গাজার পক্ষে জাপানের টোকিওর রাস্তায় হাজার দিনের বেশি প্রতিবাদ করছেন- ইউসুকে ফুরুসাওয়া
টোকিওর ব্যস্ত রাস্তায় চারপাশে মানুষের ভিড়। কেউ কাজে যাচ্ছেন, কেউ ফিরছেন বাড়ি। সেই ভিড়ের মাঝেই হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা ও ‘স্টপ গাজা জেনোসাইড’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে একা দাঁড়িয়ে আছেন ইউসুকে ফুরুসাওয়া। ক্লান্ত শরীর, কিন্তু থামেনি তাঁর কণ্ঠ – ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ এবং ‘কতজন শিশুকে মরতে হবে?’ – এই প্রশ্নই বারবার ছুড়ে দিচ্ছেন পথচারীদের দিকে।
৪৯ বছর বয়সী এই জাপানি কর্মী ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে টোকিওর শিনজুকু ও শিবুয়া স্টেশনের আশপাশে প্রায় নিয়মিতভাবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন। গতকালের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর একক প্রতিবাদের সময়কাল পেরিয়ে গেছে এক হাজার দিন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে তাঁকে রাতে টোকিওর ব্যস্ত এলাকায় হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে প্রতিবাদ করতে করতে তাঁর মধ্যে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হলেও ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা থেকে সরে আসেননি তিনি।
ভারতের আসামে উচ্ছেদ অভিযান: ঘরবাড়ি ভাঙায় তাবুতে হাজারো মুসলিম পরিবার, ভোটাধিকার নিয়েও শঙ্কা
ফুরুসাওয়ার এই প্রতিবাদ শুধু গাজার যুদ্ধের বিরুদ্ধেই নয়; জাপানের সমাজে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে মানুষের নীরব থাকার প্রবণতার বিরুদ্ধেও তাঁর অবস্থান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গাজার পরিস্থিতি তাঁকে ক্ষুব্ধ ও অসহায় করে তুলেছিল। সেই অনুভূতি থেকেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন তিনি।
বৃষ্টি, ঝড় কিংবা শারীরিক ক্লান্তি – কোনোটিই তাঁর দীর্ঘ পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক সমর্থক, যারা তাঁর একক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ফুরুসাওয়ার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সংখ্যায় একা হওয়াকে তিনি প্রতিবাদের দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষায়, “একা হলেও আমি গাজার পক্ষে কথা বলতে থাকব।”
টোকিওর রাস্তায় তাঁর এই একক অবস্থান জাপানের অভ্যন্তরে হয়তো সীমিত পরিসরে দৃশ্যমান। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এটি ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
তাঁর ক্লান্ত চেহারা দেখে অনেকে যেমন তাঁর দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন, তেমনি কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন – গাজার মতো একটি বড় মানবিক সংকটের সামনে বিশ্ববাসীর ভূমিকা কি আরও দৃশ্যমান হওয়া উচিত নয়?
ফুরুসাওয়ার প্রতিবাদ তাই কেবল একজন ব্যক্তির অবস্থান নয় – এটি দীর্ঘস্থায়ী একটি সংকটের সামনে একজন সাধারণ মানুষের নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কথা বলে যাওয়ার প্রতীকও হয়ে উঠেছে।
হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে টোকিওর রাস্তায় তাঁর উপস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে – কখনও কখনও বড় কোনো আন্দোলনের শুরু হয় একজন মানুষের একা দাঁড়িয়ে যাওয়া থেকেই।
Watch Our Video On Muslim sangbad Youtube channel
Source: BBC, al jazeera, cnn




