আসাম,ভারত: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে করে আসামের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ও জমি উদ্ধার ইস্যুকে সামনে এনেছে বিজেপি। এই বিষয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতারা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
১৬ মার্চ কামরূপ জেলার খানাপাড়ায় বড় জনসভাযর আয়োজন করা হয়। সেখানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্বশর্মা এবং ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ইস্যুতে কঠোর বক্তব্য দেন।
সভায় উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থকের সামনে দুই নেতা দাবি করেন, বিজেপি আবার ক্ষমতায় এলে আসামসহ সারা দেশে ‘অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আসামের জমি কোনোভাবেই অবৈধ বাংলাদেশী মুসলমান দখল করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, রাজ্যের ভূমি ও সম্পদ রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বহু জমি উদ্ধার করেছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ সংখ্যালগু মুসলমানদের ঘরবাড়ি বুলডোজারের মাধ্যমে ভেঙে দাওয়াকে স্বরণ করাচ্ছে।
আসামে নির্বাচনী প্রচারে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বিজেপির, উচ্ছেদ অভিযান জোরদারের হুঁশিয়ারি

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১.৫ লক্ষ বিঘা বা প্রায় ৫০ হাজার একর জমি অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করা হয়েছে। যা বাংলাদেশী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা দখল করে রেখেছিল।
তিনি জানান, পরবর্তী পর্যায়ে আরও প্রায় ৫ লক্ষ বিঘা জমি দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এসব জমি সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
জনসভায় তিনি আরও বলেন, যদি কেউ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতের মেঘালয়ে নির্বাচনকে ঘিরে সংঘর্ষ: নিহত ২, বহু দোকান ও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
একই সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উচ্ছেদ অভিযানের প্রশংসা করেন এবং রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানান।
তিনি বলেন, বিজেপি সরকার পূর্বে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল – আসামকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার – তা বাস্তবায়নের পথে ইতোমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে।
অমিত শাহ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বিজেপিকে আবার ক্ষমতায় আনার সুযোগ দিয়ে দেখেন। কিভাবে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি উল্লেখ করেন যে ধুবড়ি, বরপেটা, দরং, মরিগাঁও, বঙাইগাঁও, নগাঁও ও গোলপাড়া জেলায় এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম বসবাস করে।
শাহের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে কংগ্রেস সরকারের সময় অনুপ্রবেশের বিষয়টি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়নি এবং এটি ভোটব্যাংকের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল।
আসামের ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকের ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকে এই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
বিজেপি সরকার ২০২১ সালের পর থেকে বনভূমি, সংরক্ষিত এলাকা এবং সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
সরকারের দাবি, এসব অভিযানের মাধ্যমে বহু জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতের পুনেতে মুসলিম যুবককে জোর করে গোবর খাওয়ানোর অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
সম্প্রতি হাইলাকান্দি জেলায় একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। সেই উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৯১২ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসন দাবি করেছেন।
তবে এই উচ্ছেদ অভিযান ও নির্বাচনী বক্তব্য নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, এসব অভিযানে মূলত বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম সম্প্রদায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকরাও সমস্যার মুখে পড়ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অঞ্চলে বাঙালি মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। বিজেপি সরকার, ক্ষমতায় থাকার জন্য মুসলমানদের ওপর অত্যাচার করে। তাদের জমিজায়গা দখল করে স্থানীয় হিন্দু নেতাদের দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
Sources: Indian Media Agencies



