ভারত : পরিত্যক্ত ঘরে নামাজ পড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলো ১২ জন মুসলমান। ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্য, মোহাম্মদগঞ্জ গ্রামে উক্ত ঘটনাটি ঘটে। শুধু তাই নয় আর এক গ্রামে দুর্বৃত্তরা রাতের আধারে এসে ইদগা ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। আবার হিজাব পরাই মুসলিম ছাত্রীকে পরিক্ষা দিতে দিলো না, কলেজ কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক মিডিয়া অনুসারে, ভারতে একের পর এক সংখ্যালগুদের ওপর নির্যাতন অভিযোগ উঠে এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
ভারতের রাজস্থানে আলিশা নামে একজন ছাত্রী হিজাব পরার কারণে পরিক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি।
আলিশাকে হিজাব খুলে পরিক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু আলিশা তার হিজাব খুলতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরীক্ষা না দিয়েই ফিরে আসে। সে বলে, ” আমার কাছে সবার আগে পর্দা ও আমার ধর্ম। তারপরে দুনিয়ায় কাজ।

যদি হিজাব পরার দায়ে আমাকে পরিক্ষা দিতে না দেওয়া হয় তাহলে এমন পরিক্ষা দেবার কোনো ইচ্ছে নেই। “
আলিশা একটি ভিডিও বার্তায় এ- সব অভিযোগ করেন। যা এখন সোসিয়াল মিডিয়ায় ভাইরাল। সে তার ওপরের হওয়া এই অন্যায়ের বিচারও চেয়েছেন। তার নাম, ঠিকানা জানান, যাতে এসম্পর্কে কেউ তাকে সাহায্য করতে পারে।
এদিকে, পরিত্যক্ত ঘরে নামাজ পড়ার অভিযোগে, ১২ জন মুসলিম কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১২ জন স্থানীয় মুসলিম যখন এটি পরিত্যক্ত ঘরে জামায়াতের সাথে নামাজ পড়ছিলো। তখন সেই ঘটনা দেখে ফেলে স্থানীয় কিছু হিন্দু। তা দেখে আর সজ্জ হয়নি তাদের। তারা সাথে সাথে পুলিশ ডেকে এনে, তাদের গ্রেপ্তার করায়।
হিন্দুদের দাবি, “এই মুসলমানরা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে নামাজ আদায় করছিলো।”যেহেতু অন্য কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ধর্মীয় কাজ করা নিষেধ এজন্য তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নামাজ পড়া মুসলমানদের দাবি, ” কয়েকজন একসাথে থাকায় যখন নামাজ পড়ার সময় হয়। পরিত্যক্ত ঘর দেখে, তখন আমরা একসাথে সেখানে জামায়াতের সাথে নামাজ পড়তে শুরু করি। কিন্তু এটি পছন্দ হয়নি হিন্দুদের। আমরা কিন্তু নামাজ পড়েই চলে যেতাম। ”
ঘটনাটির সত্যতা জানতে পেরে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে, তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, ” মুলত হিংসার ফলে এমন ছোট খাটো বিষয়ে মামলা করা হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই।” ঘটনাটি ঘটার পর, এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিচার করছে।

আবার ভারতের উত্তর প্রদেশের আগওয়ানপুর গ্রামে, রাতের আধারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা স্থানীয় ঈদগাহে ভাঙচুর চালায়, ধর্মীয় স্থানটির ক্ষতি করে। এই ঘটনাটি বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ” এর আগেও ঈদগাহে একই ধরণের হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
এবিষয়ে স্থানীয় মুসল্লীর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন, কর্মরত পুলিশ অফিসার এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবার আস্সাস দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি,” এর আগেও এখানে এমন ঘটনা ঘটেছে কিন্তু তাদের বিপক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। “
Muslim Sangbad – মুসলিম উম্মাহর কণ্ঠস্বর
Source : India News agencies & Special corresponden



