ফিজ কে বাদ দিয়ে ১০০ কোটি হিন্দুর জয় - ভারত
ফিজকে বাদ দিয়ে ভারতের ১০০ কোটি হিন্দুর জয় হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমান কে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারত ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের উগ্র হিন্দুদের কথায় বিমোহিত হয়ে এমন একটি ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।
মুস্তাফিজুর রহমান কে বাদ দেবার পেছনে আসল কারণ কি? ভারত বাংলাদেশের পরাজিত করলো নাকি ইসলাম ধর্মের? বাংলাদেশের পরাজিত করলো নাকি ক্রিকেটের? এর পেছনে আসল কারণ গুড়া সহ তুলে এনেছি আমরা।
Hridoy Observer এর অনুসন্ধানী টিম ভারতের ক্রিকেট বোর্ড, কলকাতা নাইট রাইডার, ভারত সরকার, উগ্র হিন্দুদের বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও দেখে আসল কারণ আপনাদের সামনে তুলে ধরলো :

অনুসন্ধান অনুযায়ী, মুস্তাফিজুর রহমান কে বাদ দেবার প্রধান ও একমাত্র কারণ হলো উগ্র হিন্দুত্ববাদ। বর্তমানে ভারতে বজরং দল,গোরক্ষক, আরএসএস নামে বিভিন্ন উগ্র সংগঠন তৈরি হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ভারত কে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করা।
এরই প্রেক্ষিতে, তারা ভারত জুড়ে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছে। “The Muslim ” নামে, একটি টুইটার হ্যান্ডেলে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের সকল ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছে। আপনারা চাইলে দেখতে পারেন।
যেহেতু তাদের দাবি, হিন্দুরা বিশ্ব শাসন করবে। এজন্য পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য তারা সবসময় হাজির। কিন্তু এটা তারা মুখে বলছে, তাদের মুল লক্ষ্য ভারতের হিন্দুদের সুরক্ষা দেওয়া নয় বরং হিন্দু মুসলিম বিভাজন করে মোদির জন্য ভোট জোগাড় করা।

এরই প্রেক্ষিতে, পাকিস্তানের পর, এবার বাংলাদেশের মুসলমানদের ওপর চড়াও হয়েছে উগ্ররা। কয়দিন আগে বাংলাদেশে দিপু দাস নামে একজন হিন্দু হযরত মুহাম্মদ (স)কে লুচ্চা বলে গালি দেয়। এজন্য উপস্থিত জনতা তাকে হত্যা করে।
এই ঘটনা প্রবল আকারে ছড়িয়ে পড়ে ভারতে। তাদের গোদি মিডিয়া, গোদি আইটি সেল, বাংলাদেশ নিয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করে। এমনকি এআই ব্যবহার করে পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপর ঘৃণা ছড়াতে থাকে। বাংলাদেশে গণহারে হিন্দু হত্যা করা হচ্ছে – এমন এআই জেনারেটেড ভিডিও ভাইরাল করতে থাকে নিজেরাই।
তখন তথাকথিত ওইসব হিন্দু গোষ্ঠী গুলো, বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষা দেবার নাম করে, ভারতের অভ্যন্তরে মুসলিম নিধন শুরু করে। বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গের কোনো বাঙালি ভারতের অন্য প্রান্তে গেলে তাকে বাংলাদেশী তকমা দিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।
এই যখন ভারতের অবস্থা। তখন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমান ভারতের আইপিএলের কলকাতা দলে ৯.২০ লক্ষ রুপিতে সুযোগ পায়। তখনই শুরু হয় মুস্তাফিজুর রহমান কে বয়কট করার ডাক।

