ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি ইসরায়েল সফরে গিয়ে বলেন, “ইসরায়েল ইহুদিদের পিতৃভূমি। আর ভারত ইহুদিদের মাতৃভূমি।”
এরপর দেশ – বিদেশে শুরু হয়েছে আলোচনা, সমালোচনা এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। চলুন আজকের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানি :
সফরের মূল বক্তব্য
মোদি বলেন, ভারত ও ইসরায়েল চরম বন্ধু। তিনি বলেন, “আগে বন্ধু ছিলাম। এখনো আছি। ভবিষ্যতেও থাকবো।” আমাদের বন্ধুত্ব কোনোদিনই শেষ হবেনা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছে । এই অগ্রগতিতে ইসরায়েলের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে। মোদি ইসরায়েলকে বলেন, “টেকনোলজি মহাগুরু।”
ফিলিস্তিনের ওয়েস্ট ব্যাংকে ৪০ বছরের বাসিন্দাকে ২ ঘণ্টার উচ্ছেদ নোটিশ, ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি মন্ত্রী

স্বাগত ও নেতানিয়াহুর মন্তব্য
মোদি যখন ইসরায়েলে পৌঁছান, তখন তাকে স্বাগত জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু।নেতানিয়াহু নিজে এসে মোদিকে আলিঙ্গন করেন এবং “আমার বন্ধু” বলে সম্বোধন করেন। এই দৃশ্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
এরপর ইসরাইলের নেসেটে বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল উগ্র ইসলামের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে লড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্য হলো উগ্র ইসলামের মূল ঘাঁটি।
প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ
মোদি জেরুজালেমে একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি ও জল ব্যবস্থাপনায় ইসরায়েলি উদ্ভাবন দেখেছেন। তিনি ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোকে ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল : প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধ ঘোষণা অবৈধ
কৌশলগত গুরুত্ব
ভারত সরকার বলছে, এই সম্পর্ক কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও কৃষিতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়বে। যারফলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা আরো সুরক্ষিত হবে।

মোদি সমর্থকরা বলছেন, বিশ্ব রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নিতে হলে শক্তিশালী মিত্র দরকার। ইসরায়েল প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় উন্নত। তাই এই বন্ধুত্ব ভারতের জন্য শেষপর্যন্ত লাভজনকি হবে।
সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া
বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা হচ্ছে, ভারতের ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান ছিল অথবা নিরেপক্ষ ভুমিকা ছিলো। এখন সেই নীতি পরিবর্তন হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইসরায়েলের নীতি সমালোচনা করে আসছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিরপেক্ষ থাকা জরুরি। অন্যথায় মানবাধিকার প্রশ্নে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ উঠতে পারে।
মোদি ইসরায়েল সফর ২০২৬: ‘ভারত ইহুদিদের মাতৃভূমি’ বিতর্ক, নেতানিয়াহুর স্বাগত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক প্রভাব
এই সফর শুধুমাত্র কূটনৈতিক নয়। এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। ভারত নিজেকে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সেই কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা।
তবে মুসলিম বিশ্বে এই সম্পর্ক কিভাবে দেখা হচ্ছে, সেটিও বড় প্রশ্ন। কারণ ভারতের অনেক শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে কর্মরত রয়েছে। এসব মুসলিম দেশগুলো যদি, ভারতের শ্রমিকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেন তাহলে ভারত অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়বে।
এমনিতেই ভারতে দিন দিন বেকারত্বের হার বেড়েই চলেছে। এরমধ্যে যদি নিষেধাজ্ঞা আসে তাহলে ভারতকে বিপদে পড়তে হবে। আবার ভারতের বেশিরভাগ তেল আসে ইরান থেকে, আর ইরান ও ইজরায়েলের সম্পর্কে মোটেই ভালো নয়।
এজন্য যদি ইরান ভারতের কাছে তেল বিক্রি করা থেকে বিরত থাকে বা সৌদি, কাতার, কুয়েতের মত দেশগুলো ভারতের বিপক্ষে অবস্থান করে। তাহলে ভারতের অর্থনীতি ধষের মুখে পড়বে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু নেই; স্থায়ী স্বার্থই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ভারত যদি দেখে ইজরায়েল সাথে সম্পর্ক তাদের দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনছে। তাহলে তারা এই অবস্থান থেকে ঘুরে দাড়াতে পারে।
কিন্তু এরজন্য দরকার মধপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর একত্রে হওয়া – যা অনেকটা অসম্ভব। এজন্য ভারত নিশ্চিন্তে ইজরায়েলের সাথে সম্পর্ক রাখছে। এখন ভারত – ইসরায়েল সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা সময় বলে দিবে।
Muslim Sangbad – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
Source: TRT World, Middle east eye & Muslim Sangbad – Special correspondent



