ভারতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওতে চরমপন্থী হিসেবে পরিচিত গৌরব সিং রাজপুতকে, পবিত্র কুরআন ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায়। তিনি কুরআন নিষিদ্ধ করার দাবিও জানান।
ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। ফলে বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য দ্রুত সামাজিক বিভাজন তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাটিও সেই ধরনের একটি বিতর্ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যা ভারতের মুসলমান সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভিডিওতে যা বলেন গৌরব সিং রাজপুত :
ভিডিওতে গৌরব সিং রাজপুত দাবি করেন, “তিনি কুরআন পড়ছেন কিন্তু এতে ভালো বার্তা নেই বলে তার মন্তব্য।” তিনি বলেন, “কুরআন মানুষকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়।” এমন অভিযোগও করেন তিনি।
ভারত সরকার কর্তৃক, মাদরাসায় কুরআন শিক্ষা জন্য দেওয়া সরকারি সহায়তারও তিনি সমালোচনা করেন। এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই অনুদান বাতিল করার আহবান জানান তিনি।
আরবো বিস্তারিত ভিডিও সহ জানতে Subscribe করুন আমাদের You Tube Channel : Muslim Sangbad
তিনি আরও দাবি করেন,”কুরআনে রাষ্ট্রের আইন মানার কোনো কথা নেই সাথে মুসলমানরা জনসংখ্যা বাড়িয়ে পরে ক্ষমতা নেওয়ার চেষ্টা করে সবসময়। তারপর সেখানে শরিয়া আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকে তাদের। শরিয়া আইন নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন তিনি।

ভিডিওতে তিনি আরো, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন,”নবী ৭ বছরের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা দেখা যায়।
এছাড়া তিনি বলেন, “কুরআন কাফেরদের জন্য এক ভয়ংকর কিতাব। এখানে আমাদের মত কাফেরদের, শক্ত হাতে দমন করার কথা বলা হয়েছে।” কুরআন ছাড়া ইসলাম কিছুই নয়” এমন মন্তব্যও করেন তিনি
তিনি আরও দাবি করেন,”মুসলিম শাসক ক্ষমতায় এলে ভারত একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কুরআনের কারণেই মুসলমানরা ৫৭টি ইসলামিক দেশ গঠন করেছে। কুরআন নিষিদ্ধ না করলে ভারত ভবিষ্যতে “৫৮তম ইসলামিক দেশ” হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।
ভিডিও টি দেখতে ক্লিক করুন এখানে :
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় গ্রন্থের অংশবিশেষ প্রেক্ষাপট ছাড়া ব্যাখ্যা করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, কুরআনে ন্যায়বিচার, সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা নিজ নিজ রাষ্ট্রের আইন মেনে বসবাস করে – এটিও বাস্তবতা। এটা কি তারা দেখে না। নাকো চোখ থাকার পরেও তারা অন্ধ।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সমাজে উত্তেজনা বাড়ায়। তাই এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীল আলোচনা প্রয়োজন। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে সংযত ভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় সহনশীলতা ও মত প্রকাশের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মুসলিম সংবাদ | Muslim Sangbad – মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর
Source : The Muslim, Indian Media agencies & Special correspondent, Muslim Sangbad



