এপস্টাইন ফাইলে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের ছবি: সত্য নাকি রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল?

এপস্টাইন ফাইলে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স

এবার, যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের ম্যানহাটন মেনশনের ভিতরে পাওয়া গেলো সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ছবি। এপস্টাইন এর সাথে তার একটি ফ্রেম করা ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। আসার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। 

এই ছবিটি প্রকাশিত হয় নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে। যা এপস্টাইনের মেনশনের অভ্যন্তরীণ ছবি এবং বিবরণ প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুসারে, এপস্টাইনের অফিসে এমবিএস-এর সাথে তার ছবিটি বিশিষ্টভাবে প্রদর্শিত ছিল।

এপস্টাইনের এই মেনশনে আরো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছবি পাওয়া যায়। যার মধ্যে অন্যতম – সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিচার্ড ব্র্যানসন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। 

এপস্টাইন ফাইলে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স

এপস্টাইন ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন।  কিন্তু তার যৌন পাচারের অভিযোগ এবং বিশ্বের শক্তিশালী ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। “যদিও মার্কিন কর্তৃপক্ষ একে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেছে, তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ ও বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান।”

সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টাইনের শেষ জীবনের বছরগুলোতে ২০১৭ – ২০১৯ । তিনি সৌদি আরবে একাধিকবার ভ্রমণ করেছিলেন  এবং সৌদি রাজপরিবারের সাথে যোগাযোগ   করতেন নিয়মিত। 

২০১৮ সালের এপ্রিলে, এপস্টাইন সাবেক ট্রাম্প উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননকে একটি টেক্সট মেসেজ করে বলেছিলেন। এমবিএস লুভর মিউজিয়ামে ৪০০ গার্ড নিয়ে একা আছেন, এবং তিনি সেখানে যাচ্ছেন। এরপরেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এমবিএস – এর সাথে লুভরে ছবি পোস্ট করেন। ” কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটি যোগাযোগের ইঙ্গিত হতে পারে “

এপস্টাইন ফাইলে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স

এই এপস্টাইনের সাথে প্রিন্স সালমানের যে যোগাযোগ ছিলো, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, প্রিন্স সালমান কে এপস্টাইন ফাইলের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নানা মহলে, নানা রকম আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। 

“কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করছেন, তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রামাণ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।” 

যেমন, ” হয়তো বা সালমান বিন কে হানিট্রাপে ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র এজন্য তিনি তাদের বিপক্ষে কথা বলতে সাহস পেত না।” যারফলে ফিলিস্তিন, জর্ডান এবং ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের কষ্টের জন্য তাকে দায়ি করা হচ্ছে। 

এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ( সাবেক টুইটার) এ চরম সমালোচনা হচ্ছে। চলুন নিচে কিছু মন্তব্য দেখে নেওয়া যাক, 

@anthon7yandrews নামক একটি এক্স হ্যান্ডেল 

লিখেছেন, ” এপস্টাইনের একটি বাসায় এমবিএস-এর ছবি পাওয়া গেছে এবং তার একটি নকল পাসপোর্টে ঠিকানা সৌদি আরব দেখানো হয়েছে।”

@anthon7yandrews নামক একটি এক্স হ্যান্ডেল 

লিখেছেন, “এমবিএস জ্যারেড কুশনারের সাথে ঘনিষ্ঠ এবং এপস্টাইনের সাথে তার ছবি তার বাসায় বিশিষ্টভাবে রাখা ছিল। তাদের ভেতর সম্পর্ককে নির্দেশ করে।”

@_whitneywebb নামক একটি এক্স হ্যান্ডেল 

লিখেছেন, ” এই বিতর্ক ওয়াহাবিজম নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সেক্টরিয়ান টেনশনকে উস্কে দিয়েছে।” মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “সৌদি নেতৃত্বের ইসরায়েল – মার্কিন যোগাযোগ এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে নীরবতা এই সমালোচনার মূল কারণ।”

ল’ওরিয়েন্ট টুডে – এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই ছবি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে সৌদি আরবের গাজা যুদ্ধে নীরবতা নিয়ে সমালোচনা বেড়েছে।

today.lorientlejour.com লিখেছেন, “এপস্টাইনের সৌদি যোগাযোগের গভীরতা এপস্টাইনের সৌদি যোগাযোগ শুধু এমবিএস-এর সাথে সীমাবদ্ধ নয়। তার মেনশনে সৌদি রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের ছবিও পাওয়া যায়, যেমন প্রিন্স তুর্কি বিন আবদুল্লাহ।”

@WeWantTheRealTr নামক একটি এক্স হ্যান্ডেল 

লিখেছেন, “রেডডিট এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে আলোচনা হয়েছে যে, এপস্টাইনের সাথে সৌদি রাজপরিবারের যোগাযোগ ব্ল্যাকমেল নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে।”

এই ঘটনা মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব এবং বহির্বিশ্বের শক্তির সাথে সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিপথের একটি প্রতীক।” 

“এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য ও বিশ্লেষণগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজস্ব মতামত। এগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।”

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর


Source : Multiple x Account, NY Times, BBC, Al Jazeera & Special correspondent, Muslim Sangbad 

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।