Jackie Chan
গাজার শিশুদের দেখে কাঁদলেন : জ্যাকি চ্যান
হংকং এর বিশ্ববিখ্যাত অ্যাকশন তারকা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা জ্যাকি চ্যান – সম্প্রতি এক ইন্টারভিউয়ে, গাজার শিশুদের দুর্দশা নিয়ে গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে তার আসন্ন চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে, তিনি একটি ভিডিও ক্লিপের কথা উল্লেখ করে, কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিশ্বব্যাপী গাজার মানবিক সংকট নিয়ে নতুন করে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। যা অনেকের মনে নাড়া দিয়েছে।
জ্যাকি চ্যান তার বক্তব্যে বলেন, ” সাম্প্রতিককালে আমি সোসিয়াল মিডিয়ায়, একটি ভিডিও দেখেছি। যেখানে একটি গাজার শিশু ইন্টারভিউ দিচ্ছে। শিশুটি যেই না কথা বলতে শুরু করল, আমার চোখে পানি এসে গেল।

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও? ” সে বলল, আমাদের এখানে শিশুরা বড় হয় না।” আমার অশ্রু ঝরতে লাগল তৎক্ষণাত। গাজার শিশুরা প্রতিদিন বোমাবর্ষণের শিকার। শিশুটি সেই কথা বলার সময় তার মুখে কোনো দুঃখ ছিল না।”
তাকে দেখে মনে হচ্ছে, এগুলো এখন স্বাভাবিক। তারপর জ্যাকি চ্যান বলেন, ” তাই দেখুন, বৃদ্ধ হয়ে ওঠা এক ধরনের সুখ। যা গাজার বেশিরভাগ শিশুর ভাগ্যে জোটে না। কিন্তু আপনি, আমি সহ অনেকে সেই সৌভাগ্য পেয়েছি। ”
ভিডিও ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স এ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কোটি কোটি মানুষ এটি শেয়ার করেছেন এবং গাজার শিশুদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। অনেকে এটিকে গাজার চলমান সংকটের একটি হৃদয়বিদারক সাক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।

জ্যাকি চ্যান যে ভিডিওটির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি গাজার একটি শিশুর ইন্টারভিউ। এই ক্লিপটি ইতিপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। শিশুটিকে যখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন সে নির্বিকার মুখে বলে যে গাজায় শিশুরা বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পায় না। কারণ প্রতিদিনের বোমাবর্ষণ এবং সহিংসতার কারণে তাদের জীবন অনিশ্চিত।
এই কথাগুলো বিশ্বের অনেক কে নাড়া দিয়েছে, এবং জ্যাকি চ্যানের মতো একজন বিখ্যাত ব্যক্তির মুখে এটি শুনে তার প্রভাব আরও বেড়েছে। জ্যাকি চ্যানের এই বক্তব্য শুনে, অনেকে তার সাহসের প্রশংসা করেছেন।
মিডল ইস্ট আই-এর মতো মিডিয়া আউটলেট এটি শেয়ার করে লিখেছে, শিশুটি কথা বলতে না বলতেই আমি কাঁদতে শুরু করেছি।
এই ঘটনা গাজার চলমান ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের মানবিক দিকটি আবারও সামনে এনেছে। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুসারে, গাজায় হাজার হাজার শিশু যুদ্ধের শিকার হয়েছে, এবং অনেকের শৈশব স্বপ্নহীন হয়ে পড়েছে।

জ্যাকি চ্যান শুধু অ্যাকশন হিরো নন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কাজের সাথে যুক্ত। ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন দুর্যোগে সাহায্য করেছেন। এবার গাজার শিশুদের প্রতি তার এই আবেগ অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে।
এই বক্তব্য বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিকার নিরীহ শিশুরা। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও মনোযোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে।
অনেকে বলছে, এভাবে প্রত্যেক তারকারা যদি অসহায় শিশুদের পাশে দাড়ায়। তাদের ওপর হওয়া অত্যাচার সম্পর্কে প্রতিবাদ করে, তাহলে হয়তো গাজার শিশুদের দুর্দশা অনেক মানুষের কাছে পৌছাবে। বিশেষ করে মুসলিম সেলিব্রিটিরা।
এখনো ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের বর্বরতা কায়েম আছে, কিন্তু আমরা তাদের ভুলে গেছি। ফিলিস্তিনের এ-সব শিশুদের দাবি, কোথায় আরবেরা। তারা কি আমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়। আমাদের আরবদের দরকার নেই। আল্লাহও আমাদের জন্য যথেষ্ট।
Source : international News agencies & Special correspondent


