nepal-latest-muslim-news
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অদম্য সাহসে রক্ষা পেল নেপালের মসজিদ | Hridoy Observer | ২৯ জানুয়ারি
রাউতাহাট, নেপাল : নেপালের রাউতাহাটে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখতে, সাহসিকতার এক অনন্য নজির গড়েছেন, এক শারীরিক প্রতিবন্ধী মুসলিম ব্যক্তি। গত মঙ্গলবার রামপুরে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে, উত্তেজিত জনতা স্থানীয় একটি মসজিদে হামলার চেষ্টা করে।
তখন তিনি অদম্য সাহসের সাথে প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতিরোধ করেন। তার এই বীরত্বের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় পবিত্র মসজিদটি।
সম্প্রতি নেপালের রাউতাহাট জেলার রামপুর গ্রামে, ধর্মীয় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে, চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলে অংশ নেওয়া একদল উগ্রপন্থী উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে হঠাৎ স্থানীয় একটি মসজিদের দিকে ধেয়ে আসে এবং হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
যখন চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে, ঠিক তখনই মসজিদের সামনে লাঠি হাতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রুখে দাঁড়ান ওই শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও প্রাণের মায়া ত্যাগ করে তিনি মসজিদের প্রবেশপথে পাহাড়ের মতো অটল দাঁড়িয়ে থেকে হামলাকারীদের বাধা দেন। তার এই অভাবনীয় তেজ ও সাহসিকতা দেখে উত্তেজিত জনতা থমকে যেতে বাধ্য হয়।
এর ফলে বড় ধরনের ধর্মীয় সহিংসতা ও মসজিদের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশ ও শান্তিকামী মানুষ, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ” ওই ব্যক্তির নিঃস্বার্থ অবস্থান শুধু একটি মসজিদকেই রক্ষা করেনি, বরং গোটা গ্রামকে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।” বর্তমানে তার এই বীরত্বের কাহিনী নেপালের সীমান্ত ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে।
সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা তাকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে সম্বোধন করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাহসিকতা শারীরিক সামর্থ্যের ওপর নয়, বরং মনের জোর ও আদর্শের ওপর নির্ভর করে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন, “১০০টি কুকুরের জন্য একটি বাঘই যথেষ্ট।” আবার অনেকের মন্তব্য, “ইমানি জোর থাকলে এভাবেই হাজারো শত্রুকে পরাজিত করা সম্ভব।”
আগে যেমন মুসলিমরা অল্প সৈন্য নিয়ে বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করত, এই ঘটনা যেন তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। অনেকে বলছেন, “সাহস গায়ের জোরে থাকে না, সাহস থাকে মানুষের কলিজায়।”
ঘটনাস্থলে আরও অনেকে উপস্থিত থাকলেও তাদের সাহস হয়নি উগ্রবাদীদের প্রতিরোধ করার, কিন্তু এই শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সেই তেজ ছিল। তার একার সাহসিকতার কাছে উগ্রবাদীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
এমনকি অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীও তার এই বীরত্বকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ” প্রকৃত ধর্ম কখনো সহিংসতা শেখায় না এবং এই ব্যক্তি মানবতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। যারা অন্য ধর্মের উপাসনালয় ভাঙচুর করতে যায়, তাদের মধ্যে প্রকৃত ধর্মের কোনো শিক্ষাই নেই।”
অন্যদিকে, কিছু সমাজ বিশ্লেষক নেতিবাচক দিকটি ইঙ্গিত করে বলেছেন, “একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কেন একা এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়াতে হলো? এটি মূলত ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা এবং সামাজিক অসহিষ্ণুতারই বহিঃপ্রকাশ।”
বর্তমানে রামপুর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
Hridoy Observer – মুসলিমের কথা বলে
Source: Nepal Media Agencies, The Muslim & Special Correspondent, Hridoy Observer.


