সুইডেনের মসজিদের সামনে গুলিবিদ্ধ কোরআন!
সুইডেনের মসজিদের সামনে গুলিবিদ্ধ কোরআন উদ্ধারের অভিযোগ
পশ্চিমা দেশ গুলোতে যেমন দিন দিন ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটছে। ঠিক সেভাবেই দিন দিন ধর্ম অবমাননার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যারা ইসলাম ধর্ম পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রসার ঘটতে দিতে চাইনা। এরই প্রেক্ষিতে, স্টকহোমের গ্র্যান্ড মসজিদে ( স্টকহোম মসজিদ) একটি ধর্ম অবমাননাকর ঘটনা ঘটেছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুসারে, কে বা কারা পবিত্র কুরআনের একটি কপি গুলিবিদ্ধ করেছে। ছয়টি গুলি করে ছয়টি ছিদ্র করে চেইন দিয়ে মসজিদের সিঁড়ির রেলিংয়ে বেঁধে রেখে দিয়েছে । সাথে এই ছিদ্রগুলো ক্রস আকৃতিতে সাজানো ছিলো, বলে জানিয়েছেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
দুর্বৃত্তরা উক্ত কুরআনের উপর আরবি ও সুইডিশ ভাষায় লিখেছে, “Thanks for the visit, but it’s time to go home”। অর্থাৎ ভিজিটের জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু এখন বাড়ি ফেরার সময় হয়েছে। এদ্বারা দুর্বৃত্তরা বোঝাতে চাইছে – তাদের দেশে আর ইসলাম থাকবে না। এখন ইসলামের বাড়ি ফেরা সময় হয়েছে। অর্থাৎ আরব দেশগুলোতে।

অনেকে বলছে, ইসলাম কোনো আরাবিক ধর্ম নয় যে, আরবে ফেরত যাবে। ইসলাম, সমগ্র মানব জাতির হেদায়েত জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। অতএব, ইসলাম সুইডেনে থাক বা আমেরিকায়, সবজায়গায় ইসলামের। তাই ইসলাম তার বাড়িতেই আছে।
মসজিদের চেয়ারম্যান মাহমুদ আল-হালেফি এই ঘটনাকে “ঘৃণামূলক ও বর্ণবাদী” বলে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, সুইডেনে ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদী হামলা দিন দিন বাড়ছে। মুলত ইসলামোফোবিয়ার কারণেই এমনটি ঘটেছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ রোববার – ২১ ডিসেম্বর, এই ঘটনা প্রকাশ করে এবং পুলিশকে অবহিত করে। সুইডেনের পুলিশ এটিকে ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে দেখছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। এই হামলা সুইডেনে কুরআন অবমাননার ঘটনার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে সামনে এলো।

এর আগে, ২০২৩ সালে ইরাকি অভিবাসী সালওয়ান মোমিকা – স্টকহোম মসজিদের সামনে কুরআন পুড়িয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন, যা মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনার ফলে, সুইডেনের ন্যাটো যোগদানে বাধা সৃষ্টি করে। সেই ঘটনার পর থেকেই সুইডেনে ইসলামোফোবিক হামলা বেড়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মোমিকা নিজেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের হামলা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। তারা বলছেন, এটি শুধু ধর্মীয় অবমাননা নয়, বরং বর্ণবাদী মনোভাবের প্রকাশ। এভাবে ধর্ম অবমাননা হলে, যেকোনো সময় ধর্মীয় দাঙ্গা বাঁধতে পারে বলে সচেতন করেছেন।
এ ঘটনার পর, মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা সুইডিশ সরকারের কাছে উক্ত ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা সুইডেনের অভিবাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে। মুসলিম সম্প্রদায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত অপরাধীর দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যদি তারা এমন অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়। তাদের কে বিচারের আওতায় না আনা যায় তাহলে সুইডেনের এমন মনমানসিকতার মানুষের মধ্যে সাহস বেড়ে যাবে। ফলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: Anadolu Agency, TRT World, Shafaqna English, এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষের বিবৃতি