কিন্তু এই আবেদন জোরালো হয়, পশ্চিম বঙ্গে আসন্ন নির্বাচন কে সামনে রেখে। পশ্চিম বঙ্গে বিজেপি দলের ভরাডুবি হয় সবসময়, মমতার তৃণমূল দলের সামনে। কিন্তু এবার যাতে, তেমন টি না হয় এজন্য তারা কলকাতা নির্বাচনে হিন্দু মুসলিম খেলার জন্য, মুস্তাফিজুর রহমান বলির পাঠা বানিয়েছে।
নির্বাচন কে সামনে রেখে, প্রচারণা চালানোর দারুন উপায় পেয়েছে। হিন্দু মুসলিম বিভাজন কারী হিসেবে পরিচিত বিজেপি দল। এই কথার প্রমাণ মেলে কলকাতার বিজেপি দলের নেতাদের বক্তব্য ও সোসিয়াল মিডিয়া পোস্ট দেখে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, বাংলাদেশের মুসলমানদের আইপিএলে খেলতে না দিয়ে আজ ভারতের ১০০ কোটি হিন্দুদের জয় হয়েছে। পরাজয় হয়েছে বাংলাদেশের উগ্র মৌলবাদের। এমনকি তারা বাংলাদেশকে সব দিক দিয়ে, বয়কট করবার ডাক দিয়েছে।
তাহলে বোঝা গেলো, এতকিছু নাটকের পেছনে প্রধান কারণ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির ভোট বাড়ানোর জন্য। এই তো গেলো ভারতের অভ্যন্তরে ঘটনা। এখন বাংলাদেশ এ বিষয়ে কি করবে? বা কি করতে পারে? ভারত কি বাংলাদেশ কে সরাসরি অপমানিত করেছে? আবার ক্রিকেটের ওপরেই বা কেমন প্রভাব পড়বে?

এই ঘটনার পরে, বাংলাদেশে ভারতের বিপক্ষে প্রবল প্রতিবাদ দেখা গেছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের বক্তব্য, ভারতের সবকিছু বয়কট করা হোক। বিশেষ করে আইপিএল খেলা যেন, বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেলে দেখানো না হয়। আইপিএল সম্পর্কে কোনো খবর, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ না হয়।
বাংলাদেশ থেকে ইতিমধ্যে ভারতের ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পেজ আনফলো করা হচ্ছে। এমনকি ভারতের অন্যান্য টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ রাখার দাবি উঠছে। সর্বস্তরের ভারত কে বয়কটের ডাক উঠেছে।
বিশেষ করে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক উঠেছে। অনেকে বলছে, ভারত যদি বাংলাদেশের একটি ক্রিকেটারের নিয়ে সমস্যা হয়। যদি একটি ক্রিকেটারের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম না হয়। তাহলে কিভাবে কয়দিন পরে অনুষ্ঠিত হতে চাওয়া টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্পুর্ণ বাংলাদেশ কে সুরক্ষা দিবে।
এজন্য বাংলাদেশের উচিত ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া। পাকিস্তান যেমন নিরপেক্ষ ভেনুতে শ্রীলংকায় বিশ্বকাপ খেলবে, ঠিক সেভাবে বাংলাদেশেরও উচিত নিরপেক্ষ ভেনু চাওয়া।

এরই প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে বোর্ড আইসিসির কাছে একটি চিঠি লিখেছেন, চিঠিতে সঠিক কি লেখা আছে, তা এখনো প্রকাশ না হলেও, অনেকের ধারণা, চিঠিতে বাংলাদেশের জন্য নিরপেক্ষ ভেনু চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সরকারের ক্রিয়া উপদেষ্টা, ভারতের মাটিতে খেলতে নিষেধ করেন ও আইপিএল যেন বাংলাদেশে সম্প্রচার না হয় এজন্য অনুরোধ করেছেন। সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এখন দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড কি সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। আইপিএল সহ ভারতের সকল পণ্য বয়কট করা হবে।

এ নিয়ে অনেকে বলছে, তাহলে বাংলাদেশ যে ভারত থেকে জিনিসপত্র আমদানি করে তার কি হবে। এবিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত, আমাদের দরকার হলে নিবো। তখন বাংলাদেশের স্বার্থ দেখা হবে। কিন্তু একচেটিয় ভাবে বাংলাদেশের বাজার যেভাবে ভারত দখল করে আছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
যাইহোক, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় হোক বা ভারতের, একপক্ষের হার নিশ্চিত বোঝায় যায়। আর সেই পক্ষ ভারত বা বাংলাদেশ নয় বরং ক্রিকেট। ভারতের একচ্ছত্র দাদা গিরির জন্য কলঙ্কিত হচ্ছে ক্রিকেট। এভাবে চললে ক্রিকেট কোনোদিন গ্লোবাল স্পোর্টস হতে পারবে না বলে মন্তব্য করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।
Source : international News agencies & Special Correspondent,


