nepal-minority-security-concern-2026
নেপালের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
মুসলিম উম্মাহ |News ডেস্ক | প্রতিবেদন: হৃদয় মাহমুদ
ভারতের পর, এবার নেপালে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নেপালে একটি মসজিদ দখল করে, দুর্বৃত্তরা পবিত্র কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে দিয়েছিলো। পরে মুসলিম সম্প্রদায় বিক্ষোভ সমাবেশ করলে, রাতের আধারে ড্রাম বাজিয়ে তাদেরকে জীবন নাসের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ নেপালে কি এমন হলো। কেনো নেপালের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে?
ঘটনার সুত্রপাত হয়, ৪ জানুয়ারি নেপালের ধানুশায়। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জানা যায়, “একদল উগ্র গোষ্ঠী একটি মসজিদ ভাঙচুর করেছে। আশেপাশে থাকা মুসলমানদের গালাগালি করেছে। একপর্যায়ে মসজিদের এলাকা সম্পুর্ণ দখল নেই দুর্বৃত্তরা। ভিডিও করতে গেলেও পাথর ছুড়ে আক্রমণ করতে দেখা যায়। “
অভিযোগ উঠেছে, “স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি লুটপাট করেছে করেছে তারা। এমনকি মসজিদের ভেতরে থাকা কোরআন শরিফ ও অন্যান্য হাদিসের বই পুড়িয়ে দিয়েছে। “এবিষয়ে বিস্তারিত ভিডিও আমাদের চ্যানেলে কাভার করা হয়েছে, চাইলে এখানে ক্লিক করে দেখতে পারেন।

এই ঘটনার পর, “নেপালের মুসলিম সম্প্রদায় নেপালের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে তারা, নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর স্লোগান দিয়ে, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। সাথে এই ঘটনার সাথে জড়িত, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। “
বর্তমানে, মসজিদ দখল নেওয়া সেই, এলাকায় স্থানীয় নেপাল সরকার কারফিউ জারি করেছে। যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। কিন্তু এবার ঘটে গেলো সেই অনাকাঙ্খিত ঘটনা। আজ ৭ জানুয়ারী বেরিয়ে এলো একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাতের আধারে কিছু উগ্র হিন্দুত্বাদি গোষ্ঠী, ড্রাম বাজিয়ে ঘোষণা দিচ্ছে।
নেপালের কোনো মুসলিম সম্প্রদায় মানুষের জায়গা হবে না। এখানে শুধু আমরা হিন্দুরা থাকবো। যদি অন্য কেউ থাকে তাহলে তাদের কে হত্যা করা হবে। মুসলিম সম্প্রদায় আল্লাহু আকবর বলায়, দুর্বৃত্তরা জয় শ্রীড়া রাম স্লোগান দিতে দিতে এই ঘোষণা দেই।

সুত্র বলছে, “এমনিতেই এলাকায় কারফিউ জারি আছে, পুলিশ মোতায়েন আছে, তা স্বর্থেও, সংখ্যালগুদের প্রকাশ্যে, এভাবে হত্যার হুমকি। নেপালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতাকে প্রকাশ করে। আবার এও হতে পারে তারাও এর সাথে জড়িত।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর, স্থানীয় নেপাল সরকারের কাছে থেকে কোনো অফিশিয়াল বিবৃতি এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কিন্তু স্থানীয় মিডিয়া বলছে, হুমকি দেওয়া ভিডিও ফুটেজ দেখে চাইলেই পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেন।
এখন কথা হলো, কেন নেপালের হঠাৎ করে সাম্প্রদায়িক ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের মত নেপালেও কি সংখ্যালগু নির্যাতন শুরু হবে। এই উগ্র গোষ্ঠী গুলোর পরিকল্পনাই বা কি? আসলে তাদের লক্ষ্য অখণ্ড হিন্দু ভারত গড়ে তুলা, যা কোনোদিন ছিলোও না। “
ভিডিও ফুটেজ দেখে বোঝা যায়, তারা স্পষ্ট করে বলছে। নেপালে শুধুমাত্র হিন্দুরা ছাড়া, অন্য সম্প্রদায়ের জনগণ থাকতে পারবে না। সাথে জয় শ্রীড়া রাম স্লোগান দিচ্ছে। ঠিক একই রকম দাবি ভারতের উগ্র গোষ্ঠী গুলোরও। এজন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, এরা পরিকল্পিত ভাবে এগুলো করছে। এদের প্রধান লক্ষ্য হিন্দু মুসলিম রাজনীতি করা দলগুলোর ভোটে জয় হতে সাহায্য করা।
এ বিষয়ে সকল ভিডিও এখানে ক্লিক করে
Source : international News agencies & Special Correspondent


