মুসলিম সংবাদ ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আর নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায়, তিনি নিহত হয়েছেন বলে – নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এই ঘটনাকে অনেক বিশ্লেষক মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, “রাজধানী তেহরানে চালানো একাধিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনির কম্পাউন্ড ধ্বংস হয়ে যায় এবং সেখানে তিনি নিহত হন।” ইসরায়েল ও আমেরিকা যে লক্ষ্য করে তাদের মিশন পরিচালিত করেছিলো তা সফল হয়েছে বলে দাবি – ইজরায়েল।
এখন কি হতে চলেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হারিয়ে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতেপারে। ইতিমধ্যে ইরান ৪০ দিনের শোক ও ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করেছে। তাহলে এবার কি শুরু হতে চলেছে – ইরানের প্রতিশোধের পালা :
কিভাবে শুরু হলো যুদ্ধ :
এই সংঘাত হঠাৎ শুরু হয়নি। কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। বিশ্লেষকদের দাবি, ইজরায়েল ও আমেরিকা সুযোগে ছিলো – যেই তারা সুযোগ পেয়েছে, হামলা করে দিয়েছে। কিন্তু আয়াতুল্লাহ খোমেনির কখন, কোথায় অবস্থান করছেন – এই তথ্য সঠিকভাবে ইজরায়েল কিভাবে পেলো এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তাহলে কি ইরানের দেশের শত্রু নাকি ইজরায়েল ও আমেরিকার গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিলো- তা এখন দেখার বাকি। বিশ্লেষকদের মতে, ” নিশ্চিত ভাবে ইরানের ভেতর থেকে নিজেদের কেউ অথবা ইজরায়েল আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা রিয়েল টাইম ডেটা দিয়েছে। যারফলে আক্রমণ সহজ ও সফল হয়েছে। “
মোদি ইসরায়েল সফর ২০২৬: ‘ভারত ইহুদিদের মাতৃভূমি’ বিতর্ক, নেতানিয়াহুর স্বাগত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
হামলার রাত: কী ঘটেছিল?
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইজরায়েল ও আমেরিকার মতে, তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ওপারমাণবিক স্থাপনা।
এই হামলার সময় তেহরানে অবস্থিত খামেনির কম্পাউন্ডেও আঘাত লাগে এবং তিনি নিহত হন।
হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে – আল-জাজিরা।
এই হামলার উদ্দেশ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা হলেও, বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। ইজরায়েল ও আমেরিকার এই হামলা একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানে বলে নিশ্চিত করেছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
এমনকি এই হামলায় ওই বালিকা বিদ্যালয়ে এখানো পর্যন্ত গণমাধ্যমে খবর অনুযায়ী ৪০ ছাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরো অনেকে। সাথে বেসামরিক জনগণ নিহত হবার খবরও সামনে এসেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন অধ্যায়, এখন কী হতে পারে?

ইরানের প্রতিক্রিয়া :
ইরান ঘোষণা করেছে যে, এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ইরান – ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলেছে। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে – কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এমনকি সৌদি আরবেও বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুলো। এসব দেশে থাকা আমেরিকান ঘাটি গুলো ইরানের প্রধান লক্ষ্য।
এখনো পর্যন্ত আশা খবর অনুযায়ী, এই হামলায় এসব দেশর সাধারণ জনগণের জানমালের ক্ষতি হয়েছে। আকাশ পথ ও জলপথ যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। যারফলে রীতিমতো এইসব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অচল হয়ে পড়েছে।
ইরান এসব মুসলিম দেশ গুলোকে ইজরায়েল ও আমেরিকার পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। কিন্তু এ-সব দেশ সরাসরি আমেরিকার পক্ষ হয়ে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব।
সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল : প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধ ঘোষণা অবৈধ
সৌদি আরব সর্বোচ্চ নেতা,” আমেরিকা ও ইজরায়েলের পাশে সবসময় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। কোনো রকম সমস্যা হলে ইজরায়েলের পাশে থাকবে, কাতার, কুয়েত,বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান।
জর্ড়ান তো নিজেদের দেশের আকাশপ্রতিক্ষা মিসাইল দিয়ে ইরানের ছোড়া মিসাইল থামিয়ে দিচ্ছে – যা ইজরায়েলে গিয়ে আঘাত হানার কথা ছিলো।
এখন ইরানের নেতৃত্বে কী হবে?

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খামেনির মৃত্যুর পর একটি ক্ষমতার সংকট তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রক্রিয়া হিসেবে তারা
Assembly of Experts নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। সাময়িকভাবে সরকার ও বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবে। ধারণা করা হচ্ছে – ইরানের IRGC রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কয়েকটি বড় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। যেমন – ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে পুর্নাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে। সাথে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ক্ষমতার লড়াই শুরু হতে পারে।
Watch Video on YouTube Muslim Sangbad
বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব
এই ঘটনার ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে কয়েকটি বড় পরিবর্তন হতে পারে। তারমধ্যে অন্যতম তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন জোট তৈরি হতে পারে। বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে।
অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এটি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় সংকটও যুদ্ধ অবস্থা তৈরি হতে পারে। যা এই এলাকার সাধারণ জনগণের জন্য মোটেও স্বস্থি বয়ে আনবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। সামনে হয়তো বড় আকারের যুদ্ধ, নেতৃত্ব পরিবর্তন অথবা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে।
Muslim Sangbad – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
Source : International media agencies & Muslim Sangbad – Special correspondent



