যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার স্পেনের সঙ্গে “সকল বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন” করার হুমকি দিয়েছেন। এর পেছনে কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, স্পেন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিজেদের ন্যাটো ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি।
বিশেষ করে – রোটা নৌঘাঁটি ও মোরন বিমানঘাঁটি। এই দুই ঘাটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার জানিয়েছে স্পেইন। ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎজের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, “আমরা স্পেনের সঙ্গে সকল বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। স্পেনের সঙ্গে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।”
তিনি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে নির্দেশ দিয়েছেন স্পেনের সঙ্গে “সকল লেনদেন বন্ধ” করতে। ট্রাম্প আরও বলেন, “স্পেন বলেছে আমরা তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারব না। ঠিক আছে, আমরা চাইও না। আমরা চাইলে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারতাম, কেউ বাধা দিতে পারত না। কিন্তু তারা অবাধ্য ও অসহযোগী।”

ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটগত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাচ্ছে। এই অভিযানকে অনেকে “অপারেশন এপিক ফিউরি” বলে উল্লেখ করছেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই হামলাকে “একতরফা ও বিপজ্জনক” বলে নিন্দা করেছেন। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবলেস স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, “রোটা ও মোরন ঘাঁটি দিয়ে শুধুমাত্র জাতিসংঘ-সমর্থিত বা আন্তর্জাতিক আইনসম্মত অভিযানে সহায়তা দেওয়া যাবে।
কোনো ব্যক্তিগত যুদ্ধে আমরা আমাদের ঘাঁটি গুলো ব্যবহার করতে দিবোনা। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই অভিযান তার আওতায় পড়ে। ইরানের সাথে যুদ্ধ জাতিসংঘ সমর্থিত নয়। এজন্য আমরা আমেরিকার নিজের স্বার্থের জন্য ব্যবহৃত হবোনা।”
মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে ১৫টি বিমান সরিয়ে নিয়েছে। যারমধ্যে আছে রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার রয়েছে। যারফলে স্পেনের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক ক্ষেপে আছে। স্পেন কে রীতিমতো একঘরে করবার চেষ্টা করছে আমেরিকা।
স্পেন ন্যাটো ঘাঁটি দিতে অস্বীকৃতি, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা

ন্যাটো ও প্রতিরক্ষা খরচের এই বিরোধ নতুন ঘটনা নয়। ট্রাম্পের সঙ্গে স্পেনের বিরোধ অনেকদিনের। ট্রাম্প বারবার ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে জিডিপির ৫% প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
স্পেন এই দাবি মানতে অস্বীকার করে আসছে এবং বর্তমানে জিডিপির প্রায় ১.৫-২% এই খাতে ব্যয় করেন। ট্রাম্প এটিকে “ফ্রি রাইডিং” বলে সমালোচনা করেন এবং স্পেনকে “ভয়ংকর মিত্র” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই বক্তব্যের পর, স্পেনের মাদ্রিদ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া এসেছে। স্পেন সরকার বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা বা এমবার্গো আইনি ও অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব।
ফুটবল ম্যাচে রমজানে মুসলিম খেলোয়াড়দের ইফতার, ম্যাচ থামতেই নারাজ দর্শক
স্পেনের অর্থনীতির একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে অলিভ অয়েল, ওয়াইন, ফলমূল, গাড়ি যন্ত্রাংশ ও পর্যটন খাতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণ এমবার্গো হলে স্পেনের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে, তবে ইইউ-এর সমর্থন থাকায় তারা আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্ব প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাবইইউ নেতারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে জার্মান চ্যান্সেলর মেরৎজের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সের সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন।
Watch On You Tube Channel : Muslim Sangbad
মুসলিম-সংখ্যাগরিক দেশগুলো ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেখছে।নবিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ন্যাটো জোটের মধ্যে আরও ফাটল ধরাতে পারে এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে নতুন সংকটের মুখে ফেলতে পারে।
অনেকের মতে, বর্তমানে ট্রাম্প পাগলের প্রলাপ করছেন। যারা ইরানের পক্ষে বা মানবতার পক্ষে থাকছেন। তাদের বিপক্ষে দাড়াচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন৷ ট্রাম্পের বর্তমানে এমন ভাব – সে যা বলবে তাই মানবতা,তাই নিরপেক্ষ মতামত।
কুরআন ও নবী (সা.) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ভাইরাল: মানবাধিকার প্রশ্নের মুখে
তার বিপক্ষে গেলে আনি খারাপ। এজন্য ধীরে ধীরে আমেরিকার বন্ধ দেশগুলোর মধ্যে ফাটল দেখা দিচ্ছে। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে হয়তো একসময় ন্যাটো ভেঙে যেতে পারে।
মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
সূত্র: রয়টার্স, ব্লুমবার্গ, পলিটিকো, বিবিসি, আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম



