গত বছরের ১৮ নভেম্বর ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা ক্যাম্পাসে ঘটেছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্ররা ফজরের নামাজ আদায় করবার সময় তাদের হয়রানি ও নামাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ঘটলেও সম্প্রতি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এজন্য বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর স্টেট অ্যাটর্নির অফিস আইনি সিদ্ধান্ত জানায়, যার মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
অভিযুক্তরা হলেন, ক্রিস্টোফার সভোচাক তার বয়স ৪০ বছর, ঠিকানা ওয়াকো, টেক্সাস। রিচার্ড পেনকোস্কি (৪৯, ক্যানিয়ন, ওকলাহোমা) এবং রিকার্ডো ইয়েপেজ (২৮, তাম্পা, ফ্লোরিডা)।

তাদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ দুটি হলো :
১. ধর্মীয় সমাবেশে বাধা দেওয়া
২. অশান্তিমূলক আচরণ।
আর অভিযোগ দুটি, উভয়ই আমেরিকা, ফ্লোরিডার আইনে প্রথম ডিগ্রির মিসডিমিনর হিসেবে বিবেচিত।
ঘটনার দিন,১১ জন ছাত্র ক্যাম্পাসে আয়োজিত ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজরত অবস্থায় অভিযুক্ত তিনজন এসে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করতে থাকে। এমনকি ওই তিন জন ব্যক্তি, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরেও সেখানে উপস্থিত হয়ে নামাজে বাধা দেন বলে, অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্তরা উচ্চস্বরে চিৎকার করে, অশ্লীল ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করেন। তারা বলেন, “তোমরা জাহান্নামে যাবে”, “তোমাদের জিসাস খ্রিস্টের দরকার”, এবং ইরান ও ইরাককে ঘিরে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন ফলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এতেই তারা থেমে থাকেনি – আরও বলেন, “ফিলিস্তিন একটি মুর্খদের রাষ্ট্র”, “তাদের ওপর যা হচ্ছে তারা তার যোগ্য”, এবং “ইসলাম একটি মিথ্যা ধর্ম”- এ ধরনের বিদ্বেষমূলক মন্তব্যও করা হয়।
পুরো ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত আরেক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। নামাজ শেষ হওয়ার পর, তারা শূকরের মাংস প্রদর্শন করে উস্কানি দেন, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।
নামাজ শেষে ছাত্ররা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ শেষ করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারপরেও আমরা শান্ত হয়ে নামাজ সম্পন্ন করি। আমরা এমন ঘটনা একেবারেই আশা করিনি।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে, হেট ক্রাইম হিসেবে বিবেচনা করে চার্জ দায়ের করেছিল। তবে পরে স্টেট অ্যাটর্নির অফিস জানায়, অভিযুক্তদের আচরণ মূলত কথাবার্তা ও প্রতীকী উস্কানির মাধ্যমে হয়েছে। শারীরিক হামলার প্রমাণ না থাকায় হেট ক্রাইম এনহ্যান্সমেন্ট প্রয়োগ করা হয়নি।
ফ্লোরিডা শাখা – অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ধর্মীয় হয়রানি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, কিছু সমালোচক প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনছেন।
ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ – অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ট্রেসপাস অর্ডার জারি করে, তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া বৃদ্ধির, উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেক কমিউনিটি নেতা। জানা গেছে, অভিযুক্ত ক্রিস্টোফার সভোচাকের বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্মীয় উস্কানিমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
মুসলিম কমিউনিটি নেতারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের পরিবেশের জন্যও হুমকি। অভিযুক্তদের আদালতে অ্যারেইনমেন্ট আগামী সপ্তাহগুলোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনেকের মন্তব্য, যদি তারা মুসলিম না হয়ে অন্য ধর্মের হত, তাহলে হয়তো এতদিন বিচার কাজ সম্পন্ন হয়ে যেতে। পক্ষান্তরে, অনেকে বলছে – এমন ঘটনা বিচার হতে একটু দেরি হয়। কারণ কিছু ঘটনায় প্রমাণ জোগাড় করা সময়সাপেক্ষ হয়ে থাকে।
তারপরেও প্রশ্ন থেকে যায়- ভিডিও ফুটেজ থাকার পরেও কেন এতদিন বিচার কাজ শুরু হয়নি। এর পেছনের শক্তি কে উন্মোচন করার দাবি জানিয়েছে অনেকে।
মুসলিম সংবাদ – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
🔔 আরও আপডেট পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসুন।
Source:
University of South Florida (Official Statement)
Hillsborough County State Attorney’s Office
USF Police Department
Council on American-Islamic Relations (CAIR-Florida)



