প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা ফিলিস্তিন!
একের পর একপ্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা ফিলিস্তিনিবাসী
ইজরায়েল ফিলিস্তিন যুদ্ধ ফিলিস্তিনের নাজেহাল অবস্থা। এবার মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে আবির্ভাব হয়েছে ঝড়,বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত গাজা উপত্যকাজুড়ে আঘাত হেনেছে প্রবল ঝড়ো বৃষ্টি ও বন্যা। এই বন্যা ঝড়ে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির তাঁবু পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্টর্ম বাইরন নামে পরিচিত এই ঝড়ের ফলে খান ইউনিস, রাফাহ, দেইর আল-বালাহ ও জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরগুলোতে পানি কোমর পর্যন্ত উঠে এসেছে।তাঁবুতে থাকা বিছানা, কম্বল, খাবার ও ওষুধ সব ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড় পানিতে হজবড় অবস্থা তাদের।
এমন অবস্থার অনেক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ-সব ভিডিও গুলোতে দেখা যাচ্ছে, অন্ধকারে হলুদ রেইনকোট পরা এক বাবা তার নবজাতক শিশুকে বুকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, চারদিকে শুধু পানি আর পানি।

আরেকটি ভিডিওতে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, মেরুন হিজাব পরা এক নারী হাঁটু পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে বালতি দিয়ে তাঁবুর ভেতরের পানি বাহির করার চেষ্টা করছেন।
দেইর আল-বালাহে গাধার গাড়ি দিয়ে পর্যন্ত লোকজনকে উদ্ধার করতে দেখা গেছে। সোসিয়াল মিডিয়া এমন অনেক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যা মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তখরণ করছে। এমন ভিডিও আপনি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে দেখতে পারেন।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। তাদের জন্য প্রয়োজন ৩ লাখ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু ও আশ্রয় ইউনিট। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এই সংখ্যা একটুও কমেনি।
সুত্র বলছে, উল্টো ইসরায়েলি অবরোধের কারণে তাঁবু, প্লাস্টিক শিট, কম্বল ও জ্বালানির সরবরাহ প্রায় বন্ধ হবার অবস্থা। ফলে প্রতি বছর শীত ও বর্ষায় এই শিবিরগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, বন্যার পানির সঙ্গে পয়ঃনিষ্কাশন মিশে যাচ্ছে। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার নোংরা পানি ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ প্রবল আকারে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর যারফলে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করছে, গাজায় এই মুহূর্তে যে পরিমাণ তাঁবু ও শীতের জিনিসপত্র প্রয়োজন, তার মাত্র ১০-১৫ শতাংশই সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে প্রকৃতির এই আঘাত যুদ্ধ ও অবরোধের সৃষ্ট বিপর্যয়কে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী কার্যালয় (OCHA) আবারও আহ্বান জানিয়েছে, গাজায় অবিলম্বে মানবিক সাহায্যের প্রবেশাধিকার দেওয়া হোক এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হোক।

যাতে শীতের আগে মানুষের মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বরং প্রকৃতি ও ইজরায়েল উভয় মিলে ফিলিস্তিনের, বিশেষ করে গাযা উপত্যকার তছনছ করে দিচ্ছে।
সুত্র : Palestine News, Al Jazeera, Middle east eye & Special correspondent


