলকে মুসলিম খেলোয়াড় এবং সম্প্রদায়ের জন্য স্বাগতম করে তোলে। এই প্রতিক্রিয়া দেখায় যে শিক্ষা এবং স্বীকৃতিতে এখনও অগ্রগতি দরকার।”
আাসলে, প্রিমিয়ার লিগ ২০২১ সাল থেকে এই নিয়ম চালু করেছে, যাতে রমজানের সময় মুসলিম খেলোয়াড়দের সূর্যাস্তের পর রোজা ভাঙার সুযোগ দেওয়া হয়। এ বছর রমজান শুরু হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হবে ১৯ মার্চ।
এই প্রোটোকল উভয় দলের সাথে আগেই সম্মত হয় এবং খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করে। ইউরোপীয় ফুটবলে এটি সাধারণ, কিন্তু এবারের বু-করা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ম্যাচের ফলাফলে ম্যানচেস্টার সিটি ১-০ গোলে জিতেছে, গোল করেছেন আন্তোয়ান সেমেনিও। এই জয়ের ফলে সিটি আর্সেনালের উপর চাপ বজায় রেখেছে।
কিন্তু এই ঘটনা এক্স (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রবল ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ এটাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ বিরোধিতা করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন অধ্যায়, এখন কী হতে পারে?
অনেকে বলছে, ” যারা বিরোধিতা করছেন, তারা একবার ভেবে দেখেন – একজন মানুষ সারাদিন না খেয়ে রোজা রেখে খেলা করছেন। তার জন্য যদি এক মিনিট থামা হয়, যাতে সে একটু খেজুর ও পানি খেতে পারে। এতে কি অসুবিধা হবে।
Watch Muslim Sangbad on You Tube
এই ঘটনা ফুটবলের মধ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা এবং বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এমন ঘটনা শিক্ষা এবং সচেতনতার মাধ্যমে কমানো যাবে, যাতে খেলা সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।দ
Muslim Sangbad – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
Source : Multiple International News agencies



