nepal-mosque-attack-quran-desecration-allegation
নেপালে মসজিদে হামলা ও কোরআন অবমাননার অভিযোগ
এবার নেপালের স্থানীয় বাসিন্দারা, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মসজিদ ভাঙচুর করেছে এবং পবিত্র কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেবার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে আক্রমণকারীরা মুসলিম সম্প্রদায় সদস্যদের, বাড়িঘর লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে,সম্পত্তির ক্ষতি করেছে সাথে লুটপাট করারও অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সুত্র, ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে, অবাক করা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের ধণুশার, সাখুয়া গ্রামে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একদল উগ্র গোষ্ঠী স্থানীয় একটি মসজিদ দখল করছে। লাঠিশুটা দিয়ে মসজিদ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাঙচুর করছে।
ভিডিও করতে থাকা একজনের ওপর আদলা ইট দিয়ে আক্রমণ করা হয়। এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে দুর্বৃত্তরা, যাতে মসজিদের আশেপাশে কেউ যেতে না পারে। একেবারে নিয়ন্ত্রিত ভাবে পুরো মসজিদের এলাকা দখল নেই তারা।

ভিডিও ফুটেজ না পাওয়া গেলেও, স্থানীয় সুত্র বলছে, “মসজিদে প্রবেশ করে তারা ভাঙচুর করেছে। মসজিদের ভেতর থাকা কোরআন, হাদিস, খুদবা দেবার বই সহ সবকিছু পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কি কারণে এই ঘটনার সুত্রপাত ঘটে, তা এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি, কিন্তু অনেকের ধারণা , ” সম্প্রতি মুসলিম নির্যাতনের যে ট্রেন্ড চলছে, তারই বহিপ্রকাশ ঘটেছে এবার নেপালেও।
অনেকের ধারণা, ” ভারতে যেভাবে হিন্দু রাষ্ট্র করবার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে উগ্র গোষ্ঠী গুলো। তারা চাই অখণ্ড ভারত রাষ্ট্র গঠন করতে। যেখানে শুধু হিন্দুরা থাকবে। যেহেতু নেপাল আগে থেকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র, এজন্য সেখানে থাকা সংখ্যালোগু মুসলমানদের ওপর তারাও নির্যাতন শুরু করেছে।
এবার ধনুষায় মসজিদে হামলা এবং পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনার বিরুদ্ধে, নেপালের বিরাটনগরে মুসলিম সম্প্রদায় বিক্ষোভ করেছে, ন্যায়বিচার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। ”

এসময় নেপাল পুলিশ চারিদিক থেকে মুসলিম সম্প্রদায় কে সুরক্ষা দিয়েছে। যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। ভারতের পর এবার নেপালেও এমন ঘটনা ঘটা, নেপালের সংখ্যালোগুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তাহলে কি এবার ভারতের মত নেপালও সংখ্যালগু নির্যাতন শুরু করেছে। ঘটনাটি মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় ব্যাপকহারে প্রচার হওয়ার কথা হলেও, এখনো পর্যন্ত তেমনটা দেখা যায়নি। এসম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছে,
”এটা নেক্কারজনক ঘটনা, আমরা এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি, আশাকরি অতিশিগ্রয় ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পারবো। এবিষয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন মিলে থানায় মামলা করেছে বলে জানা ওই পুলিশ কর্মকর্তা। ”
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নাহলে ও ঘটনায় জড়িত সবাই কে শাস্তির আওতায় না আনলে চরম আকারে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে, নেপালের মুসলিম সম্প্রদায়। এই ঘটনার পর সেই মসজিদে আবার আযানের ধ্বনি বেজে উঠেছে। আযানের ধ্বনি থেমে নেই।
Source : BBC news & Special Correspondent


