ভারত: ভারতে মেঘালয়ের গারো হিলস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলনির্বাচনকে ঘিরে উদ্ভূত জাতিগত সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, চিবিনাং বাজারসহ আশপাশের এলাকায় মব জনতা মুসলমানদের দোকান ও বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
রাজ্য সরকার নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সহিংসতা শুরু হয় ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে – যেখানে GHADC নির্বাচন যা মূলত ১০ এপ্রিল নির্ধারিত হয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে একটি বিতর্কিত নোটিফিকেশন জারি করা হয়, যাতে প্রার্থীদের জন্য ST (Scheduled Tribe) সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়।
এটি কার্যত অ-উপজাতি অর্থাৎপ্রধানত সমভূমি অঞ্চলের বাঙালি ভাষী মুসলিম প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করে। প্রাক্তন ফুলবাড়ি বিধায়ক এস জি এসমাতুর মোমিনিন, তিনি একজন বাঙালি মুসলিম নমিনেশন দাখিল করতে যায়।
তিনি নমিনেশন দাখিল করতে তুরায় গেলে, গারো গোষ্ঠীর প্রতিবাদকারীরা তাঁকে আক্রমণ করে। এরপর এসমাতুনের সমর্থকরা চিবিনাং- এ জড়ো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
ভারতের মেঘালয়ে নির্বাচনকে ঘিরে সংঘর্ষ: নিহত ২, বহু দোকান ও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

গারো সম্প্রদায়ের মব চিবিনাং বাজারে, যেখানে অধিকাংশ দোকানদার বাঙালি-উৎসের মুসলিম সেখানে আগুন লাগিয়ে দেয়। প্রায় ৩০টির বেশি দোকান ও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিশোধমূলকভাবে গারো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এর অফিস পোড়ানো হয়। তুরা শহরেও গাড়ি-ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা ঘটে; কিছু প্রতিবেদনে তুরা জামে মসজিদে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের ভিডিও বর্তমানে সোসিয়াল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তুরা মসজিদে হামলা হয়েছে। আমাদের Muslim Sangbad এর৷ ফেসবুক পেজে এই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। চাইলে দেখতে পারেন।
ভাইরাল ভিডিওতে আগুনের দৃশ্য দেখা যায়, যা মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়।
যেখানে নিহত দুইজন বাঙালি মুসলিম – খায়রুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম তারা চিবিনাং-এর বাসিন্দা। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুসারে একজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং অন্যজন দেশীয় বন্দুকের গুলিতে মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যু গ্রুপ ক্ল্যাশের মধ্যে ঘটেছে এবং তাদের গুলিতে নয়। সাথে ঘটনায় এপর্যন্ত প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার আগে, একজন গারো নেতা মুসলমানদের বিপক্ষে কটুক্তি মুলক বক্তব্য দেন। যা ঘটনার প্রধান স্পার্ক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই নেতা বলেন, ” এটা মেঘালয়, এখানে আর আল্লাহু আকবর স্লোগান চলবে না। আপনারা বাংলাদেশী, বাংলাদেশে যান।”
ভারতের পুনেতে মুসলিম যুবককে জোর করে গোবর খাওয়ানোর অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
এই বক্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, তারপর থেকে একে একে সহিংসতার বিভিন্ন খবর সামনে আসতে শুরু করে। ঘটনার পর এই নেতার সাথে কি হয়েছে, তা এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি।
সরকারি প্রতিক্রিয়া: পশ্চিম গারো হিলস জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। গারো হিলসের পাঁচটি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট স্থগিত করা হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও CRPF মোতায়েন করে ফ্ল্যাগ মার্চ করা হচ্ছে।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা (NPP) ১১ মার্চ GHADC নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন এবং সবাইকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। শিলং মুসলিম ফোরাম মসজিদ হামলার তদন্ত চেয়ে সিএম-কে চিঠি দিয়েছে।
ভারতে বজরং দল কর্মীর হাতে ৩ মুসলিম বৃদ্ধ লাঞ্ছিত: অভিযুক্ত অক্ষয় সিং গ্রেপ্তার
কিন্তু মেঘালয় হাইকোর্ট পরে ST সার্টিফিকেট নোটিফিকেশন প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে খারিজ করে দিয়েছে। যা নিয়ে আবারও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুসলমানদের দাবি, ঘটনার স্পষ্ট ভিডিও প্রামাণ থাকার স্বত্তেও কেন খারিজ করা হলো।
GHADC ভারতের ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে গারো উপজাতিদের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করে। সমভূমি বেল্টে বাঙালি মুসলিম বসতি ও জমি-রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা রয়েছে।
গারো গোষ্ঠীগুলো অ-উপজাতি অংশগ্রহণকে ‘উপজাতি অধিকার হরণ’ বলে দেখছে, অন্যদিকে অ-উপজাতিরা এটিকে বৈষম্যমূলক বলছে। বিজেপি ‘বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী’দের দায়ী করেছে।
মেঘালয় পুলিশের ডিজি ও জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কারফিউ আংশিক শিথিল করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্ব।
এই ঘটনা মেঘালয়ের জাতিগত ফল্টলাইন ও স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের রাজনীতিকে আবারও তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উভয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Muslim Sangbad – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
Source: Indian Media Agencies & Muslim Sangbad Special correspondent.



