ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আমেরিকান সৈন্যদের বিদ্রোহ! সিনেটে উত্তাল প্রতিবাদ

ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আমেরিকান সৈন্যদের বিদ্রোহ! সিনেটে উত্তাল প্রতিবাদ

একের পর এক আমেরিকান সৈন্য ইজরায়েলের বিপক্ষে কথা বলছেন। সাবেক মারিন কর্মকর্তার পর এবার সাবেক সেনাবাহিনী ২ জন অফিসার আমেরিকার সিনেটে গাজায় গণহত্যা বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। তাদের মুল বক্তব্য আমেরিকা আর ইজরায়েলের কথায় চলবেনা। সাথে ইরান ও গাজায় গণহত্যা বন্ধ করা অনুরোধ জানায়। 

আমেরিকা ইজরায়েলের সাথে মিলে ইরানে আক্রমণ করে। যারফলে শুরু হয়েছে ইরান আমেরিকা যুদ্ধ। ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে ইরানের ১২০০ বেশি সাধারণ জনগণকে হত্যা করেছে আমেরিকা ইজরায়েল। সাথে ইতিমধ্যে গাজায় প্রবল গণহত্যা চালিয়েছে ইজরায়েল। 

এসবের পেছনে সবচেয়ে বড় হাত আমেরিকার। তাদের নিজেদের স্বার্থ না থাকলেও বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ইজরায়েলের দিয়ে সাহায্য করেছে। ইজরায়েলের বিপক্ষে কথা বললে তাদের সাথে আমেরিকা যুদ্ধ করেছে। 

ইজরায়েলের সামনে ঢাল হয়ে দাড়িয়েছে আমেরিকা। ইজরায়েলের সকল অপকর্মকে বৈধ করেছে আমেরিকা। গাজায় পরক্ষভাবে গণহত্যায় সাহায্য করেছে। যদি কোনো মুসলিম দেশ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের বিপক্ষে ইজরায়েলের আগেও আমেরিকা দাড়িয়েছে। 

ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আমেরিকান সৈন্যদের বিদ্রোহ! সিনেটে উত্তাল প্রতিবাদ

এখন দুনিয়া দর মানুষ বোঝতে পারছে, আসলে আমেরিকা ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণ করছে না। বরং ইজরায়েল আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ করছে। ইজরায়েলের লাভের জন্য আমেরিকাকে নিজেদের মত করে ব্যবহার করছে ইজরায়েল। 

আর এসব তথ্য ধীরে ধীরে সবার সামনে আশায়, দেশপ্রেমিক কিছু আমেরিকান সৈন্য ইজরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান করছে। তাদের স্পষ্ট দাবি, ” আমরা ইজরায়েলের জন্য আর যুদ্ধ করবো না, আমাদের ছেলেমেয়েরা ইজরায়েলের জন্য প্রাণ দিবেনা। তারা প্রাণ দিলে শুধু আমেরিকার জন্য প্রাণ দিবে।”

৫ মার্চের ঘটনা, আমেরিকান একজন সাবেক মারিন অফিসার, আমেরিকার সেনেটে প্রতিবাদ করেন। যা বিশ্ব মিডিয়ায় মিডিয়ায় ব্যাপক আকারে ভাইরাল হয়। সেই প্রতিবাদ, ওই সৈন্যর হাত পর্যন্ত ভেঙে দেয়, আমেরিকার নিরাপত্তা কর্মীরা। 

ইরানে কেন হামলা করলো আমেরিকা? ট্রাম্পের পরিকল্পনা কি ব্যর্থ হচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামবে

তার বক্তব্য ছিলো, “আমরা আর ইজরায়েলের হয়ে যুদ্ধ করবো না। আমরা ইজরায়েল হয়ে সামরিক অভিযান চালাবো না।” তিনি আরো বলেন, ” গাজায় গণহত্যা বন্ধ করেন, ফ্রি ফিলিস্তিন।”

ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আমেরিকান সৈন্যদের বিদ্রোহ! সিনেটে উত্তাল প্রতিবাদ

তার এই বক্তব্য ভাইরাল হবার পর, দেশপ্রেমিক অনেক আমেরিকান সৈন্যদের ইজরায়েলের বিপক্ষে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। তারমধ্যে অন্যতম একজন নারী সেনাবাহিনী।

watch our youtube channel

তিনি বলেন, “যারা আমার এই বার্তা দেখছেন, সেসব আমেরিকানদের বলছি। এখান আর ঘরে বসে থাকার সময় নয়। আপনারা স্পষ্ট দেখতে পারছেন, আমাদের রাজনীতিবীদেরা দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। তারা ইজরায়েলের হয়ে গোলামি করছে।”

তিনি আরো বলেন, “কোনো আমেরিকান চাইনা ইজরায়েলের হয়ে ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে। কোনো আমেরিকান ইরানের সাথে যুদ্ধ চাই। আমাদের সরকারের কাছে জবাব দিহীতা চান, তারা কেন ইরানের সাথে যুদ্ধ করছ৷ এটা কি আমেরিকার জন্য নাকি ইজরায়েলের জন্য।”

এমন অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “এটা একটি ধর্মীয় যুদ্ধ। এখানে আমরা ইসলামের বিপক্ষে লড়াই করছি। আমরা দুনিয়া থেকে উগ্র মুসলমানদের শেষ করবো।”

ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আমেরিকান সৈন্যদের বিদ্রোহ! সিনেটে উত্তাল প্রতিবাদ

যেহেতু যুদ্ধের কোনো কারণ দেখাতে পারিনি ট্রাম্প এজন্য সে ধর্মের আশ্রয় নিয়েছে। তিনি ৬ মার্চ তার ওভাল ভবনে খ্রিষ্ঠানদের পাদ্রিদের ঢেকে আনেন। তাদের দিয়ে খ্রিষ্টানদের পুরনো নীতি অনুসারে যুদ্ধের আগে প্রার্থনা করে

ইসরায়েল আসলে কী চায়? মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পেছনের কৌশল বিশ্লেষণ

এই ভিডিও ভাইরাল হবার পর, এখন সবাই এটাকে ধর্মীয় যুদ্ধ হিসেবে মেনে নিয়েছে। এর পেছনে যাই কারণ থাকুক না কেন বর্তমানে আমেরিকা ও ইজরায়েল এটাই দেখানোর চেষ্টা করছে।

এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা একডজন আলেম ইহুদি খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাদের দাবি, “সময় এসেছে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার, সময় এসেছে জিহাদ করার।”

কিন্তু ইরান বাদে আরবের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর দাবি,” ইজরায়েল ও আমেরিকা সঠিক কাজ করছে। তারা বিশ্ব থেকে উগ্র মুসলমানদের উচ্ছেদ করতে চায়।” এই অভিযানে তারা আমেরিকার সাহায্য করবে।

মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর


Sources: বিবিসি নিউজ, আল জাজিরা, রয়টার্স, মিডেল ইস্ট আয়, আরব নিউজ ও মুসলিম সংবাদ বিশেষ প্রতিনিধি।

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।