অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের H2 এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনি দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ

H2 এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনি দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের H2 অংশে দোকান সাময়িক বন্ধের নির্দেশ, ভিডিও প্রকাশে আলোচনা ,অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের H2 অংশে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনি দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট একটি সড়কে ইসরায়েলি সেটলারদের চলাচল নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঘটনাটি তুলে ধরেছে The Guardian।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র উপস্থিতির মধ্যে ফিলিস্তিনি দোকান মালিকদের ব্যবসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে। 

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের H2 এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনি দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পত্রিকাটির একজন সাংবাদিক এক ইসরায়েলি সেনাসদস্যকে প্রশ্ন করেন, কেন দোকানগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। উত্তরে ওই সেনাসদস্য জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

BREAKING: রমজানে আল-আকসা মসজিদে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সাংবাদিক নিরাপত্তাজনিত কারণে সরে যান এবং পরে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করেন। তবে সেনাসদস্যরা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে সাংবাদিককে ওই এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, ফিলিস্তিনি দোকানগুলো বন্ধ থাকার সময় ওই সড়কে ইসরায়েলি সেটলারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই পরিস্থিতি নতুন নয়। ১৯৯৭ সালে হেবরন শহর প্রশাসনিকভাবে দুই অংশে বিভক্ত হয়। H1 অংশ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এবং H2 অংশ ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

 H2 এলাকায় আনুমানিক ৩০,০০০ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। পাশাপাশি সেখানে কয়েকশ ইসরায়েলি সেটলারও বসবাস করেন। ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়।

অতীতেও বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে H2 এলাকায় চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

সাম্প্রতিক ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশেষ করে সেটলারদের সমাবেশ বা ধর্মীয় কর্মসূচির সময় দোকান বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করা হয়।

মানবিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা United Nations Office for the Coordination of Humanitarian Affairs (OCHA) পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে চলাচল সীমাবদ্ধতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডায় মুসলিম ছাত্রদের নামাজে বাধা: তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সহিংসতা প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হেবরনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসমা আল-শারাবাতি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনি পক্ষের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলিও চলাচল সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ পদক্ষেপটিকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িক নিয়ন্ত্রণকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন।

হেবরনের H2 এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই জটিল নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্দেশনা বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। পরিস্থিতির অগ্রগতি আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

মুসলিম সংবাদ  – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর


Source : The Guardian & Special correspondent,Muslim Sangbad English

Share on Social Media

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।