এবার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিলিয়নিয়ার সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের বিরুদ্ধে এপস্টাইন ফাইলে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি দুবাই সরকারের মালিকানাধীন বৈশ্বিক বন্দর ও লজিস্টিকস জায়ান্ট ডিপি ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও গ্রুপ সিইও পদে নিযুক্ত ছিলেন।
কিন্তু এপস্টাইন ফাইলের সাথে তার নাম যুক্ত থাকার অভিযোগে আহমেদ কে ডিপি ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও গ্রুপ সিইও পদ থেকে “তাৎক্ষণিক কার্যকর” ভিত্তিতে পদত্যাগ করেছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, তার এ পদত্যাগের পেছনে সদ্য প্রকাশিত তথাকথিত “এপস্টাইন ফাইলস”- এ তার নাম উঠে আসাকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

দুবাই সরকারের মালিকানাধীন বৈশ্বিক বন্দর ও লজিস্টিকস জায়ান্ট এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আহমেদ বিন সুলায়েমের জায়গায় – নতুন চেয়ারম্যান এবং গ্রুপ সিইও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।” তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নতুন নথি প্রকাশ করেছেন। এসব নথিতে দাবি করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিলো।
এমনকি এই সময়ে অর্থাৎ ২০০৮ সালে এপস্টাইন যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সত্ত্বেও আহমেদ বিন সুলায়েম ও এপস্টাইনের মধ্যে বহু ইমেইল আদান-প্রদান করা হয়েছিলো।
প্রকাশিত নথিতে যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে :
১. ২০১৫ সালের একটি ইমেইলে ব্যক্তিগত ও অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কিত ভাষ্য।
২. আরেকটি ইমেইলে তথাকথিত একটি “torture video” পাঠানো ও তা নিয়ে কথোপকথনের উল্লেখ, যার বিষয়বস্তু এখনো স্পষ্ট নয়।
৩. এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ – এ সফরে যাওয়ার অভিযোগ এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের ইঙ্গিত।
এই নথি প্রকাশের পর মার্কিন কংগ্রেস সদস্য সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি বিন সুলায়েমের নাম উল্লেখ করে মন্তব্য করেন যে, এ ধরনের যোগাযোগ আর অস্বীকারের সুযোগ নেই।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্দর ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০% কনটেইনার ট্রাফিক পরিচালনা করে।
আহমেদ বিন সুলায়েমের নেতৃত্বে কোম্পানিটি ব্রিটিশ বন্দর অপারেটর – সহ একাধিক বড় অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে। দুবাইয়ের ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ছিল বলে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টাইন-সম্পর্কিত নতুন নথি প্রকাশের ফলে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্বিতীয় দফার চাপ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে পশ্চিমা বিশ্বে আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশে এ ঘটনাকে ঘিরে হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন প্রকাশ্য মুসলিম পরিচয়ের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ মুসলিম সমাজের ভাবমূর্তিকে আঘাত করতে পারে।
অন্যদিকে অনেকে বলছেন, “অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা উচিত।”
এদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিক বড় ধস দেখা না গেলেও, দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির সুনাম ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বে প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এপস্টাইনের মামলার নতুন নথিগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শক্তিশালী ব্যক্তিত্বদের নাম সামনে আসায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসছে।
সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের পদত্যাগ – এই বৃহত্তর বৈশ্বিক কেলেঙ্কারির ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মুসলিম সংবাদ Muslim Sangbad – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদন দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ‘Muslim Sangbad’ সাবস্ক্রাইব করুন।
Source: BBC, The New York Times, The Guardian, 5 pillar



